হুমায়ূন আহমেদের সমালোচনাকারীদের একহাত নিলেন আসিফ নজরুল
jugantor
হুমায়ূন আহমেদের সমালোচনাকারীদের একহাত নিলেন আসিফ নজরুল

  যুগান্তর ডেস্ক  

১০ এপ্রিল ২০২০, ১৪:০৮:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

শুধু তাই নয়, যারা মৃত এই ব্যক্তির নামে গিবত করে তাদেরকে ফেসবুকে আর ফলো না করার পরামর্শও দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাবির এ অধ্যাপকের ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো।

‘বিটিভিতে হুমায়ূন আহমেদের দুটো জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক দেখানো হচ্ছে। ফেসবুকে আমার একটা পোস্টে নাটক দুটো দেখতে বলেছি বলে কেউ কেউ রাগ করেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি– নাটক দেখা যে পাপ এটি তো আমার মনে হয় না। হতে পারে এটি আমার ভুল, হতে পারে এটি আসলে পাপ। কিন্তু আমার তা বুঝে আসে না। তবে কোনটি পাপ কোনটি না- এ নিয়ে কিন্তু আপনারও বিভ্রান্তি আছে।

যেমন- ফেসবুক দেখা যে পাপ এটিও কেউ কেউ ভাবেন। কিন্তু আপনারা তো ফেসবুকে লিখেই আমাকে নাটক না দেখতে বলেছেন। তার মানে তাদের মতে– আপনিও পাপ করছেন। আবার ছবি তোলাও কারও কারও মতে পাপ। কিন্তু আপনি তো আপনার প্রোফাইলে ছবি দিয়েছেন।

অনেকের মতে যে এসব পাপ তা আপনার বুঝে আসে না। ঠিক তেমনি আমার বুঝেও কিছু জিনিস আসে না। যদি কখনও আসে নাটক দেখব না।

আমার উপলব্ধি হচ্ছে– নামাজ পড়তে হবে, রোজা রাখতে হবে, দান করতে হবে, পিতামাতা, পরিবার, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। এগুলো কতটুক করি সেটি জনারণ্যে আমি বলব না। কারণ এগুলো করা হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নিজের বিবেকবোধের জন্য।কারও কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, কারও কাছে জানান দেয়ার জন্য নয়।

আমার উপলব্ধি হচ্ছে– কোনোভাবে হারাম উপার্জন করা যাবে না, হারাম আয়ে মানুষের কোনো এবাদত কবুল হয় না। আমার উপলব্ধি হচ্ছে– মিথ্যা কথা বলা যাবে না, গিবত করা যাবে না, আমানতের খিয়ানত করা যাবে না, অকারণে মানুষকে কষ্ট দেয়া যাবে না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আমার উপলব্ধি হচ্ছে, বারবার নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে- আমি কতটুকু ভালো মানুষ? নিজেকে ধিক্কার দিতে হবে, অনুশোচনা করতে হবে, ক্রমাগত আরও ভালোমানুষ হতে হবে। অন্যকে প্রশ্ন করার আমি কে? কে নামাজ পড়ল না, কে মুরতাদ, কে দোজখে যাবে, কে নাস্তিক- এটি বলার আমি কে? আপনিই বা কে? যার জবাব সে দেবে।

ভালো পথে বা ইমানের পথে আহ্বান আপনি অবশ্যই করতে পারেন, কিন্তু অন্যের গিবত করে, অন্যকে দোষারোপ করে, ধিক্কার দিয়ে নয়।

আগের পোস্টে দু’একজন বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদ নাস্তিক ছিলেন। আমার প্রশ্ন– এটি আপনি জানলেন কীভাবে? না জেনে যদি একজন মরহুম মানুষ সম্বন্ধে গিবত গান, তার শাস্তি কী আপনি জানেন? যারা এতবড় অন্যায় কথা বলেছেন, তারা আমাকে আর ফলো করবেন না আমি আশা করি।

হুমায়ূন আহমেদ আমার দেখা বহু ইসলামি লেবাসধারী মানুষের চেয়ে ভালোমানুষ ছিলেন। এ দেশে যারা ‘সমাজের বিবেক বা বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত, তাদের অধিকাংশের চেয়ে উনি অনেক বেশি বিশুদ্ধ মানুষ ছিলেন।

আরেকটি কথা। কাউকে নাস্তিক বা বিধর্মী ধরে নিয়ে আপনি ভাবতে পারেন যে, তার নাটক আপনি দেখবেন না। তা হলে আমার অনুরোধ আজ থেকে আপনি ফেসবুক দেখাও বন্ধ করেন, বন্ধ করেন কম্পিউটার ব্যবহার এবং বিজ্ঞানের আরও বহু আবিষ্কার। পারবেন? না পারলে এসব বলবেন না।

মানুষকে উপদেশ বা ধিক্কার দেয়ার আগে আমরা নিজেরা কী করি- আসুন সে প্রশ্ন করি নিজেকে। শুধু নামাজ-রোজা, কোরআন তিলাওয়াত করলেই আমাদের ধর্মপালন করা সম্পূর্ণ হয়ে যায় না।

আমাদের যদি আয় হয় একটুও মানুষ ঠকিয়ে, একটুও অন্যপথে- আমাদের কোনো এবাদত তো কবুলই হবে না। কয়জন ভাবি আমরা এভাবে? ভাবলে এত নামাজির এ দেশে এত চোর-বদমাশ কেন?

আমাকে ভালোবাসলে দোয়া করবেন। সত্যি যেন একজন খাঁটি মানুষ হতে পারি। জীবনে যেন এমন কিছু না করি যে আল্লাহর রহমত চলে যায় আমার ওপর থেকে।

সবাই ভালো থাকবেন। আমার কোনো ভুল হলে মাফ করবেন।’

হুমায়ূন আহমেদের সমালোচনাকারীদের একহাত নিলেন আসিফ নজরুল

 যুগান্তর ডেস্ক 
১০ এপ্রিল ২০২০, ০২:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

শুধু তাই নয়, যারা মৃত এই ব্যক্তির নামে গিবত করে তাদেরকে ফেসবুকে আর ফলো না করার পরামর্শও দেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার ঢাবির এ অধ্যাপকের ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো।

‘বিটিভিতে হুমায়ূন আহমেদের দুটো জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক দেখানো হচ্ছে। ফেসবুকে আমার একটা পোস্টে নাটক দুটো দেখতে বলেছি বলে কেউ কেউ রাগ করেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি– নাটক দেখা যে পাপ এটি তো আমার মনে হয় না। হতে পারে এটি আমার ভুল, হতে পারে এটি আসলে পাপ। কিন্তু আমার তা বুঝে আসে না। তবে কোনটি পাপ কোনটি না- এ নিয়ে কিন্তু আপনারও বিভ্রান্তি আছে।

যেমন- ফেসবুক দেখা যে পাপ এটিও কেউ কেউ ভাবেন। কিন্তু আপনারা তো ফেসবুকে লিখেই আমাকে নাটক না দেখতে বলেছেন। তার মানে তাদের মতে– আপনিও পাপ করছেন। আবার ছবি তোলাও কারও কারও মতে পাপ। কিন্তু আপনি তো আপনার প্রোফাইলে ছবি দিয়েছেন। 

অনেকের মতে যে এসব পাপ তা আপনার বুঝে আসে না। ঠিক তেমনি আমার বুঝেও কিছু জিনিস আসে না। যদি কখনও আসে নাটক দেখব না।

আমার উপলব্ধি হচ্ছে– নামাজ পড়তে হবে, রোজা রাখতে হবে, দান করতে হবে, পিতামাতা, পরিবার, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। এগুলো কতটুক করি সেটি জনারণ্যে আমি বলব না। কারণ এগুলো করা হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নিজের বিবেকবোধের জন্য। কারও কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, কারও কাছে জানান দেয়ার জন্য নয়।

আমার উপলব্ধি হচ্ছে– কোনোভাবে হারাম উপার্জন করা যাবে না, হারাম আয়ে মানুষের কোনো এবাদত কবুল হয় না। আমার উপলব্ধি হচ্ছে– মিথ্যা কথা বলা যাবে না, গিবত করা যাবে না, আমানতের খিয়ানত করা যাবে না, অকারণে মানুষকে কষ্ট দেয়া যাবে না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আমার উপলব্ধি হচ্ছে, বারবার নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে- আমি কতটুকু ভালো মানুষ? নিজেকে ধিক্কার দিতে হবে, অনুশোচনা করতে হবে, ক্রমাগত আরও ভালোমানুষ হতে হবে। অন্যকে প্রশ্ন করার আমি কে? কে নামাজ পড়ল না, কে মুরতাদ, কে দোজখে যাবে, কে নাস্তিক- এটি বলার আমি কে? আপনিই বা কে? যার জবাব সে দেবে।

ভালো পথে বা ইমানের পথে আহ্বান আপনি অবশ্যই করতে পারেন, কিন্তু অন্যের গিবত করে, অন্যকে দোষারোপ করে, ধিক্কার দিয়ে নয়।

আগের পোস্টে দু’একজন বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদ নাস্তিক ছিলেন। আমার প্রশ্ন– এটি আপনি জানলেন কীভাবে? না জেনে যদি একজন মরহুম মানুষ সম্বন্ধে গিবত গান, তার শাস্তি কী আপনি জানেন? যারা এতবড় অন্যায় কথা বলেছেন, তারা আমাকে আর ফলো করবেন না আমি আশা করি।

হুমায়ূন আহমেদ আমার দেখা বহু ইসলামি লেবাসধারী মানুষের চেয়ে ভালোমানুষ ছিলেন। এ দেশে যারা ‘সমাজের বিবেক বা বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত, তাদের অধিকাংশের চেয়ে উনি অনেক বেশি বিশুদ্ধ মানুষ ছিলেন।

আরেকটি কথা। কাউকে নাস্তিক বা বিধর্মী ধরে নিয়ে আপনি ভাবতে পারেন যে, তার নাটক আপনি দেখবেন না। তা হলে আমার অনুরোধ আজ থেকে আপনি ফেসবুক দেখাও বন্ধ করেন, বন্ধ করেন কম্পিউটার ব্যবহার এবং বিজ্ঞানের আরও বহু আবিষ্কার। পারবেন? না পারলে এসব বলবেন না।

মানুষকে উপদেশ বা ধিক্কার দেয়ার আগে আমরা নিজেরা কী করি- আসুন সে প্রশ্ন করি নিজেকে। শুধু নামাজ-রোজা, কোরআন তিলাওয়াত করলেই আমাদের ধর্মপালন করা সম্পূর্ণ হয়ে যায় না। 

আমাদের যদি আয় হয় একটুও মানুষ ঠকিয়ে, একটুও অন্যপথে- আমাদের কোনো এবাদত তো কবুলই হবে না। কয়জন ভাবি আমরা এভাবে? ভাবলে এত নামাজির এ দেশে এত চোর-বদমাশ কেন?

আমাকে ভালোবাসলে দোয়া করবেন। সত্যি যেন একজন খাঁটি মানুষ হতে পারি। জীবনে যেন এমন কিছু না করি যে আল্লাহর রহমত চলে যায় আমার ওপর থেকে।

সবাই ভালো থাকবেন। আমার কোনো ভুল হলে মাফ করবেন।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন