মেয়েদের সাফল্যকে পুঁজি করে তৃপ্তির ঢেঁকুর

  মোজাম্মেল হক চঞ্চল ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

সালতামামি

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলের শিরোপাকে পুঁজি করে নিজেদের টালমাটাল আসন পাকা করতে চাইছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তারা। সারা বছর দেশের ফুটবলের বারোটা বাজিয়ে বছরের শেষ দিকে মেয়েদের সাফল্যের উপর ভর করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন তারা। অথচ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ২১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৯৭।

ঢাকার মাঠে দায়সারভাবে খেলা চালালেও দেশব্যাপী ফুটবলের করুন দৃশ্যের অবতারনা হয়েছে। জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৮, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, স্কুল ফুটবল, জেলা লীগের কোন খবর ছিল না ২০১৭ সালে। হাপিস করে দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু কাপ ও স্বাধীনতা কাপ। ফিফার টাকায় টুর্নামেন্ট না করে পকেটস্থ করারও অনেক অভিযোগ রয়েছে বাফুফের বিরুদ্ধে। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে গলাধাক্কা খেয়েছেন পাইওনিয়ার ক্লাব কর্মকর্তা। ফুটবলের চৌদ্দটা বাজলেও মাহফুজা আক্তার কিরনকে ফিফার সর্বোচ্চ পর্ষদে পৌছে দেয়ার কাজটা ভালোভাবেই সেরেছেন কাজী সালাউদ্দিনরা।

বাংলাদেশের ফুটবল গত এক বছর ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেছে। যে ফুটবলের নামে এদেশের মানুষ একসময় পাগলের মতো ছুটে যেত। ফুটবলের বড় আসরের আকর্ষণে এ দেশের মানুষ উদ্বেলিত হয়ে উঠত, সেই দেশে আজ ফুটবল হারিয়ে যাচ্ছে।

আশির দশকের শেষ পর্যায় থেকে ফুটবলের সেই আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা আস্তে আস্তে কমে যেতে লাগল। বর্তমানে দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তাই নেই। বাস্তবতা এটাই। এক ভুটানের কাছে হেরেই বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসিত। এক বছর ফুটবল খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ফুটবলের এই মহা দুঃসময়ে ফুটবল অনুরাগীরা আজ শংকিত।

কাতার বিশ্বকাপে খেলার ঘোষণা দিয়ে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ১৬ কোটি মানুষকে বোকা বানিয়েছিলেন। এখন মেয়েদের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখিয়ে আরেকবার চাতুরতা করছেন বাফুফের কর্মকর্তারা। জাতীয় দলে ফুটবলার সরবরাহের পাইপলাইন নেই। ফুটবলের রাজনীতি, কালো টাকার প্রভাব, পাতানো খেলা আর ব্যক্তিস্বার্থ ফুটবলকে ধ্বংসের শেষ সীমানায় পৌঁছে দিয়েছে।

ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এই মেয়েগুলোর ভালো সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা ভাবেননি মাহফুজা আক্তাররা। উল্টো এই সাফল্য কাজে লাগিয়েই বাফুফে নতুন বছরের আগে ধান্দাবাজীর সমীকরণ কষছে।

অনেক ঘটা করে একাডেমি চালু করেছিল বাফুফে। সরকার ও ফিফার অনুদানের টাকা পকেটে ভরে এ বছরের শুরুতেই সেই একাডেমি বন্ধ করে দেয়া হয়। মোহামেডানের নাইজেরিয়ান কোচ এমেকা ইউজিগো ইস্যুতে জল কম ঘোলা হয়নি। পাওনা টাকার জন্য ফিফার কাছে নালিশ করেছিলেন এই নাইজেরিয়ান।

পাওনাদারদের ভীড় ছিল বাফুফের দুয়ারে। হোটেল ওয়ালা, পানি ওয়ালা, বিমান টিকিট বিক্রেতারা পাওনা টাকার জন্য প্রতি নিয়ত হাজির হয়েছে। ফুটবলারদের বাজারের টাকা বাকি পড়ায় কোচ টোটামকে গোপালগঞ্জে এক মাস আটকে রাখা হয়েছিল। সিলেটে দোকানে বাকি রেখেই রাতের আধারে চলে এসেছিলেন কোচ জিলানী। বছর জুড়েই শোকের সাগরে ভেসে ছিল ফুটবলাঙ্গণ।

শামসুল ইসলাম, আইনুল হক, অমলেশ সেন, মোতালেবের মতো ফুটবলাররা দুনিয়া ছেড়েছেন এই বছরে। যাদের অবদান দেশের ফুটবল স্মরণ করবে আজীবন। মহিলা ফুটবলার সাবিনা ইয়াসমিন মৃত্যুও নাড়া দেয়নি বাফুফেকে। এই ফুটবলারের কবরে ফুল দেয়ার মতো বাফুফের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফুটবল অঙ্গনের প্রিয় ব্যক্তিত্ব বাদল রায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য লড়াই করছেন বাফুফের এই সহ-সভাপতি। আরেক ফুটবলার মনু বাসা-হাসপাতাল করেই বছর পার করেছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×