ছাত্রলীগের সমালোচনায় তসলিমা নাসরিন

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৮, ১৪:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের সমালোচনা করেছেন ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। 

গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিতর্কিত এই লেখিকা। 

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। 

এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার পা ও মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে দেয় ছাত্রলীগের নেতারা। 

এ প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘আমাদের সময়ে আমরা ভয় পেতাম ছাত্রশিবিরকে। শিবিরের ছেলেরা ভালো মানুষ পেলেই তার রগ কাটতো, মেরেও ফেলতো।

আমাদের আস্থা ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের ওপর। এখন শুনি ছাত্রলীগের ছেলেরা কারও কোনো চলা বলা পছন্দ না হলে তার পেটে ছুরি বসিয়ে দেয়, লাঠিপেটা করে তাকে আধমরা করে ফেলে, হাতুড়ি মেরে তার পায়ের হাড়গোড় ভেঙে দেয়। এদের নাকি কোনো বিচার হয় না। 

ধর্ম এবং রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য চিরকালই বোধহয় সন্ত্রাসীর দরকার হয়।’

লেখিকার এই স্ট্যাটাসে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। 

ফাল্গুনী মজুমদার নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘বিচার কে করবে? যেখানে ধর্ম আর রাজনীতি হাত ধরে চলে সেখানে পেশীশক্তির আস্ফালন অনিবার্য।’

শফিক হাসান নামের এক ব্যক্তি বলেছেন, ‘আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, শিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যকার চরিত্রগত পার্থক্য কমে আসছে। প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে উভয়ের সন্ত্রাসী চরিত্র।’
বদিউল আলম লিখেছেন, ‘এক সময় ছাত্রলীগের আদর্শের প্রতি অকুণ্ঠ ভালবাসা ও শ্রদ্ধা ছিল। তখন তাদের ক্ষমতা ছিল না কিন্তু একটা আদর্শ ছিল। এখন ক্ষমতার বলে তাদের আদর্শ ও নীতিবোধ.. জোয়ারের জলে ভেসে গেছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘কথায় বলেনা- ‘যে লঙ্কায় যায়, সেই হয় রাবণ।’ ক্ষমতার মোহে বর্তমান নেতারা এতটাই অন্ধ যে, মনে হয় দেশটা তাদের, আর আমরা আমজনতা ভাড়াটিয়া!
সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, একটা যৌক্তিক আন্দোলনে যারা মার খাচ্ছে তারাই আবার আসামি হচ্ছে, পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে। আর যারা পুলিশের নাকের ডগায় অন্যায়ভাবে মার দিচ্ছে, মেয়েদের শ্লীলতাহানি ঘটাচ্ছে সেই সোনার ছেলেদেরকে পুলিশ গ্রেফতার না করে বরং শেলটার দিচ্ছে!
একি আজব দেশ! এসব কাণ্ড-কীর্তি দেখে ছোটবেলার একটা কবিতার কথা মনে পরে যায়-
‘এক যে ছিল মজার দেশ
সব রকমের ভাল,
রাত্তিরেতে ভেজায় রোদ
দিনে চান্দের আলো।’

আলপনা জাহান সানি নামের একজন লিখেছেন, ‘আপনি তো জানেন না। সেই ছাত্রশিবির গুলাই তো এখন ছাত্রলীগে ভিড়েছে। নামে বেনামে এইসব করে বেড়াচ্ছে, আসল ছাত্রলীগ আগের মতই নম্র ভদ্র মার্জিত আছে। দোয়া করি, ওরা যেন ভালো পোষ্টগুলি পায়।’