|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজনীতিসচেতন এবং মুসলিম সমাজের ঝড়োপাখি হিসাবে পরিচিত কবি বে-নজীর আহমদ ১৯০৩ সালের ২৯ অক্টোবর বর্তমান নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ধানুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সাহস ও উদারতা। তিনি ছিলেন একাধারে একজন কবি, রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিক। তরুণ বয়সে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে গ্রেফতার হন। পরবর্তী জীবনে তিনি সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করেন। বে-নজীর আহমদের সাংবাদিক জীবন শুরু হয় মাসিক সাহিত্যপত্র নওরোজ (১৯২৭) সম্পাদনা ও প্রকাশনার মাধ্যমে। পরে তিনি দৈনিক আজাদ ও দৈনিক নবযুগ (১৯৪১) পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।
সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে বে-নজীর আহমদ ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রীতির অনুসারী। তবে তার রচনার মূল সুর ছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদ। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে কবিতা ‘বন্দীর বাঁশী’, ‘বৈশাখী’ এবং প্রবন্ধ ‘ইসলাম ও কম্যুনিজম’ অন্যতম। তার অন্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো : ‘আশ্চর্য আর আশ্চর্য’, ‘কমলমণি’, ‘কোরানের গল্প’ ইত্যাদি। তিনি বেশকিছু গান ও গজল রচনা করেছেন। তার বিভিন্ন লেখা বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হয়।
ছাত্রাবস্থায় তার কবিতা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। তরুণ বয়সে তিনি কবিরূপে আত্মপ্রকাশ করেন ‘বন্দীর বাঁশী’ দিয়ে। নবীন কবিকে অভিনন্দন জানান কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও সাংবাদিক আবুল কালাম শামসুদ্দিন। ‘বন্দীর বাশী’তে নজরুলের বিদ্রোহী ও বিপ্লবী চেতনার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। স্বয়ং কবিও এটি স্বীকার করেছেন। ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্তে’ নজরুল অনুসারী কবি হিসাবে বে-নজীর আহমদকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফরাসি মনীষী রুশোর ‘স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার, তবু সর্বত্রই সে শৃঙ্খলিত’-এ ভাবসত্যের ওপরেই তার ‘বন্দীর বাঁশী’র মূল বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত।
কবি বে-নজীর আহমদ ছিলেন ‘জীবনের জন্য শিল্প’ নীতিতে বিশ্বাসী। বিশ্বযুদ্ধ ও মন্বন্তর তার কবিতায় প্রভাব ফেলেছে। বিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধের চিত্র উঠে এসেছে ‘আমার সাগরে জেগেছে উর্মি’ ও ‘মৃত্যুর নিশীথ শেষে’ কবিতায়। কবি ভীষণভাবে আহত হয়েছেন মন্বন্তরের (চল্লিশের দশকের দুর্ভিক্ষ) অভিঘাতে। এর প্রকাশ ঘটেছে তার ‘কংকাল’ কবিতায়।
কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য বে-নজীর আহমদ ১৯৬৪ সালে লাভ করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৭৯ সালে একুশে পদক। ১৯৮৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।
