বিয়ের পর আমার অনেক বেশি উন্নতি হয়েছে: মুশফিক

  স্পোর্টস রিপোর্টার ১২ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

মুশফিকুর রহিম
মুশফিকুর রহিম

একটা সময়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি ছিল সোনার হরিণ। ডাবল সেঞ্চুরি না পাওয়ার সেই আক্ষেপ ঘুচান মুশফিকুর রহিম। সোমবার ঢাকা টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মুশফিক।

এদিন উইকেটকিপার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করে মুশফিক ছাড়িয়ে গেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং সাঙ্গাকারাদের মতো কিংবদন্তিদের। খেলা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মুশফিক।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে বলেন?

মুশফিক: আমাদের আসলে প্রথম ইনিংসের রান খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা চেয়েছি আমাদের যেন পরে আবার ব্যাট না করতে হয়। সেদিক থেকে শুধু আমি না, মমিনুলও অনেক ভাল ব্যাট করেছে। মিরাজও ভাল ব্যাট করেছে। সব মিলিয়ে ভাল লাগছে। আর ডাবল সেঞ্চুরি একা করা যায় না, বড় জুটি থাকা লাগে। আমি তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। আর যেটা বললেন, ডাবল সেঞ্চুরির পর ভাল লাগছে।

প্রশ্ন: ২০১৩ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শ্রীলংকার বিপক্ষে গল টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন। পাঁচ বছর পর ফের ডাবল?

মুশফিক: টেস্টে খুব খারাপ ছন্দে ছিলাম সেটা বলব না। হয়তো বড় রান আসেনি। কিন্তু আমি জানতাম ভাগ্য আমার পক্ষে কথা বললেই একটা ফিফটিকে বড় একটা ইনিংসে পরিণত করতে পারব, এমন অনুভূতিও ছিল। নিজের ওপর অনেক বিশ্বাস ছিল, প্রস্তুতিটা অনেক ভাল ছিল। সেদিক থেকে অবশ্যই অনেক ভাল লাগছে। কারণ ডাবল সেঞ্চুরি ইটস নট ইজি। মিরপুরের উইকেট আপনারা জানেন যে কতোটা আনপ্রেডিক্টেবল।

প্রশ্ন: ডাবল সেঞ্চুরির পর সেলিব্রেশন?

মুশফিক: এই ইনিংসটি আমি আমার স্ত্রীকে উৎসর্গ করেছি। ইনিংসটা অনেক স্পেশাল ছিল এবং ও আমাকে অনেক অনেক ইন্সপায়ার করেছে, কালকেও আমাকে অনেক ইন্সপায়ার করেছে। আর ২০১০ সালে আমার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, বিশেষ করে এই মাঠে আমার প্রথম সেঞ্চুরি। এটা আমার ক্ষেত্রে মাইলফলক ছিল। চেষ্টা থাকবে এটার ধারবাহিকতা ধরে রাখার।

প্রশ্ন: গল টেস্টর পর ঢাকা, দুইটা ডাবল সেঞ্চুরি?

মুশফিক: কোনটাকে এগিয়ে রাখাব সেই সময় আসেনি। যদি এই ম্যাচটা জিততে পারি তাহলে এটাই এগিয়ে থাকবে। কারণ আমরা গলে টেস্ট জয় করি নি, ড্র করেছি। ওটাও কঠিন ছিল। কারণ ওরা ৫০০ রানের মত করেছিল। এই ইনিংসটাকে গলের তুলনায় অনেক ভালো।

প্রশ্ন: নার্ভাস নাইনটিজ?

মুশফিক: নব্বই এর ঘরে আমার মনে হয় না এমন কেউ আছে যে, নার্ভাস ফিল না করে। তাহলে সে মনে হয় মানুষ না, ফেরেশতা। যদি খেয়াল করে দেখেন, সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার, তিনিও অনেকবার নব্বই এর ঘরে আউট হয়েছেন। যদিও আমি তার পর্যায়ে যাইনি। একজন মানুষ ব্যক্তি হিসেবে কেমন সেই সময়টায় বুঝা যায়। ওইটা কন্ট্রোলে আনার বিষয়। আর সেটাই চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন: রেকর্ডস নিয়ে যদি বলেন?

মুশফিক: আমাদের তামিম, সাকিব ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। এখন আমাদের একটা ধারা এসে গেছে যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারে। অবশ্যই ব্যাক অফ দ্য মাইন্ড এটাও ছিল যে আমি আমার জায়গায়টা আবার ফিরে পাব। আমি মনে করি এটা হেলদি কম্পিটিশন। এটা প্লেয়ারদের মাঝে সবসময় থাকা খুবই জরুরি। কারণে এতে দলের সুবিধা হয়। সেদিক থেকে অবশ্যই ভাল লেগেছে।

প্রশ্ন: সেঞ্চুরি এবং ডাবল করার পর দুই ধরণের উদযাপন?

মুশফিক: এখন পর্যন্ত আমার মিরপুরে একশ নাই। আমি খুব করে চাচ্ছিলাম যেন একশ হয়। আর আমরা এই সিরিজে পিছিয়ে আছি। সবকিছু মিলে এটার বহিঃপ্রকাশ। আর ডাবলের আগে থেকে প্ল্যান ছিল ওই জায়গায় যেতে পারলে আমার সহধর্মিনীকে উৎসর্গ করব। কারণ এটা আসলেই স্পেশাল। ওর অবদান অনেক বড়। বিয়ের পর আমার অনেক বেশি উন্নতি হয়েছে। সন্তান হওয়ার পর তো আরও বেশি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ টেস্টে চারটা ডাবল সেঞ্চুরি পেল কবে ৩০০ হবে?

মুশফিক: প্রথমে যখন ২০০ করেছি, তখন মনে হয় নাই এটা প্রথম বা আবার কবে মারব। নিজের ওপর ওরকম বিশ্বাস ছিল না। এখন এটা পাওয়ার পর আমার বিশ্বাস একটু হলেও ফিরে এসেছে এরকম আরও বড় অবদান রাখতে পারব। আমার মনে হয় আমাদের টপ অর্ডারদের কারও জন্য এটা ইম্পসিবল না। ইনশাল্লা মুমিনুলের তাড়াতাড়ি আসবে, যখন এই ম্যাজিক ফিগার পেয়ে যাবে তখন সে আরও বড় কিছু করতে পারবে।

প্রশ্ন: কিপিং নিয়ে যদি বলেন?

মুশফিক: কিপিং যেটা বলি আমাকে অনেক বেশি সাহায্য করে। এমন নয় কিপিং করলে আমি প্রতি ম্যাচেই একশ বা দুইশ করব। কিন্তু কিপিংটা একট প্রসেস এবং আমি প্রসেসে অনেক বেশি বিশ্বাসী। আমার মনে হয় এটা অনেক হেল্প কর। অনেক সময় কিপিং করে বা ব্যাটিং করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। তবে আমি চ্যালেঞ্জ উপভোগ করি।

প্রশ্ন: মিরাজের সঙ্গে ব্যাটিং?

মুশফিক: মিরাজের সঙ্গে ব্যাটিং আমি সব সময় উপভোগ করি। ও প্রাণবন্ত একজন সঙ্গী। ও খুব মজার একটা চরিত্র। ওর মতো একজন খেলোয়াড় মাঠে থাকা সব সময়ই উপভোগ্য। ও আমাকে যেভাবে বোঝাচ্ছিল মনে হচ্ছিল, ও দুইশ রানে ব্যাট করছে, আমি মাত্র ক্রিজে এসেছি। ওর সঙ্গ সব সময়ই উপভোগ্য। আমি সব সময়ই বলি, ওর মাঝে অমিত সম্ভাবনা আছে। ওর মনোযোগ আর প্রত্যয় ওর সবচেয়ে বড় ব্যাপার। ও খুব মজার ছেলে। ওর সাথে ব্যাটিং করতে আমার সব সময়ই মজা লাগে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ, ঢাকা-২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×