Logo
Logo
×

স্মরণীয়-বরণীয়

হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী

Icon

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল ছিল হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৬৬ সালের ১৫ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরীর জন্ম ১৯০৬ সালে ফেনীর গুথুমা গ্রামে। তার বাবার নাম মুহাম্মদ নুরুল্লাহ চৌধুরী। আড়াই বছর বয়সে হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী পিতৃহীন হন। মাতামহ খান বাহাদুর আবদুল আজিজের চট্টগ্রামের বাড়িতে তার শৈশব ও কৈশোর কাটে। তিনি চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএসসি এবং কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। ইসলামিয়া কলেজে তিনি ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন।

১৯৩২ সালে হবীবুল্লাহ বাহার ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু মাস্টারদা সূর্যসেনের বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। ১৯৩৩ সালে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত হন। এ সময় তিনি বুলবুল নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন। হবীবুল্লাহ বাহার ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৩ সালে পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৪ সালে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ওই বছর বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্যপদ লাভ করেন। তিনি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন (১৯৪৫-৪৬)। ১৯৪৬ সালে তিনি ফেনীর পরশুরাম নির্বাচনি এলাকা থেকে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। এ সময় তার পরিচালিত মশক নিধন অভিযান সুনাম অর্জন করেছিল। ১৯৪৯ ও ১৯৫০ সালের দিকে রোম, কায়রো ও জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন। জেনেভা সম্মেলনে তিনি সভাপতিত্ব করেছেন। ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৫৩ সালে হবীবুল্লাহ বাহার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন এবং রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি সাহিত্যচর্চা ও সমাজকর্মে নিয়োজিত ছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থ পাকিস্তান, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ওমর ফারুক, আমীর আলী।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম