খেলাধুলায় ‘সেকেন্ড প্লেস ফর লুজার’

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

খেলাধুলায় ‘সেকেন্ড প্লেস ফর লুজার’
খেলাধুলায় ‘সেকেন্ড প্লেস ফর লুজার’

আজ এমন একটি বিষয় জানাব যা শুধু অভিজাত খেলার কিংবদন্তিরাই সচারচার এর সঙ্গে জড়িত। মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পুঁথিগত বিদ্যা, কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড়। এটাই বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের জানা।

কিন্তু একটি বিশাল জনগোষ্ঠি রয়েছে পৃথিবী জুড়ে যারা সংগ্রাম করে চলছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরে তাঁদের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে এলিট বা অভিজাত খেলার মধ্য দিয়ে, খুব কম লোকই জানে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের কর্মকান্ড।

এমনটি ভাগ্য হয়েছে বলতে হবে আমার জীবনে। কারণ আমার ছেলে-মেয়ে টেনিসের জগতে সংগ্রাম করে চলছে প্রতিনিয়ত তাই। আজ শেয়ার করব কিছু সিক্রেট তথ্য।

আশাকরি কিছু নতুনত্বের স্বাদ মিলবে এবং যারা বা যাদের বাবা-মা প্রতিদিন এই খেলার জগতে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে স্ট্রাগোল করছে যা অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক কলহ বা কিছুটা হতাশা অথবা অনেক রাতের ঘুম হারাম করে চলছে শুধু এর সমাধান খুঁজতে গিয়ে।

তাদের প্রশ্ন কেন এমনটি হচ্ছে? শুরু করি হোসাইন বোল্টকে দিয়ে। সে যখন চীন দেশে তাঁর অন গোয়িং রানিং একটিভিটিসের সঙ্গে জড়িত; তখন তার একমাত্র খাবার মেকডোনাল্ডের চিকেন নাগাটস, অন্য কিছু না।

রাফায়েল নাডাল সে যখন টেনিস খেলে জানি না সবাই লক্ষ করেছেন কি? তাঁর দুটো পানির বোতল সে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখে খেলা যতক্ষন চলবে পানির বোতল দুটি একই ভাবে রাখবে প্রতিবার।

এসব বড় বড় খেলোয়াড়দের কিছু হ্যাবিটস যা তাঁদের কর্ম জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে তাদের পারফরমেন্সের জন্য। এসব খুবই সাধারণ বিষয় এবং সাধারণ লোকের কাছে এটা কাইন্ড অফ ফানি হতে পারে।

তবে এলিট স্পোর্টসের জগতে এটা অসাধারণ ঘটনা। এবার আসি আমার নিজের ছেলে-মেয়ের ব্যাপারে। জনাথানের বয়স যখন ১২ বছর ঠিক তখনই জেসিকা সিদ্ধান্ত নিলো যে সেও টেনিস খেলতে চায়।

প্রথমে কিছুটা দ্বিমত পোষন করেছিলাম বটে, পরে ভাবলাম হয়তবা প্রসেসটি সহজ হবে যদি দুজনেই একই খেলার জগতে থাকে। ঘটনা ঘটেছে সম্পুর্ণ উল্টা। জনাথান ভেজিটেরিয়ান, জেসিকা উল্টা।

জেসিকা খেলার মাঠে জন ম্যাকেনরোর মত, তবে কিছুটা ব্যতিক্রম তাহল জন ম্যাকেনরো ছিল লাইক আগলি উইনার এটিচিউডের, জেসিকার ফোকাস শুধু নিজের পারফর্মেন্সের ওপর।

জনাথান তার ন্যাচারাল মাইন্ডসেট রজার ফেদেরারের মত। জনাথানের রিসেন্টলি দুটো ম্যাচের বাস্তব ঘটনা সঙ্গে তার টেনিস র‍্যাকেট সম্পর্কের বর্ণনা দিয়ে শেষ করতে চাই।

টেনিস র‍্যাকেট জনাথানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার র‍্যাকেটের কোন রকম রদবদল হলে সেদিনের খেলা গেল। সদ্য সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ডেভিস কাপ খেলেছে সে তার পুরনো র‍্যাকেট দিয়ে।

