মারজুক রাসেলকে নিয়ে আফজারের কটাক্ষ, নাখোশ ভক্তরা
jugantor
মারজুক রাসেলকে নিয়ে আফজারের কটাক্ষ, নাখোশ ভক্তরা

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩২:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

আফজার হোসেন ও মারজুক রাসেল

এবারের বইমেলায় সর্বোচ্চ বিক্রির তালিকায় রয়েছে গীতিকার ও অভিনেতা মারজুক রাসেলের কবিতার সংকলন ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’।

বইটি মেলায় আসার পর থেকেই তা কিনতে ক্রেতাদের মধ্যে হুলস্থূল সব কাণ্ড ঘটছে। ইতিমধ্যে ১০ হাজারের বেশি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে এর প্রকাশনী সংস্থা।

প্রায় প্রতিদিনই লাইনে দাঁড়িয়ে বইটি কিনতে দেখা যাচ্ছে কবিতাপ্রেমীদের। বিশেষ করে মারজুক রাসেলের ভক্তদের মাঝে বইটি নিয়ে বেশ হুড়োহুড়ি অবস্থা। তারা বইটি নিয়ে মাতামাতিও করছেন বেশ।

বইয়ের এত কাটতি ও বেশি মাতামাতির বিষয়টি অনেকের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মারজুক রাসেলের সমালোচনায় মেতেছেন কেউ কেউ।

তাদের মধ্যে লেখক-কবিরাও রয়েছেন।

তবে এসব সমালোচনাকারীর সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন লেখক ও শিক্ষক আজফার হোসেন। মারজুক রাসেলকে তাচ্ছিল্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

রোববার তিনি নিজের ফেসবুকে লেখেন– ‘বেয়াদপি মাফ করবেন। অজ্ঞতাও মাফ করবেন (অজ্ঞ তো বটেই)। কিন্তু এই মারজুক রাসেল কেডায় আসলে?’

লেখক ও শিক্ষক আজফার হোসেনের এমন আঞ্চলিক মিশ্রিত স্ট্যাটাসে অবাক হয়েছেন অনেকে। যারা রাসেলকে পছন্দ করেন না, তারাও আফজার হোসেনের এমন পোস্ট মেনে নিতে পারছেন না।

এদিকে মারজুকের ভক্তরা শিক্ষক আফজার হোসেনের এমন স্ট্যাটাসের তীব্র প্রতিবাদ করে তাকে একহাত নিচ্ছেন।

অনেকেই আফজার হোসেন কে বলে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন।

সুপরিচিত ব্লগার একেএম ওয়াহিদুজ্জামান লিখেছেন– ‘উত্তর- আধুনিক কবি এবং অভিনেতা, স্যার।’

সাপ্তাহিক এই সময়ের সহযোগী সম্পাদক সকৃত নোমান লিখেছেন, ‘মারজুক রাসেল আগে কবি, তারপর গীতিকার, তার পর অভিনেতা। তিনি যাপনও করেন কবিজীবন। এই তথ্যগুলো শ্রদ্ধেয় আজফার হোসেন যে কাউকে ফোন করে জেনে নিতে পারতেন। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানতে চাইলেন। এটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। পোস্ট দিয়ে তিনি জানতে চাইতেই পারেন। কিন্তু তার জানতে চাওয়ার মধ্যে বিদ্রূপ স্পষ্ট।’

আফজার হোসেনের এ মন্তব্যকে ভালোভাবে নেননি খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও। এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্টে কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, মারজুক রাসেল একজন কবি, গীতিকার, মডেল ও অভিনেতা। ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ (চলচ্চিত্র)-এর মাধ্যমে অভিনয়ের সূচনা করেছিলেন এবং সেই সময় চলচ্চিত্রটি দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে। জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী জেমসের অনেক কালজয়ী গানের গীতিকার তিনি।

আইয়ুব বাচ্চুর ‘আমি তো প্রেমে পড়ি নি’, জেমসের ‘লেইস ফিতা লেইস, ‘মীরা বাই’, ‘পত্র দিও’, পান্থ কানাইয়ের ‘ঈশান কোনের বায়ু’ ও আসিফ আকবরের ‘আমার পাগলা ঘোড়ারে’, হাবীব ও ন্যান্সির ‘দ্বিধা (বাহির বলে দূরে থাকুক)’ এমন অনেক জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা মারজুক রাসেল।

বহু টেলিভিশন নাটক ও অসংখ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে মারজুক রাসেলকে। মারজুক একাধিক সংগীত ভিডিওতে কাজ করেছেন। যেমন- ঘুড়ি তুমি কার আকাশে উড়ো।

আর সেই মারজুক রাসেলকে চেনেন না বলে লেখক আফজার হোসেনের এমন ফেসবুক পোস্টের সমালোচনার ঝড় তুলেছেন বইপ্রেমীরা।

মারজুক রাসেলকে নিয়ে আফজারের কটাক্ষ, নাখোশ ভক্তরা

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আফজার হোসেন ও মারজুক রাসেল
আফজার হোসেন ও মারজুক রাসেল। ছবি: ফেসবুক

এবারের বইমেলায় সর্বোচ্চ বিক্রির তালিকায় রয়েছে গীতিকার ও অভিনেতা মারজুক রাসেলের কবিতার সংকলন ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’।

বইটি মেলায় আসার পর থেকেই তা কিনতে ক্রেতাদের মধ্যে হুলস্থূল সব কাণ্ড ঘটছে। ইতিমধ্যে ১০ হাজারের বেশি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে এর প্রকাশনী সংস্থা।

প্রায় প্রতিদিনই লাইনে দাঁড়িয়ে বইটি কিনতে দেখা যাচ্ছে কবিতাপ্রেমীদের। বিশেষ করে মারজুক রাসেলের ভক্তদের মাঝে বইটি নিয়ে বেশ হুড়োহুড়ি অবস্থা। তারা বইটি নিয়ে মাতামাতিও করছেন বেশ।

বইয়ের এত কাটতি ও বেশি মাতামাতির বিষয়টি অনেকের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মারজুক রাসেলের সমালোচনায় মেতেছেন কেউ কেউ।

তাদের মধ্যে লেখক-কবিরাও রয়েছেন।

তবে এসব সমালোচনাকারীর সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন লেখক ও শিক্ষক আজফার হোসেন। মারজুক রাসেলকে তাচ্ছিল্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

রোববার তিনি নিজের ফেসবুকে লেখেন– ‘বেয়াদপি মাফ করবেন। অজ্ঞতাও মাফ করবেন (অজ্ঞ তো বটেই)। কিন্তু এই মারজুক রাসেল কেডায় আসলে?’

 

লেখক ও শিক্ষক আজফার হোসেনের এমন আঞ্চলিক মিশ্রিত স্ট্যাটাসে অবাক হয়েছেন অনেকে। যারা রাসেলকে পছন্দ করেন না, তারাও আফজার হোসেনের এমন পোস্ট মেনে নিতে পারছেন না।

এদিকে মারজুকের ভক্তরা শিক্ষক আফজার হোসেনের এমন স্ট্যাটাসের তীব্র প্রতিবাদ করে তাকে একহাত নিচ্ছেন।

অনেকেই আফজার হোসেন কে বলে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন।

সুপরিচিত ব্লগার একেএম ওয়াহিদুজ্জামান লিখেছেন– ‘উত্তর- আধুনিক কবি এবং অভিনেতা, স্যার।’

সাপ্তাহিক এই সময়ের সহযোগী সম্পাদক সকৃত নোমান লিখেছেন, ‘মারজুক রাসেল আগে কবি, তারপর গীতিকার, তার পর অভিনেতা। তিনি যাপনও করেন কবিজীবন। এই তথ্যগুলো শ্রদ্ধেয় আজফার হোসেন যে কাউকে ফোন করে জেনে নিতে পারতেন। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানতে চাইলেন। এটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। পোস্ট দিয়ে তিনি জানতে চাইতেই পারেন। কিন্তু তার জানতে চাওয়ার মধ্যে বিদ্রূপ স্পষ্ট।’

আফজার হোসেনের এ মন্তব্যকে ভালোভাবে নেননি খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও। এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্টে কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, মারজুক রাসেল একজন কবি, গীতিকার, মডেল ও অভিনেতা। ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ (চলচ্চিত্র)-এর মাধ্যমে অভিনয়ের সূচনা করেছিলেন এবং সেই সময় চলচ্চিত্রটি দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে। জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী জেমসের অনেক কালজয়ী গানের গীতিকার তিনি।

আইয়ুব বাচ্চুর ‘আমি তো প্রেমে পড়ি নি’,  জেমসের ‘লেইস ফিতা লেইস, ‘মীরা বাই’, ‘পত্র দিও’, পান্থ কানাইয়ের ‘ঈশান কোনের বায়ু’ ও আসিফ আকবরের ‘আমার পাগলা ঘোড়ারে’, হাবীব ও ন্যান্সির ‘দ্বিধা (বাহির বলে দূরে থাকুক)’ এমন অনেক জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা মারজুক রাসেল।

বহু টেলিভিশন নাটক ও অসংখ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে মারজুক রাসেলকে। মারজুক একাধিক সংগীত ভিডিওতে কাজ করেছেন। যেমন- ঘুড়ি তুমি কার আকাশে উড়ো।

আর সেই মারজুক রাসেলকে চেনেন না বলে লেখক আফজার হোসেনের এমন ফেসবুক পোস্টের সমালোচনার ঝড় তুলেছেন বইপ্রেমীরা।   

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা-২০২০