ছাত্রলীগের পক্ষে সাফাই গাওয়া আবদুল কাদেরকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৪৯ পিএম
আবদুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ছাত্রলীগের পক্ষে সাফাই গাওয়া গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ মনোনিত ডাকসুর ভিপি প্রার্থী আবদুল কাদেরের বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
দৈনিক আমার দেশের এক টকশোতে অংশ নিয়ে আবদুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের হাজার দোষ থাকতে পারে, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নারীদের প্রতি অনেক সহনশীল ছিল। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নেটিজেনরা নানা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।
ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত ঢাবি নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও শেয়ার দিয়ে জিহাদ এহসান নামের একজন আবদুল কাদেরের উদ্দেশে বলেন, যারা ক্ষমতার জন্য জালিমকে তার জুলুমের অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দেয়, আল্লাহ তাদের যথাযথ প্রতিদান দেউক৷
কামরুন্নাহার পলি নামের একজন মন্তব্য করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য (আবদুল কাদেরের) এত মিথ্যাচার, এরা যদি ক্ষমতা পায় তাহলে কী করবে? সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা আশা করি এটা ভেবে দেখবেন।
আফিয়াল বিন শেখ ইসমত নামের একজন বলেন, ছাত্রলীগের মেয়েদের কাছ থেকে ভোট পাওয়ার উপায় হিসাবে কাদের এটাকে গ্রহণ করেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আজাদুল ইসলাম আদনান তার ফেসবুক টাইমলাইনে বলেন, সেদিন তাহলে তন্বিদের বেধড়ক পিটিয়েছিল কি কাদেরদের ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা? ভোট পেতে আর কত নিচে নামবেন আপনি? আবার এনসিপির নেতারাও শুভ কামনাও জানায়।
ঢাবির আরেক ভিপি প্রার্থী আবদুল ওয়াহেদ বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নারীদের হ্যারাসমেন্ট জড়িত ছিল।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীরা ফ্যাসিবাদী লীগের সময়ে বিভিন্নভাবে নিপীড়িত ও হামলার শিকার হয়েছিল। তাদের নেত্রীরা পর্যন্ত নেতাদের লালসার শিকার হয়েছে যার প্রমাণ মিডিয়ায় শত শত রয়েছে।
১৫জুলাই ২০২৪ লীগ এবং ভাড়া করা টোকাই এনে যেভাবে নারীদের উপর হামলা করেছে,সেই অত্যাচার ও হামলা দেখেছিল বিশ্ববাসী,এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ঢুকেও নারী বোনদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।ফিরিস্তি যদি তুলে ধরি লিখে শেষ হবে না।
তারপরও যদি লীগকে ডিফেন্ড করে আবদুল কাদের, তাহলে সহনশীলতা কী?- তা আবদুল কাদের জানেন না। তার এহেন অপরাজনীতির নিন্দা জানাই।
ওবায়দুল কাদেরের শূন্যস্থান পূরণ করছে আবদুল কাদের এমন মন্তব্য করেছেন অন্তু মুজাহিদ নামের এক সোশ্যাল এক্টিভিস্ট। তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনে বলেন, ‘মাসুদ তুমি ভালো হয়ে যাও‘ বলা কাদেরের শূন্যস্থান পূরণে ব্যস্ত আরেক কাদের।
রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহসভাপতি আহমেদ ফেরদাউস খান বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সাংবাদিক সংগঠনে যুক্ত থাকার ফলে ছাত্রলীগ কর্তৃক ইভটিজিংয়ের অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছি। এক কথায় অসংখ্য!
সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করতো সাংবাদিকরা মনে হয় অনেক কিছু পারে। এজন্য তারা অভিযোগগুলো দিতো। যদিও কিছু করা যেতো না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতো, তাদের ইভটিজিংয়ের মাত্রা আরো বাড়তো।
তবে ছাত্রলীগ যে পরিমাণে ইভটিজিং করতো, তার ৫ শতাংশ অভিযোগও আমাদের কাছে আসতো না। তাহলে ভাবেন তাদের ইভটিজিংয়ের পরিমাণ কত ছিল। শুধু অভিযোগ নয়, নানা হয়রানি ও শ্লীলতাহানিও করতো।
এছাড়া ছাত্রলীগের ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দেয়ারও নজির আছে।
নতুন ওবায়দুল কাদের এসব মনগড়া কথা কোথা থেকে নিয়ে আসে?
কোনো ছাত্র সংগঠনের সমালোচনা করতে মিথ্যা বা অপতথ্যের আশ্রয় নেয়া যুক্তি সঙ্গত নয়। সত্য দিয়েও সমালোচনা করা যায়।
অভিনন্দন নতুন ওবায়দুল কাদের!’