বাড়িতে এসে কিনেছে নতুন র‍্যাকেট। দুইদিন প্রাকটিস করার পর সিদ্ধান্ত নিলো সে এই নতুন র‍্যাকেট দিয়ে খেলবে সুইডেনের একটি টুর্নামেন্ট ক্যাটেলা কাপ ২৫ হাজার ডলারের টুর্নামেন্টে।

আমি টিভিতে দেখি সে খেলছে তার পুরনো র‍্যাকেট দিয়ে, খেলার সময় ফোন করে আর এ বিষয় কিছু জিজ্ঞেস করিনি। জনাথান সুইজারল্যান্ডকে পরাজিত করে সুইডেনের নাশন্যাল হিরো হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং সেই ভাবেই তাকে সন্মানিত করা হয়েছে।

ভাবলাম এবার সে আপাতত এই র‍্যাকেট পরিবর্তন করবে না, সপ্তাহ না যেতেই নতুন র‍্যাকেট। কি ব্যাপার? সে বললো তার ফিলিংসে ভাল মনে হচ্ছে না তাই পরিবর্তন করে আবার এই নতুন র‍্যাকেট দিয়ে গতকাল ২৫ হাজার ডলারের খেলায় নেমেছে।

প্রথম সেটে সে জিতেছে, পরের সেটে প্রথম গেম পরাজিত হতেই শুরু হলো তার মাইন্ডসেটের পরিবর্তন। তার ফিলিংসের সঙ্গে র‍্যাকেটের অ্যাডজাস্ট হচ্ছে না। হঠাৎ মাইন্ডসেট চেন্জ, তার ফোকাস এখন খেলাতে নয়, র‍্যাকেটে।

আমি বেশ বিরক্তি বোধ করছি, বেশ আপসেট বলতে হয়। আজ সকালে তার পুরো টিমের সঙ্গে মিটিংএ বসে বিষয়টি তুলতেই তার ফিজিও থেকে শুরু করে কোচ এবং অন্যরা এক বাক্যে আমাকে বলে দিল এটাই এলিট প্লেয়ারদের চারিত্রিক গুনাগুন।

তুমি বাবা, তোমার কাজ তাকে সাপর্ট দেওয়া, তার খেলাধুলার ব্যাপারে নাক গলাবে না। এলিট স্পর্টসদের চিন্তাভাবনা এদের বিশ্বাসের ওপর, এরা কম্প্রমাইজ করতে শেখেনি। এরা সহজে পরাজিতকে স্বীকার করে না।

এরা এদের মাইন্ডসেটে জানে, সেকেন্ড প্লেস ফর লুজার। তাই তাদের ধ্যানে জ্ঞানে তারা শেখেনি পরাজয় কাকে বলে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পারফরমেন্স ১০০% না দেয় এবং তারা পরাজিত না হয়।

শিক্ষাজ্ঞনে সেকেন্ড প্লেস বলে কিছু নেই। কারণ ভালো করলে সবাই প্রথম স্থানটি দখল করতে পারে। কোটি কোটি ডলার খরচ করার পিছনে কি তাহলে এই সিক্রেট রয়েছে যা সাধারণ প্রশিক্ষণে নেই?

তাই আমাদের দৈনিক শিক্ষায় খেলাধুলার গুরুত্ব দেওয়া আশু প্রয়োজন। যাতে করে শেখার থেকে সুশিক্ষার আবির্ভাব ঘটে। আসুক না শিক্ষার্থীদের ধ্যানে ও জ্ঞানে ব্যতিক্রম কিছু হ্যাবিটস যা তারা বিশ্বাস করে।

কারণ এ ধরণের বিশ্বাসই জীবনের সমাধান দিয়ে থাকে। তাইতো দেখুন সারা বিশ্বে এলিট খেলোয়াড়রা কখনও বেকার থাকে না। লুজার খোঁজে একজিকিউশন, উইনার খোঁজে সলিউশন।

খেলাধুলোর সমন্বয়ে গড়ে উঠুক প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যাতে করে নতুন প্রজন্ম খুঁজে পায় নতুন জীবন। যে জীবনে থাকবে ভালোবাসার স্বপ্ন যে স্বপ্ন বাস্তবে মানুষই সৃষ্টি করে আর সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে।

স্বপ্ন দেখা বা কারো জন্য অপেক্ষার দীর্ঘ প্রতীক্ষা মানুষের বেঁচে থাকার অন্তরায় নয় বরং এটাই জীবন চলার অবলম্বন হোক- এমনটি প্রত্যাশায় আমি রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter