‘এই মনে করেন, ভাল্লাগে খুশিতে ঠ্যালায় ঘোরতে’ এলো কীভাবে?

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: ফেসবুক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েক দিন ধরে ভাইরাল যে কথাটি তা হলো, এই মনে করেন- ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে।

ফেসবুকে ঝড় তুলেছে কথাটি। নিউজ ফিডগুলো ছেয়ে গেছে এই একটি কথাই। স্যাটায়ারধর্মী পোস্ট দিচ্ছেন অনেকে।

অনেকেই এর পেছনের গল্পটি না জেনেই স্ট্যাটাস আকারে কথাটি লিখছেন। বিষয়টি নিয়ে মজা করতে বাদ যাননি ফেসবুক সেলিব্রেটিরাও।

টুইটারেও এটি লেখার ব্যাপকতা দেখা গেছে।

নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে সোলায়মান সুখন লিখেছেন-

ভাই চাকরিবাকরি নিয়ে তো ভালোই আছেন, এর মধ্যে আবার মোটিভেশনাল স্পিচ কেন দেন?
আমি: এই মনে করেন- ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে।
 
এভাবে যে কোনো বিষয়ের সঙ্গেই মিশে যাচ্ছে কথাটি।

পদ্মা নদীর মাঝি কালজয়ী উপন্যাসের চরিত্র নিয়ে ফারিয়া হোসেইন ফেসবুকে লিখেছেন-
-আমারে নিবা মাঝি লগে? ক্যান?
: এই ধরো থাকতে ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে।

বিয়ে কেন করেছেন যে বিষয়ে মুশফিক লিখেছেন-
মানুষ বিয়ে কেন করে?
:এই মনে করেন ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে  

স্কুলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসে এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন-
নবীনবরণে কেন আসছো?
: এই মনে করেন- ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে!

সানিয়া নামের এক ফেসবুক ইউজার এ বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না।

তাই বলে তিনিই বা বাদ যাবেন কেন।

তিনি লিখেছেন- সবাই এত খুশিতে ঠ্যালায় ঘোরতে টাইপ স্ট্যাটাস দিতেসে কেন?
উত্তর: এই মনে করেন, ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে...

কথাটি এ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতই জনপ্রিয় যে, এ নিয়ে অনেকেই ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব ও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

কয়েকটি স্যাটায়ার পোস্ট:

স্ট্যাটাসগুলো বিবিসি বাংলা থেকে সংগৃহীত

কথাটি নিয়ে রম্য লিখেছেন অনেকে। সেই রম্য থেকে রেহাই পাননি অনেক ঐতিহাসিক বিজ্ঞানী, কবি-সাহিত্যিক ও দার্শনিকরা।

তাদের কীর্তিতেও ফটোশপ করে লেখা হচ্ছে এ কথাটি।

বাদ যাননি কবি নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, ইবনে বতুতা, কলম্বাসের মতো কীর্তিমানরাও।

কবি নজরুলের বিখ্যাত সংকল্প কবিতা নিয়ে স্যাটায়ার করা হয়েছে এভাবে-

মানুষ কেন যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে ঘুরে?
কবি নজরুল: এই মনে করেন- ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে...

ছবি: eআরকি থেকে সংগৃহীত

সংসার ফেলে এমন বজরা বজরায় থাকেন কেন?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: এই মনে করেন- ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে...

ছবি: eআরকি থেকে সংগৃহীত

এত কিছু থাকতে আপনি আমেরিকা আবিষ্কার করলেন কেন?

কলম্বাস: এই মনে করেন- ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে....

ছবি: eআরকি থেকে সংগৃহীত

ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে কেন?
আর্নেস্ট রাদারফোর্ড: এই মনে করেন- ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে...

রসিকতা করা হয়েছে, ফুটবলের নেইমার ও স্পিন বলার শেন ওয়ার্নকে নিয়েও-

আপনি খেলার সময় অকারণে মাঠে এভাবে পল্টি খান কেন?
নেইমার: এই মনে করেন- ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে...

আপনার করা বল লেগ সাইডে ফেলা বল অফ সাইডে চলে যায় কেন?
শেন ওয়ার্ন: এই মনে করেন- ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে...

ছবি: eআরকি থেকে সংগৃহীত

এভাবে দেশি-বিদেশি অনেক তারকার সঙ্গে কথাটি মিশিয়ে স্যাটায়ার করছেন নেটিজেনরা।

তবে ফেসবুকে ভাইরাল এ কথাটির উৎপত্তির ইতিহাস হয়তো অনেকেরই জানা নেই।
   
মূলত কথাটি গ্রামবাংলার এক সহজ-সরল নারীর মুখে প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল কোনো এক ভোটকেন্দ্রে।

অনলাইনে সেই ভিডিওটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা গেছে- একটি নির্বাচনী কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন নারী ভোটার।

অথচ তারা প্রত্যেকেই ভোট দিয়েছেন। চিহ্ন হিসেবে হাতে কালিও লাগিয়ে দিয়েছেন পোলিং এজেন্ট।

তবু এসব নারী ওই কেন্দ্রেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন।

এ সময় টিভি সাংবাদিক ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো দুই নারীর কাছে জানতে চান- একবার ভোট দেয়ার পরও তারা কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?

এ ব্যাপারে একজন জানান, তার এখানে থাকতে খুব ভালো লাগছে, তাই শীত উপেক্ষা করেও দাঁড়িয়ে আছেন।

ঠিক তার পরেরজন ওই সাংবাদিককে জবাব দেন- এই মনে করেন ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে...।

এই ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর রশ্মি সিদ্দিকা ও আশনা সিদ্দিকা নামের দুই বোন এ নিয়ে টিকটকে একটি ভিডিও বানায়। এর পর থেকেই বক্তব্যটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ফেসবুকে অনেকে নানান প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এই লাইনটি ব্যবহার করে স্ট্যাটাস দিতে থাকেন।

জানা গেছে, ভিডিওটি সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নয়। এটি তার আগের নির্বাচনে করা সাংবাদিকের একটি ভিডিও রিপোর্ট।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ঢাকার-৫ আসনের দনিয়া একে হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ভোটের চিত্র নিয়ে খবর সংগ্রহ করছিলেন একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক মাহবুব সৈকত।

রিপোর্টটি নিয়ে এতো বছর পর এইরকম আলোচনা হবে তা কখনও ভাবনায় আসেনি ওই সাংবাদিকের।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মাহবুব সৈকত জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পাঁচ বছর পর এর একটি অংশ নিয়ে এতোটা আলোচনা হবে তা চিন্তাও করতে পারিনি।

খবরটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বা নেতিবাচক না ভাবতে অনুরোধ করেন মাহবুব সৈকত।

বস্তুনিষ্ঠ আর প্রবাহমান ঘটনাকে তুলে ধরাই একজন রিপোর্টারের কাজ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি সেটাই করেছি। এর পেছনে আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।

তবে ওই প্রতিবেদনটি এখন মূখ্য না হয়ে ওই নারীর সাংবাদিককে দেয়া প্রতিউত্তরটাই বেশ আলোচনায় রয়েছে এখন।

দেখুন সেই ভিডিওটি: