Logo
Logo
×

স্মরণীয়-বরণীয়

আহসান হাবীব

Icon

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খ্যাতিমান কবি ও সাংবাদিক আহসান হাবীব ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হামিজুদ্দীন হাওলাদার এবং মাতার নাম জমিলা খাতুন। আহসান হাবীব পিরোজপুর থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৫) পাশ করে কিছুদিন বিএম কলেজে আইএ ক্লাসে অধ্যয়ন করেন। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে কলকাতায় গিয়ে সাংবাদিকতার পেশা গ্রহণ করেন এবং আজীবন ওই পেশাতেই নিয়োজিত ছিলেন। কলকাতায় তিনি তকবীর (১৯৩৭), বুলবুল (১৯৩৭-৩৮) ও সওগাত (১৯৩৯-৪৩) পত্রিকায় কাজ করেন। কয়েক বছর (১৯৪৩-৪৮) তিনি আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসাবেও কাজ করেছেন।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি বিভিন্ন সময়ে আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক, ইত্তেহাদ ইত্যাদি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি দৈনিক বাংলার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

আহসান হাবীব ছিলেন চল্লিশের দশকের অন্যতম সেরা আধুনিক কবি। কাব্যগ্রন্থ, বড়দের উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটদের ছড়া ও কবিতার বই সব মিলিয়ে আহসান হাবীবের বইয়ের সংখ্যা ২৫। তার প্রথম কবিতার বই ‘রাত্রিশেষ’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো-ছায়াহরিণ (১৯৬২), সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দুহাতে দু আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫) ইতাদি। তার দুটি উপন্যাস হলো অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) ও রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)। শিশুতোষ গ্রন্থ : জ্যোৎস্না রাতের গল্প, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭), ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮) ইত্যাদি।

বাংলা ভাষা সাহিত্যে অবদানের জন্য কবি আহসান হাবীবকে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৪ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ইউনেসকো সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদকসহ আরও নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই কবি আহসান হাবীব মৃত্যুবরণ করেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম