যেভাবে আসলো ‘মুরাদ টাকলা’
jugantor
যেভাবে আসলো ‘মুরাদ টাকলা’

  অনলাইন ডেস্ক  

১১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪৮:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট আছে, এমন সব বাংলাদেশি কিংবা বাংলা ভাষাভাষী অন্তত একবার ‘মুরাদ টাকলা’ শব্দ অবশ্যই শুনেছেন। কিন্তু কীভাবে এলো মুরাদ টাকলা? আর ‘মুরাদ টাকলা’ শব্দটি শুনলে প্রথমেই মাথায় আসে মুরাদ নামে টাক কোনো লোকের চেহারা।

তবে মুরাদ টাকলার সঙ্গে টাক মাথার মুরাদ নামের কোনো সম্পর্ক নেই। এর মাধ্যমে ইংরেজি হরফের বিকৃত বাংলা লেখার চর্চাকে বোঝানো হয়। যারা এমন বিকৃত বাংলা কিংবা বাংলিশ/বাংরেজি লেখেন, অনেকে তাদেরকেও মুরাদ টাকলা বলে সম্বোধন করেন। অনলাইনের এই জনপ্রিয় শব্দযুগলের উৎপত্তি জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০১২ সালে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর একটি পেজ তৈরি হয়। পেজটির নাম ‘মুরাদ টাকলা’। ধারণা করা হয় পেজটিই প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করে। পরে এটি বহুল প্রচার পায়। সম্প্রতি পেজটিতে এমনই দাবি করা হয়েছে।

মতান্তরে, অন্য একটি দল দাবি করছেন, মুরাদ টাকলা শব্দটি মূলত একটি ফেসবুক কমেন্ট থেকেই সৃষ্টি।

আনুমানিক ২০১২ সালে ফেসবুকের কোনো একটি পোস্টের কমেন্ট বক্সে তর্কযুদ্ধের এক পর্যায়ে জয়ন্ত কুমার নামের এক ব্যক্তি কমেন্ট করেন, ‘Murad takla jukti dia individualized structure bal, falti pic dicos kan! Lakapora koira individualized structure bal.’

ইংরেজি হরফে ভুলভাল বানানে লেখা এই বাক্যে তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন, ‘মুরোদ থাকলে যুক্তি দিয়ে কথা বল, ফালতু পিক দিছস কেন? লেখাপড়া কইরা কথা বল।’

স্বাভাবিকভাবেই এই বাক্য নিয়ে হাসাহাসি চলতে থাকে, ছড়িয়ে পড়ে ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট।

সেই তর্কযুদ্ধে জয়ন্ত কুমার জিতেছিলেন কিনা, তা জানা যায়নি। তবে বাক্যটির ‘Murad takla’ বা ‘মুরাদ টাকলা’ শব্দযুগল ইংরেজি অক্ষরে বিকৃত বাংলা লেখার রীতি’র সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়।

ওই সময় ফোনেটিক কিবোর্ডে ব্যবহারকারীরা পরিচিত হচ্ছেন মাত্র। ফোনেটিক কিবোর্ড ব্যবহার করে বাংলা টাইপে অনেকেই তেমন দক্ষ হয়ে ওঠেননি। তাই অনলাইনে ‘মুরাদ টাকলা’ ভাষা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল অনেক, যাদের ভুলভাল ‘বাংলিশ’ লেখা অন্যদের বিনোদনের খোরাক হয়ে উঠতে থাকে।

পরের বছর ফেসবুকে ‘মুরাদ টাকলা’ নামের একটি পেজ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই পেজে অনলাইনে নানা জনের ব্যবহার করা বিভিন্ন টাকলা বাক্য (অর্থাৎ ইংরেজি হরফে ভুল বাংলা লেখা) পাঠোদ্ধার করতে দেয়া হতো। সঠিকভাবে লেখা বাংলা বাক্যকেও ‘মুরাদ টাকলা’য় রূপান্তর করতে শুরু করেন অনেকে।

এর ফলে ক্রমে ‘মুরাদ টাকলা’ শব্দযুগল এবং এর ব্যবহার অনলাইনে হাস্যরসের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়। অন্য দিকে ট্রলের শিকার হওয়ার আতঙ্কে হলেও সঠিকভাবে বাংলা টাইপ করার বিষয়ে অনেকেই সচেতন হতে থাকেন।

তবে যত যাই হোক, সম্প্রতি অনলাইনে মুরাদ নামের টেকো মাথার এক ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা যতদূর গড়িয়েছে, তাতে করে মুরাদ টাকলা শব্দযুগলের সাথে তিনিও আজীবনের জন্য জড়িয়ে যাবেন কিনা, তাই বা কে বলতে পারে।

যেভাবে আসলো ‘মুরাদ টাকলা’

 অনলাইন ডেস্ক 
১১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট আছে, এমন সব বাংলাদেশি কিংবা বাংলা ভাষাভাষী অন্তত একবার ‘মুরাদ টাকলা’ শব্দ অবশ্যই শুনেছেন। কিন্তু কীভাবে এলো মুরাদ টাকলা? আর ‘মুরাদ টাকলা’ শব্দটি শুনলে প্রথমেই মাথায় আসে মুরাদ নামে টাক কোনো লোকের চেহারা। 

তবে মুরাদ টাকলার সঙ্গে টাক মাথার মুরাদ নামের কোনো সম্পর্ক নেই। এর মাধ্যমে ইংরেজি হরফের বিকৃত বাংলা লেখার চর্চাকে বোঝানো হয়। যারা এমন বিকৃত বাংলা কিংবা বাংলিশ/বাংরেজি লেখেন, অনেকে তাদেরকেও মুরাদ টাকলা বলে সম্বোধন করেন। অনলাইনের এই জনপ্রিয় শব্দযুগলের উৎপত্তি জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০১২ সালে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর একটি পেজ তৈরি হয়। পেজটির নাম ‘মুরাদ টাকলা’। ধারণা করা হয় পেজটিই প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করে। পরে এটি বহুল প্রচার পায়। সম্প্রতি পেজটিতে এমনই দাবি করা হয়েছে।

মতান্তরে, অন্য একটি দল দাবি করছেন, মুরাদ টাকলা শব্দটি মূলত একটি ফেসবুক কমেন্ট থেকেই সৃষ্টি।

আনুমানিক ২০১২ সালে ফেসবুকের কোনো একটি পোস্টের কমেন্ট বক্সে তর্কযুদ্ধের এক পর্যায়ে জয়ন্ত কুমার নামের এক ব্যক্তি কমেন্ট করেন, ‘Murad takla jukti dia individualized structure bal, falti pic dicos kan! Lakapora koira individualized structure bal.’

ইংরেজি হরফে ভুলভাল বানানে লেখা এই বাক্যে তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন, ‘মুরোদ থাকলে যুক্তি দিয়ে কথা বল, ফালতু পিক দিছস কেন? লেখাপড়া কইরা কথা বল।’

স্বাভাবিকভাবেই এই বাক্য নিয়ে হাসাহাসি চলতে থাকে, ছড়িয়ে পড়ে ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট।

সেই তর্কযুদ্ধে জয়ন্ত কুমার জিতেছিলেন কিনা, তা জানা যায়নি। তবে বাক্যটির ‘Murad takla’ বা ‘মুরাদ টাকলা’ শব্দযুগল ইংরেজি অক্ষরে বিকৃত বাংলা লেখার রীতি’র সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়।

ওই সময় ফোনেটিক কিবোর্ডে ব্যবহারকারীরা পরিচিত হচ্ছেন মাত্র। ফোনেটিক কিবোর্ড ব্যবহার করে বাংলা টাইপে অনেকেই তেমন দক্ষ হয়ে ওঠেননি। তাই অনলাইনে ‘মুরাদ টাকলা’ ভাষা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল অনেক, যাদের ভুলভাল ‘বাংলিশ’ লেখা অন্যদের বিনোদনের খোরাক হয়ে উঠতে থাকে।

পরের বছর ফেসবুকে ‘মুরাদ টাকলা’ নামের একটি পেজ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই পেজে অনলাইনে নানা জনের ব্যবহার করা বিভিন্ন টাকলা বাক্য (অর্থাৎ ইংরেজি হরফে ভুল বাংলা লেখা) পাঠোদ্ধার করতে দেয়া হতো। সঠিকভাবে লেখা বাংলা বাক্যকেও ‘মুরাদ টাকলা’য় রূপান্তর করতে শুরু করেন অনেকে।

এর ফলে ক্রমে ‘মুরাদ টাকলা’ শব্দযুগল এবং এর ব্যবহার অনলাইনে হাস্যরসের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়। অন্য দিকে ট্রলের শিকার হওয়ার আতঙ্কে হলেও সঠিকভাবে বাংলা টাইপ করার বিষয়ে অনেকেই সচেতন হতে থাকেন।

তবে যত যাই হোক, সম্প্রতি অনলাইনে মুরাদ নামের টেকো মাথার এক ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা যতদূর গড়িয়েছে, তাতে করে মুরাদ টাকলা শব্দযুগলের সাথে তিনিও আজীবনের জন্য জড়িয়ে যাবেন কিনা, তাই বা কে বলতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন