নেট বোলার হিসেবে আমার ক্যারিয়ার শুরু: ফজলে মাহমুদ

  আল-মামুন ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

ফজলে মাহমুদ
ফজলে মাহমুদ রাব্বি

জাতীয় দলের নতুন কোচ স্টিভ রোডস, দায়িত্ব নেয়ার পরপরই জানিয়েছেন, পেস বোলিংয়ে আদর্শ এমন কিছু প্লেয়ার আমার চাই। যারা লম্বাটে এবং শক্তিশালী হবে। গ্রুতগতিতে বল ছুড়তে পারবে।

উচ্চতা নিয়ে সমস্যা নেই ফজলে মাহমুদ রাব্বির। বল ছাড়ার সময় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং লম্বা রানআপে দৌড়ানো এড়াতেই পেস বোলিং ছেড়ে হয়ে গেছেন জাঁদরেল ব্যাটসম্যান।

আগামী ২০ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হচ্ছে ৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের। যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটার হয়ে ওঠাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন বরিশালের এই ক্রিকেটার। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আল-মামুন

যুগান্তর: অভিনন্দন আপনাকে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায়

ফজলে মাহমুদ: ধন্যবাদ আপনাকে।

যুগান্তর: এর আগে এশিয়া কাপের দলেও তো ছিলেন?

ফজলে মাহমুদ: হ্যাঁ, এশিয়া কাপের প্রাথমিক দলে ছিলাম।

যুগান্তর: কখন জানতে পারলেন, জিম্বাবুয়ে সিরিজে আপনি আছেন?

ফজলে মাহমুদ: সন্ধ্যার পরে জানতে পারলাম। আমি এখন বেদুরিয়া ফেরিঘাটে আছি। খুলনায় আমাদের খেলা (জাতীয় লিগ) ছিল, খুলনা থেকে খেলে পরবর্তী খেলা বরিশালের সঙ্গে। তাই বাসে বরিশাল যাচ্ছি।

যুগান্তর: কার কাছ থেকে এই এই সুসংবাদটা পেলেন?

ফজলে মাহমুদ: সুমন ভাই (হাবিবুল বাশার সুমন, জাতীয় দলের নির্বাচক) আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছেন। উনি আমাকে জানালেন। আমি ওনাকে ধন্যবাদ দিয়েছি। উনি বলেছেন, দলে সুযোগ পেয়েছ, ভালো খেলার চেষ্টা করবে। সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।

যুগান্তর: ঘরের মাঠে খেলা, জিম্বাবুয়ের মতো দুর্বল দল, আপনার লক্ষ্য কি?

ফজলে মাহমুদ: যেহেতু ঘরের মাঠে খেলা সেই অ্যাডভান্টেজ তো পাবই। যদি সুযোগ হয়, চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেয়ার। ভালো খেলাই লক্ষ্য।

যুগান্তর: ৩০ বছর বয়সে জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন, আপনার কি মনে হয় একটু দেরিতে ডাক পেলেন?

ফজলে মাহমুদ: ১৭/১৮ বছর বয়সে সুযোগ পেলে অনেক কিছু করার সুযোগ থাকে। তখন অনেক ট্যালেন্ট থাকে। তবে ট্যালেন্টের সঙ্গে অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন আছে। সেই হিসেবে বললে ঠিক আছে। তবে আরও আগে হলে ভালো হতো। তবে এখন যা অবস্থা তাতে আমার মনে হয় খেলার সুযোগ পেলে আগামী ৭-৮ বছর আরামে খেলতে পারব। যদি ইনজুরিতে না পড়ি।

যুগান্তর: কত দিন ধরে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখছেন?

ফজলে মাহমুদ: গত ১৪-১৫ বছর জাতীয় লিগের হয়ে খেলছি। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখছি জাতীয় দলে খেলার। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।

যুগান্তর: কোথায় থেকে ক্রিকেটে আপনার হাতেখড়ি?

ফজলে মাহমুদ: আমার ওইভাবে স্পেশাল কোনো কোচ ছিল না। যখন যার অধীনে খেলেছি তার কাছ থেকেই সেরাটা নেয়ার চেষ্টা করছি। বরিশালে আমার জন্ম। সেখান থেকেই ক্রিকেট খেলা শুরু করি। বড় ভাই আমাকে মাঠে নিয়ে যেতেন খেলার জন্য। সম্ভবত ২০০২-২০০৩ সালে খেলা শুরু করেছিলাম। ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমার অভিষেক হয়। তবে জাতীয় লিগ এবং প্রিমিয়ার লিগসহ নিয়মিত ক্রিকেট খেলা শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে।

যুগান্তর: কার উৎসাহে ক্রিকেটার হলেন?

ফজলে মাহমুদ: আমার পরিবারের কেউ খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। নিজের উদ্যোগেই ক্রিকেট খেলা শুরু করি।

যুগান্তর: ফুটবল, হকিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে রেখে ক্রিকেটকে কেন বেছে নেয়া?

ফজলে মাহমুদ: ছোটবেলা থেকেই আব্বা আমাকে ক্রিকেট খেলতে উৎসাহ জোগাতেন। তিনি বলতেন খেলাধুলা করতে চাইলে ক্রিকেট খেল। তারপর থেকেই মাঠের বাইরে। খেলার সঙ্গেই আছি।

যুগান্তর: ক্যারিয়ারের শুরুতে আপনার রোলটা কী ছিল?

ফজলে মাহমুদ: আসলে শুরুর দিকে আমি পেস বোলিং করতাম (হাসি)

যুগান্তর: কার উৎসাহে পেস বোলিং ছেড়ে ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন?

ফজলে মাহমুদ: আসলে কারো উৎসাহে না। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে, নেট বোলার দরকার হয় না, আমি তখন বরিশালের হয়ে নেটে বোলিং করতে গিয়েছিলাম। সম্ভবত ২০০৩ সালে। নেটে ভালো বোলিং করার সুবাদে পরের বছর বরিশাল বিভাগের হয়ে খেলার সুযোগ পাই। সেই হিসেবে বললে নেট বোলার হিসেবে আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়। আমি ছিলাম বাঁ-হাতি পেস বোলার। নেটে বোলিং করার পর ওরা বলাবলি করছিল ভালো বোলিং হচ্ছে। যে কারণে তারা আমাকে দিয়ে লম্বা সময় ধরে বোলিং করিয়েছিল। কিন্তু আমি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। পরে বললাম যে, আর কখনো পেস বোলিং করব না। সেই যে ছেড়ে দিয়েছি আর কখনো পেস বোলিং করিনি। নেটে ভালো বোলিং করার সুবাদে পরের বছর বরিশাল বিভাগের হয়ে খেলার সুযোগ পাই।

যুগান্তর: জাতীয় দল যদি আপনার পেস বোলিংটা প্রয়োজন মনে করে?

ফজলে মাহমুদ: দলের প্রয়োজনে সব কিছুই করতে পারব। হয়তো লম্বা সময় ধরে পেস বোলিং করছি না। তবে পারব না বলে কিছু নেই। অবশ্যই পারব। হয়তো কিছু দিন প্রাকটিস করতে হবে।

যুগান্তর: আপনি তাহলে পেস বোলিং ছেড়ে ব্যাটসম্যান হলেন?

ফজলে মাহমুদ: ওইটা ছিল আমার পেস বোলিং করা। তখন ব্যাটিংও করতাম। পেস বোলিং ছেড়ে দিয়ে ব্যাটিংয়ে মন দেই। ব্যাটিংটা ছিল তখন থেকে মূল টার্গেট। পেস বোলিং ছেড়ে দেয়ার পর টুকটাক স্পিন (বাঁ-হাতি) বোলিং করেছি।

যুগান্তর: এখন কি সেই স্পিনটা করা হচ্ছে?

ফজলে মাহমুদ: না, স্পিন নিয়মিত করি না। টুকটাক করছি। হয়তো কিছু উইকেটও পেয়েছি।

যুগান্তর: কিছু বলছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে আপনার ৫৫টা উইকেট আছে?

ফজলে মাহমুদ: আসলে তাই নাকি (হাসি)। আমি আসলে আমার ব্যাটিংটা দেখি, বোলিং নিয়ে তেমন চিন্তা করা হয় না। ব্যাটিংয়েই উত্তরোত্তর উন্নতি করার চেষ্টা করছি। ব্যাটসম্যান হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। রান করাই আমার লক্ষ্য।

যুগান্তর: কোন পজিশনে ব্যাট করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

ফজলে মাহমুদ: ওপেনিং থেকে ছয় নম্বর পজিশন পর্যন্ত ব্যাট করতে অভ্যস্ত। দলের প্রয়োজনে যে কোনো জায়গায় ব্যাটিং করতে প্রস্তুত।

যুগান্তর: জাতীয় দলে আপনার লক্ষ্য কী?

ফজলে মাহমুদ: জাতীয় দলে সুযোগ পেলে প্রথম লক্ষ্য থাকবে নিজের সেরাটা খেলে জায়গা তৈরি করে নেয়া। যেখানেই খেলি আমার লক্ষ্য সেরা পারফর্মার হওয়া। হয়তো অনেকে কোনো সিরিজের আগে নির্দিষ্ট করে টার্গেট করে। কিন্তু আমার টার্গেট ইনিংস বাই ইনিংস। প্রতিটি ইনিংসে ভালো করাই আমার টার্গেট। আমিও আগে টার্গেট করতাম এই সিজনে এত রান করব। এখন টার্গেট করি কোনো ইনিংসে কত বেশি রান করা যায়।

যুগান্তর: ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে কখনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন?

ফজলে মাহমুদ: আসলে আমাদের মতো মধ্যম শ্রেণির পরিবারের ছেলেদের জন্য যে কোনো কিছু করাই কষ্টের। শুরুর দিকে পরিবার থেকেও ক্রিকেট খেলার জন্য অনুমতি পাইনি। আমার বাবা ছিলেন সরকারি সমবায় অফিসার। এখন তিনি অবসরে, অনেক বয়স হয়েছে ওনার। আমরা এখন দুই ভাই তিন বোন। আমার এক ভাই মারা গেছে। আমি এখন সবার ছোট। তো পরিবার থেকে খেলার জন্য সেভাবে সাপোর্ট না পাওয়ায় স্কুল পালিয়ে গিয়ে খেলেছি। কিন্তু খেলা ছাড়তে পারি নাই।

যুগান্তর: কাকে আইডল হিসেবে মানেন?

ফজলে মাহমুদ: আমার কাছে তামিম ইকবালের খেলা ভালো লাগে। ওনার মতো হিট করতে খুব পছন্দ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter