ভোলার ২০ লাখ মানুষের জন্য একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও নেই

  সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ২৫ জুন ২০২০, ২০:৪১:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

দ্বীপ জেলা ভোলার ২০ লাখ মানুষের জন্য একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও নেই। পুরো জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবস্থাও নাজুক। সাধারণ জনগণের চিকিৎসা সেবায় হাতুড়ে চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য তাই বেশি। তাদের ভুল চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন অনেক গরিব মানুষ।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মহসীন খান।

তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-

মৃত্যু কতটা নিকটে, আপনি টের করতেও পারবেন না। আমার চোখের সামনে একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি শুনুন।

আজকে সকালে এম্বুলেন্সে ড্রাইভারকে বললাম, বরিশাল যাব, কোনো কল থাকলে আমাকেও ভোলা নিয়ে যেও।

১০টায় ওর কল পেলাম। চরভূতা থেকে একজন রোগী বরিশাল মেডিকেলে যাবে, আমি বললাম, করোনা সন্দেহজনক কিনা খবর নাও। ড্রাইভার বললো, না স্যার, মাসিকের পথে রক্ত যায় অনেকদিন ধরে। আমি বললাম ঠিক আছে, যাওয়া যাবে।

হাসপাতালের সামনে থেকে এম্বুলেন্সে উঠলাম, মহিলা রোগীর সাথে তার স্বামী, বড় মেয়ে, মেয়ের জামাই ছিল। পথে কোনো সমস্যা হয়নি। ভেদুরিয়া স্পিডবোট ঘাটে গিয়ে এম্বুলেন্স থামল। রোগী নামাবে, তখন রোগীর মেয়ে ফুপিয়ে বললো, মা শ্বাস করে না।

আমি নেমে পিছনে গিয়ে রোগীকে দেখতেছি। শ্বাস নেই। পালস নেই, চোখে দেখলাম পিউপিল ফিক্সড।

এরপর বললাম, পুরানো কাগজ দেন। গাইনি বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশনে রোগের নাম লেখা, এডেনোমায়োসিস। আমি রোগীর চোখ আবার দেখলাম, তীব্র রক্তশূন্যতা, (পেপার হোয়াইট এনেমিয়া)।

জিজ্ঞেস করলাম বরিশাল নিচ্ছিলেন কেন?

তারা বলল, সকাল থেকে শ্বাসকষ্ট।

জ্বর ছিল কিনা জানতে চাইলে তারা বলল, না।

তখন বুঝলাম, এনেমিক হার্ট ফেইলিওর হয়েছে সম্ভবত।

তাদেরকে বললাম, রোগীকে লালমোহন বা ভোলা সদর হাসপাতালে না নিয়ে সরাসরি বাড়ি থেকে বরিশাল নিতে বলেছে কে?

তারা একজন হাতুড়ের নাম বলল। আমি আর কিছু বললাম না।

এনেমিক হার্ট ফেইলিওরের জরুরি চিকিৎসা বাংলাদেশের প্রতিটা উপজেলা হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তার জানে। তারা জরুরি চিকিৎসা দিয়ে এরপর জেলা হাসপাতালে রেফার্ড করে। রোগী মারা গেলেও চিকিৎসা পেয়ে মারা যায়। কিন্তু এভাবে বিনা চিকিৎসায় রোগী কেন মারা গেল?

আজ পর্যন্ত কোনো পত্রিকায় কোনো হাতুড়ে এসব জীবননাশী অপকর্মের বিরুদ্ধে নিউজ দেখেছেন?

ভোলা একটা দ্বীপ জেলা। ২০ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ নাই ভোলাতে। শুক্রবার ভোলাতে একজন এবং চরফ্যাশনে একজন, এই ২ জন হার্ট বিশেষজ্ঞ আসেন বরিশাল ও ঢাকা থেকে।

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেমন বুঝে নেন। একটা জেলায় ২০ লক্ষ মানুষের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিতে পারিনি। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চলে নন-ডাক্তার দিয়ে, তারা বিদেশি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা নেয়। আর দেশের গরিব জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তৈরির প্রক্রিয়া তারা সীমিত করে রেখেছে।

এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে একটা বৃহত্তর মুভমেন্ট দরকার।

আর ভোলার সকল লেভেলের প্রতিনিধিদের প্রতি আবেদন, আপনারা ভোলার মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আরেকটু চিন্তা করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করুন। সব ধরনের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ভোলায় নিশ্চিত করুন। ভোলাবাসী আসলেই অসহায়, তারা আসলেই সাগরের মধ্যে আছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত