ছেলেই এখন আমার প্রেরণা: তাসকিন আহমেদ
jugantor
ছেলেই এখন আমার প্রেরণা: তাসকিন আহমেদ

  আল-মামুন  

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৩:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ছেলে তাশফিনকে আদর করছেন তাসকিন আহমেদ।

ইনজুরি যেন তাসকিন আহমেদের নিত্যসঙ্গী। গত মার্চে শ্রীলংকায় গিয়ে পিঠে চোট, সেই চোট সেরে উঠতেই ফের বলের আঘাতে ডান হাতের আঙুলের মাঝখানে ফেটে যায়। চোট কাটিয়ে বিপিএলে অসাধারণ পারফর্ম করে নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু বিপিএলে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাম পায়ের গোড়ালিতে চোট পান। এই চোট তার সর্বনাশ হয়ে গেল।

বিপিএলে ১২ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ উইকেট শিকার করে নিউজিল্যান্ড সফরে দলে সুযোগ পাওয়া তাসকিন এখন চার দেয়ালে বন্দি। একমাত্র ছেলে তাশফিন আহমেদ রিহানের সঙ্গেই সময় কাটছে তাসকিনের। ছেলেই এখন তাসকিনের অনুপ্রেরণা। যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন দেশের অন্যতম সেরা এই পেসার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তরের স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন

যুগান্তর: কেমন আছেন? শরীরের অবস্থা কেমন?

তাসকিন: আগের থেকে এখন আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো। পুরোপুরি ফিট হতে সময় লাগবে।

যুগান্তর: আমরা কি আশা করতে পারি টেস্ট খেলতে আপনি নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন?

তাসকিন: মনে হয় না। সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। খেলার মতো ফিট হতে সময় লাগবে।

যুগান্তর: বিপিএল দিয়েই তো আপনার উঠে আসা। ২০১২ সালে চিটাগং কিংসের হয়ে হাতেগোনা কয়েকটি ম্যাচ খেলে নজর কেড়েছিলেন?

তাসকিন: জ্বী ভাই, সেই বিপিএলই ছিল আমার ক্যারিয়ারের বাঁকবদলের একটা টুর্নামেন্ট। এরপর জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছি।

বিপিএলে ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে এভাবেই সতীর্থদের কাঁধে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়েন তাসকিন আহমেদ।যুগান্তর: একের পর এক ইনজুরি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলে থেকেও খেলতে পারছেন না। এটা কতটা হতাশার?

তাসকিন: এটা আসলে দুর্ভাগ্য। যখন চোটে পড়ি তখন আমার খুব খারাপ লেগেছে। কারণ লম্বা সময় জাতীয় দলে খেলতে পারি নাই। আবার ফিটনেস ফিরে পেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলাম। ঠিক আছে, আল্লাহ ভরসা। সামনে হয়তো আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারি।

যুগান্তর: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

তাসকিন: প্রত্যাশা একটাই, বাংলাদেশ যেন ভালো খেলে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ ভালো খেলবে। আমরা যদি আমাদের সেরাটা খেলতে পারি তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে ওদের সঙ্গে জেতাটা ইজি হবে না।

যুগান্তর: ইনজুরির কারণে আপনি এবং সাকিব নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে গেলেন। অথচ ওদের মাঠে আমাদের অতীতে জয়ের রেকর্ড নেই। দুজন সেরা ক্রিকেটার ছাড়া নিউজিল্যান্ডকে মোকাবেলা করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

তাসকিন: এটা অবশ্যই কঠিন। তবে আমাদের দলে যারা আছে তাদের অনেক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তারা ক্যাপাবল। আমাদের বেস্ট ক্রিকেট খেলতে হবে।

যুগান্তর: নিউজিল্যান্ডের সাবেক তারকা পেসার এবং সময়ের অন্যতম সেরা ধারাভাষ্যকার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক ড্যানি মরিসন বলেছেন, নিউজিল্যান্ডে সফল হতে হলে পেস বোলিংয়ে ভালো করতে হবে। ওদের কন্ডিশনে পেসারদের ভালো খেলা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

তাসকিন: দলে যারা আছে তারা সবাই প্রুভ করা প্লেয়ার। অতীতেও তাদের ভালো খেলার স্মৃতি আছে। আমার বিশ্বাস তারা ভালো করবে। তবে আমার এবং সাকিব ভাইয়ের না থাকাটা সত্যিকারের দলের জন্য বড় ক্ষতি। তবে যারা আছে তারা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে নিউজিল্যান্ডে ভালো করা সম্ভব।

যুগান্তর: ভার্চুয়াল জগতে টাইগারভক্তদের অনেকেই বলাবলি করছেন, বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্বকাপ থেকে আপনাকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্রই করেছিল ভারত। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

তাসকিন: আসলে যেটা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে কথা বলে কোনো লাভ নেই। তবে ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমি খুব ফর্মেই ছিলাম। ভারতের কন্ডিশনে ভালো খেলব সেই বিশ্বাস আমার ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অতীত নিয়ে কিছু বলতে চাই না। বর্তমান নিয়েই থাকতে চাই।

যুগান্তর: সামনে আরও একটা বিশ্বকাপ। আপনার লক্ষ্য?

তাসকিন: আমার স্বপ্ন আছে জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ খেলার। এখন আল্লাহ যদি চান তহলে আমি আমার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব। ভালো খেলায় আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টাই থাকবে। বাকি সব মহান আল্লাহর ইচ্ছা।

যুগান্তর: আপনার ছেলের কী অবস্থা?

তাসকিন: মাশাআল্লাহ ভালো। ওকে দেখেই তো এখন অনুপ্রেরণা পাই। বাসায় এখন ওকে নিয়েই সময় কাটাই। ও পাশে থাকলে মনটা ভালো থাকে।

ছেলেই এখন আমার প্রেরণা: তাসকিন আহমেদ

 আল-মামুন 
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ছেলে তাশফিনকে আদর করছেন তাসকিন আহমেদ।
তাসকিন আহমেদ

ইনজুরি যেন তাসকিন আহমেদের নিত্যসঙ্গী। গত মার্চে শ্রীলংকায় গিয়ে পিঠে চোট, সেই চোট সেরে উঠতেই ফের বলের আঘাতে ডান হাতের আঙুলের মাঝখানে ফেটে যায়। চোট কাটিয়ে বিপিএলে অসাধারণ পারফর্ম করে নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু বিপিএলে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাম পায়ের গোড়ালিতে চোট পান। এই চোট তার সর্বনাশ হয়ে গেল।  

বিপিএলে ১২ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ উইকেট শিকার করে নিউজিল্যান্ড সফরে দলে সুযোগ পাওয়া তাসকিন এখন চার দেয়ালে বন্দি। একমাত্র ছেলে তাশফিন আহমেদ রিহানের সঙ্গেই সময় কাটছে তাসকিনের। ছেলেই এখন তাসকিনের অনুপ্রেরণা। যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন দেশের অন্যতম সেরা এই পেসার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তরের স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন

যুগান্তর: কেমন আছেন? শরীরের অবস্থা কেমন?

তাসকিন: আগের থেকে এখন আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো। পুরোপুরি ফিট হতে সময় লাগবে।

যুগান্তর: আমরা কি আশা করতে পারি টেস্ট খেলতে আপনি নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন?

তাসকিন: মনে হয় না। সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। খেলার মতো ফিট হতে সময় লাগবে।

যুগান্তর: বিপিএল দিয়েই তো আপনার উঠে আসা। ২০১২ সালে চিটাগং কিংসের হয়ে হাতেগোনা কয়েকটি ম্যাচ খেলে নজর কেড়েছিলেন?

তাসকিন: জ্বী ভাই, সেই বিপিএলই ছিল আমার ক্যারিয়ারের বাঁকবদলের একটা টুর্নামেন্ট। এরপর জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছি।

বিপিএলে ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে এভাবেই সতীর্থদের কাঁধে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়েন তাসকিন আহমেদ।যুগান্তর: একের পর এক ইনজুরি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলে থেকেও খেলতে পারছেন না। এটা কতটা হতাশার?

তাসকিন: এটা আসলে দুর্ভাগ্য। যখন চোটে পড়ি তখন আমার খুব খারাপ লেগেছে। কারণ লম্বা সময় জাতীয় দলে খেলতে পারি নাই। আবার ফিটনেস ফিরে পেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলাম। ঠিক আছে, আল্লাহ ভরসা। সামনে হয়তো আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারি।

যুগান্তর: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

তাসকিন: প্রত্যাশা একটাই, বাংলাদেশ যেন ভালো খেলে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ ভালো খেলবে। আমরা যদি আমাদের সেরাটা খেলতে পারি তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে ওদের সঙ্গে জেতাটা ইজি হবে না।

যুগান্তর: ইনজুরির কারণে আপনি এবং সাকিব নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে গেলেন। অথচ ওদের মাঠে আমাদের অতীতে জয়ের রেকর্ড নেই। দুজন সেরা ক্রিকেটার ছাড়া নিউজিল্যান্ডকে মোকাবেলা করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

তাসকিন: এটা অবশ্যই কঠিন। তবে আমাদের দলে যারা আছে তাদের অনেক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তারা ক্যাপাবল। আমাদের বেস্ট ক্রিকেট খেলতে হবে।

যুগান্তর: নিউজিল্যান্ডের সাবেক তারকা পেসার এবং সময়ের অন্যতম সেরা ধারাভাষ্যকার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক ড্যানি মরিসন বলেছেন, নিউজিল্যান্ডে সফল হতে হলে পেস বোলিংয়ে ভালো করতে হবে। ওদের কন্ডিশনে পেসারদের ভালো খেলা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

তাসকিন: দলে যারা আছে তারা সবাই প্রুভ করা প্লেয়ার। অতীতেও তাদের ভালো খেলার স্মৃতি আছে। আমার বিশ্বাস তারা ভালো করবে। তবে আমার এবং সাকিব ভাইয়ের না থাকাটা সত্যিকারের দলের জন্য বড় ক্ষতি। তবে যারা আছে তারা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে নিউজিল্যান্ডে ভালো করা সম্ভব।

যুগান্তর: ভার্চুয়াল জগতে টাইগারভক্তদের অনেকেই বলাবলি করছেন, বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্বকাপ থেকে আপনাকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্রই করেছিল ভারত। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

তাসকিন: আসলে যেটা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে কথা বলে কোনো লাভ নেই। তবে ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমি খুব ফর্মেই ছিলাম। ভারতের কন্ডিশনে ভালো খেলব সেই বিশ্বাস আমার ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অতীত নিয়ে কিছু বলতে চাই না। বর্তমান নিয়েই থাকতে চাই।

যুগান্তর: সামনে আরও একটা বিশ্বকাপ। আপনার লক্ষ্য?

তাসকিন: আমার স্বপ্ন আছে জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ খেলার। এখন আল্লাহ যদি চান তহলে আমি আমার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব। ভালো খেলায় আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টাই থাকবে। বাকি সব মহান আল্লাহর ইচ্ছা।

যুগান্তর: আপনার ছেলের কী অবস্থা?

তাসকিন: মাশাআল্লাহ ভালো। ওকে দেখেই তো এখন অনুপ্রেরণা পাই। বাসায় এখন ওকে নিয়েই সময় কাটাই। ও পাশে থাকলে মনটা ভালো থাকে।