Logo
Logo
×
   

খেলা

প্রযুক্তির যুগেও এত বেশি বিতর্ক কেন?

Icon

দুলাল মাহমুদ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

প্রযুক্তির যুগেও এত বেশি বিতর্ক কেন?

ধারণা করা হয়েছিল, এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনা খুব একটা হবে না। এত এত আলোচিত, অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভুল সিদ্ধান্ত কমানো।

অবশ্য প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন অনেক ভুল দূর করেছে, ঠিক তেমনি তা ফুটবলীয় আবেগ কমিয়ে এটিকে আরও যান্ত্রিক করে তুলছে। তাছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির প্রয়োগে সমতা না আনতে পারায় তা সমালোচিত হচ্ছে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর), সেমি-অটোমেটেড অফসাইড, ব্যাটারিচালিত ‘স্মার্ট বল’ এর মাধ্যমে ফিফার লক্ষ্য ছিল রেফারির ভুল কমিয়ে ফুটবলকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করা। ভিএআরকে আরও পাওয়ারফুল করা হয়েছে, কর্নার/ফ্রি-কিকের আগে ফাউল, ভুল হলুদ কার্ডও রিভিউর আওতায় আনা হয়। ফিফার রেফারিং প্রধান ইতালির পিয়েরলুইজি কলিনা বলেছেন, প্রযুক্তির লক্ষ্য মানবিক ভুল কমানো।

কিন্তু যে লাউ সেই কদু। বিতর্ক থামছে না। মাঠে, গ্যালারিতে, সামাজিক মাধ্যমে ভিএআর এখন সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত ইস্যু। এর প্রয়োগ নিয়ে সমালোচনা হওয়ার প্রধান কারণ, ভিডিও পর্যালোচনার ধীরগতি, খেলাধুলার স্বাভাবিক আনন্দ ও আবেগ নষ্ট হওয়া এবং খালি চোখে বোঝা যায় না, এমন অতি সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে গোল বাতিল। এছাড়াও বিভিন্ন ম্যাচে প্রযুক্তির অসঙ্গতিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। 

এমনকি নষ্ট হয়েছে খেলার স্বাভাবিক আনন্দ ও গতি। মাঠের কোনো খেলোয়াড় যখন গোল করেন, তখন দর্শকরা বা খেলোয়াড়েরা তাৎক্ষণিক উল্লাস করতে পারেন না। ভিএআর ও স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হয়, পুরো আক্রমণভাগে কোথাও কোনো ছোটখাটো ফাউল বা নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না। এই দীর্ঘ পর্যালোচনার কারণে খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয় এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাস ম্লান হয়ে যায়। এরফলে ক্রিকেটের সঙ্গে ফুটবল খেলার ব্যবধান কমিয়ে এনেছে। 

অফসাইড নির্ধারণে ব্যবহৃত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি। একজন খেলোয়াড়ের শরীরের কোনো অংশ (যেমন জুতোর অগ্রভাগ বা চুলের সামান্য ছোঁয়া) প্রতিপক্ষের চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকলে তাকে অফসাইড দেওয়া হচ্ছে। খেলার মাঠে এ ধরনের অতি সূক্ষ্ম অফসাইড কোনো প্রভাব না ফেললেও শুধু প্রযুক্তির সূক্ষ্মতার কারণে গোল বাতিল করা হচ্ছে। অনেক সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সঠিক অ্যানিমেশন গ্রাফিকস দেখানো যায় না, যা দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে। 

ভিএআর প্রযুক্তির কারণে মাঠের রেফারির নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব খর্ব হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। মাঠের রেফারিরা অনেক সময় স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভিএআর টিমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি একই ধরনের ঘটনায় কোনো ম্যাচে ভিএআর হস্তক্ষেপ করে পেনাল্টি বা গোল বাতিল করে, আবার অন্য কোনো ম্যাচে কোনো পদক্ষেপই নেয় না। এই অসংলগ্নতার কারণে রেফারির সিদ্ধান্ত ও প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ভিএআর-এর ভুল বা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সরাসরি ম্যাচের ফল বদলে দিচ্ছে। এই ধরনের ঘটনার শিকার হওয়া দলগুলোর খেলোয়াড় ও কোচেরা প্রায়ই হতাশা প্রকাশ করেন। কখনো কখনো তারা সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। 

সর্বশেষ 'রাউন্ড অব ১৬'তে আর্জেন্টিনা-মিশরের ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। মিশর যখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, তখন মোস্তফা জিকো একটি দুর্দান্ত গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। তবে গোলটির আক্রমণের সূচনালগ্নে মাঠের একদম অন্য প্রান্তে মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পায়ে হালকা আঘাত করেছিলেন। মাঠের রেফারি সেটিকে ফাউল না দিলেও অনেক পরে ভিএআর হস্তক্ষেপ করে গোলটি বাতিল করে দেয়। ধারাভাষ্যকার ও ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠের রেফারি ঘটনাটি দেখার পরও ভিএআর-এর সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এমন ফাউল টেনে এনে গোল বাতিল করা প্রযুক্তির ক্ষমতার অপব্যবহার। এই সিদ্ধান্ত মিশরের ওপর বড় অন্যায় হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে৷ মিশরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রেফারিং-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের বিপক্ষে অভিযোগ হচ্ছে, মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার পর ভিএআর-এর পরামর্শে রেফারি প্রায় ২০ সেকেন্ড আগে মাঠের অন্য প্রান্তে হওয়া একটি সাধারণ শার্ট-টানাকে ফাউল ধরে গোলটি বাতিল করেন। আর্জেন্টিনার বক্সে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর চ্যালেঞ্জে মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ পড়ে গেলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের ঠিক আগে আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মিশরের হামদি ফাতিকে ফাউল (শার্ট টেনে ধরা) করলেও রেফারি ও ভিএআর তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন। অবশ্য অনেকেই এই অভিযোগ পাল্টা যুক্তি দিয়ে নাকচ করে দেন। 

আর এই বিতর্ক খানিকটা উসকে দিয়েছে গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি বিপজ্জনক ও মারাত্মক ফাউল করা সত্ত্বেও রেফারি তাকে কোনো কার্ড দেখাননি এবং কোনো সাধারণ ফাউল বা ভিএআর রিভিউ পর্যন্ত করেননি। এ কারণে অভিযোগ করা হচ্ছে, ফিফা ও রেফারি প্যানেল টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থে বড় তারকাদের লাল কার্ড বা নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচিয়ে রাখছে। বড় দল বা নির্দিষ্ট দলের পক্ষে ভিএআর ব্যবহার হয় বলে কারও কারও ধারণা তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও একাধিক ম্যাচ নিয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। গ্রুপ পর্বে মিশর-ইরান বাঁচা-মরার ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯৩ মিনিটে) ইরানের শোজা খলিলজাদেহ গোল করে দলকে জয়ের উল্লাসে ভাসান। এ জয় ইরানকে প্রথমবার নকআউট পর্বে নিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু 'সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি'র থ্রিডি অ্যাভাটার লাইনে দেখা যায় তিনি মাত্র এক মিলিমিটার অফসাইডে ছিলেন। প্রযুক্তির এমন অতি-সূক্ষ্ম ও যান্ত্রিক সিদ্ধান্তের কারণে গোলটি বাতিল হয় এবং ইরান বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়, যা তীব্রভাবে সমালোচিত হয়। 

গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচের ২২ মিনিটে স্কটিশ ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একটি দারুণ গোল করেন। কিন্তু ভিএআর মাঠের রেফারিকে অনফিল্ড রিভিউ করতে বলে এবং খুবই সামান্য বা 'সফট কন্টাক্ট' হওয়া সত্ত্বেও ফাউলের অজুহাতে গোলটি বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর ব্রাজিলীয় ফুটবল ফেডারেশন ভিএআর হস্তক্ষেপের মানদণ্ড নিয়ে সরাসরি ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। 

নকআউট পর্বে বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের কামারা বেলজিয়ামের টিলেমান্সের পায়ের পেছনের অংশে সামান্য স্পর্শ করেছিলেন। মাঠের রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর দীর্ঘ ৭ মিনিট ধরে ভিডিও রিভিউ করার পর রেফারিকে ডেকে পেনাল্টি দেয়। অতি ধীরগতির এই সিদ্ধান্ত ও অত্যন্ত মৃদু স্পর্শে পেনাল্টি দেওয়ার ঘটনাটি সেনেগালের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং অন্যায্য হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। 

গ্রুপ পর্বে ঘানা-ইংল্যান্ড ম্যাচে ঘানার প্রিন্স কাওয়াবেনা এডুকে বক্সের ভেতর ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এজরি কোনসা সরাসরি হাঁটুতে ল্যান্সিং ট্যাকল করে ফেলে দেন। কোনসা বলের কোনো স্পর্শ পাননি এবং এটি একটি স্পষ্ট পেনাল্টি ছিল। কিন্তু মাঠের রেফারি পেনাল্টি দেননি এবং অবাক করার বিষয় হলো, ভিএআর এই স্পষ্ট ভুলের পরও কোনো হস্তক্ষেপই করেনি। ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ ঘানা কোচ কার্লোস কুইরোজ টিপ্পনী কেটে বলেন, 'ভিএআর হয়তো তখন কফি খেতে গিয়েছিল'।

গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার জোসকো গভার্দিওল গোল করে সমতা ফেরান। তবে 'কানেক্টেড বল টেকনোলজি'র গ্রাফে দেখা যায়, বলটিতে ক্রোয়েশিয়ার স্ট্রাইকার ইগর মাতানোভিচের একটি অতি সামান্য ছোঁয়া ছিল, যার কারণে অন্য একজন ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড় অফসাইড পজিশনে চলে যান। বলটি এর মাঝে পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করলেও রেফারি সেটিকে 'ইচ্ছাকৃত খেলা' না ধরায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এ রকম আরও অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। 

ভক্তদের মতে, প্রযুক্তির গ্রাফের এমন চুলচেরা বিশ্লেষণ ফুটবল খেলার স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করছে। সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফিফা এবং রেফারিদের বিরুদ্ধে বড় দল বা তারকা খেলোয়াড়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একই দেশের রেফারি প্যানেল নিয়োগ দেওয়া নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। অবশ্য খেলায় হেরে গেলে অভিযোগ বা অজুহাতের পাল্লা সাধারণত ভারী হয়। তবে সব অভিযোগই যে অমূলক, এটাও জোর দিয়ে বলা যাবে না।

টুর্নামেন্ট চলাকালীন মাঠের সিদ্ধান্তের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের একটি বড় উদাহরণ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে অনুরোধ জানান এবং ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। নিয়ম ভেঙে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ফিফার এমন সিদ্ধান্ত রেফারিং ও পুরো টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ কারণেও অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলো অনেক বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। 

ভিএআর-এর নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত যদি 'স্পষ্ট এবং বড় ভুল' হয়, তবেই কেবল ভিডিও রেফারি হস্তক্ষেপ করতে পারেন। কিন্তু মাঠের রেফারিরা অনেক সময় ৫০-৫০ বা সাধারণ ফাউলের সিদ্ধান্তেও ভিএআর-এর ওপর নির্ভর করছেন। ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে অত্যন্ত মৃদু বা 'সফট কন্টাক্ট' হওয়া সত্ত্বেও ভিএআর রেফারিকে ডেকে গোল বাতিল করেন। অথচ ঘানার ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারের স্পষ্ট ফাউলের পরও ভিএআর নীরব ছিল। এই দ্বিমুখী নীতি রেফারিদের ওপর ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। 

ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, গোল হওয়ার ঠিক আগে আক্রমণভাগের ফাউল যাচাই করার সুযোগ ভিএআর-এর আছে। তবে রেফারিরা অনেক সময় মাঠের খেলা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর বা মাঠের অন্য প্রান্তের অতি সাধারণ ঘটনা টেনে এনে গোল বাতিল করছেন। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে মাঠের রেফারি নিজে ঘটনাটি দেখে ফাউল না দিলেও পরে অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পর একটি হালকা স্পর্শের কারণে গোল বাতিল করাকে বিশেষজ্ঞরা রেফারির সাধারণ বিচারবুদ্ধির অভাব বলে মনে করছেন। 

প্রযুক্তি শুধুমাত্র ভিডিও ফুটেজ বা ডেটা সরবরাহ করতে পারে, কিন্তু ফাউল বা পেনাল্টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি দিতে হয় মাঠের রেফারিকে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। যেহেতু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি একজন মানুষই নিচ্ছেন, তাই বিভিন্ন দেশের রেফারিদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ম্যাচ পরিচালনার ধরন এবং বাহ্যিক চাপের কারণে একই ধরনের ফাউলে ভিন্ন ভিন্ন রেফারি ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা রেফারিংকে বিতর্কিত করছে। 

ভিএআর আসার পর মাঠের রেফারিরা অনেক সময় তাৎক্ষণিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করছেন, যা তাদের মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি একটি পেনাল্টি বা ফাউল চেক করতে রেফারি ও ভিএআর টিম ৭ মিনিট পর্যন্ত সময় নিচ্ছেন। এই দীর্ঘ সিদ্ধান্তের কারণে গ্যালারিতে থাকা দর্শক ও মাঠের খেলোয়াড়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। 

বিষয়টা হচ্ছে, সমস্যা প্রযুক্তিতে নয়, সমস্যা হলো সেটি কখন এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিএআর এসেছে রেফারির ভুল কমাতে। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে ভিএআর ব্যবহার হবে, রেফারি কীভাবে সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করবেন, আর একই ধরনের ঘটনায় কেন ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত হচ্ছে, এসব নিয়েই এখন বিতর্ক। ফিফা বলছে, প্রযুক্তি রেফারির সহায়ক। কিন্তু অনেক সমর্থকের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারে এখনও যথেষ্ট ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতা আসেনি। প্রযুক্তি ফুটবলে সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য এসেছে। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা হবে, কীভাবে তা ব্যাখ্যা করা হবে এবং খেলার স্বাভাবিক আবেগ কতটা অক্ষুণ্ন থাকবে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও পুরোপুরি মেলেনি। আসল সমস্যা প্রযুক্তি নয়, এর প্রয়োগে।

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম