বিপিএলের সাফল্যের নেপথ্যে

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ(বিপিএল)-২০১৯। এই সফলতার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষ করে দুর্দান্ত ভিডিও কাভারেজ।

সব দিক দিয়েই গেল পাঁচ আসরকে ছাড়িয়ে গেছে এবারের বিপিএল। টেনেছে গৌরবময় সমাপ্তি, যা ক্রিকেট পাগল বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অসাধারণ ভিডিও কাভারেজ ও সুনিপুণ সম্প্রচার দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব ক্রিকেটপ্রেমীর নজর কেড়েছে। এর বদৌলতে নজিরবিহীন সাফল্য পেয়েছে বিপিএলের ষষ্ঠ আসর। দর্শক সংখ্যায় বিগত আসরগুলোর সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করেছে।

বরাবর কাভারেজের বিষয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে। তবে এ আসরের বিপিএলে দায়িত্বটি নিজেদের হাতেই রেখে দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বোর্ড। তাতে পাল্টে গেছে সব। আকাশচুম্বী সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব পাবে বোর্ডও। নানা কারণে গর্ববোধ করতে পারে বিসিবি।

চলতি বছর লিগটি নানা মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিগত আসরগুলোর তুলনায় বিশ্ব ক্রিকেটের একাধিক মহাতারকার অন্তর্ভুক্তি সিজন সিক্সের গ্ল্যামার বাড়িয়েছে অনেকখানি। ধারাভাষ্য ও উপস্থাপনাতে ছিল বৈচিত্র্য। পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ছিল সম্প্রচারে। তাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। শুধু দেশীয় না, বিদেশি দর্শকরাও উপভোগ করছেন দৃষ্টিনন্দন প্রতিযোগিতা। কলাপ্রযুক্তির ব্যবহার তাতে দিয়েছে নতুনত্বের স্বাদ।

মাঠে সময়োপযোগী স্ট্যাম্প ক্যামেরা, স্পাইডার ক্যাম, ড্রোনের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী আলাদা করে বিপিএলের আবেদন তৈরি করেছে। এর সম্প্রচারে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো ছিল মুগ্ধ। ক্রিকেট জান্তারা অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে দেখেছেন ব্যাট-বলের তুমুল লড়াই।  

আকাশছোঁয়া সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, এবারের বিপিএলের ঈর্ষণীয় সাফল্যে আমি খুবই খুশি। যথার্থ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে যারা সহায়তা করেছেন, তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। দেশের ঘরোয়া লিগটির সুনাম বৃদ্ধিতে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের অকুণ্ঠ প্রশংসা করি।

তিনি বলেন, এ বছরের সাফল্যে আমি রোমাঞ্চিত ও শিহরিত। প্রতিবারই আমরা বিপিএলে উন্নত প্রযুক্তির সমাহার ঘটাতে চাই। তবে কখনও কোথাও ত্রুটি থেকে যায়। এবার নিখুঁত সার্ভিস পাওয়ায় আমরা আনন্দিত, আহ্লাদিত। তবে সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, স্টেডিয়ামে প্রচুর দর্শকের সমাগম। আমাদের আরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাঠ দরকার।

বিসিবি বস যোগ করেন, আমরা যে প্রোডাকশন ও উদ্ভাবনসমূহ ব্যবহার করেছি, সেসব নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। জিং বেইলস, স্পাইডার ক্যাম বা ড্রোন বর্ণিল সার্ভিস দিয়েছে। আমরা সবসময় ভালো করতে চেয়েছিলাম। তবে ষষ্ঠ আসরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও হাইটেক গেজেটের সদ্ব্যবহার হয়েছে। কেবল মাঠে না, টিভি দর্শকও ছিল প্রচুর। সম্প্রচার মান বাড়ায় বহির্বিশ্বে অসংখ্য ক্রিকেট সমর্থক স্বস্তিতে খেলা দেখেছেন। বিপিএল ইতিহাসে এর আগে বাইরে থেকে এমন স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাওয়া যায়নি।

শুধু ভেন্যুতে না, টেলিভিশন সেটের সামনে বসে থাকা দর্শকশ্রোতাদের মধুর অভিজ্ঞতা হয়েছে। স্ক্রিনে খেলা দেখতে তাদের চোখকে প্রশান্তি দিয়েছে। ব্যবহৃত হয়েছে অসংখ্য ক্যামেরা। স্বাভাবিকভাকেই গোটা মাঠ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ইঞ্চি পরিমাণ কিছু বাদ পড়েনি। যাবতীয় কর্মকাণ্ড সব কিছু পরিষ্কার হয়ে সামনে ভেসে উঠেছে। মনে হয়েছে, যেন গ্যালারিতে বসেই খেলা উপভোগ করছেন। মূলত এ কারণেই কোটি কোটি দর্শক টুর্নামেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থেকেছেন। সব মিলিয়ে বিপিএল হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত ও রঙিন।

বিপিএলের ম্যাচগুলো সুনিপুণ সম্প্রচারের মূলে রয়েছে রিয়াল ইম্প্যাক্ট প্রাইভেট লিমিটেড। এটি এশিয়ার নেতৃস্থানীয় টিভি প্রোডাকশন কোম্পানি। সম্প্রচারে অভূতপূর্ব সাফল্য এবং দর্শক সংখ্যায় বিপিএলের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলায় উচ্ছ্বসিত প্রতিষ্ঠানটি। এর পরিচালক রাজিব সাভারওয়াল বলেন, সবার প্রশংসা পেয়ে আমরা গর্বিত। আসছে বছর আরও কিছু উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হব। আশা করি, দর্শক বাড়বে। আরও মানুষ বিপিএলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন।

কেবল দর্শক না, বিপিএলে বিদেশি খ্যাতনামা ধারাভাষ্যকরদের নানা রঙ ও ঢঙের পারফরম্যান্স, দ্বিমুখী স্ট্যাম্প ক্যামেরা, রোবোটিক ক্যামেরা, ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস), হক-আই, হটস্পট ও স্নিকোমিটার, দ্বিমুখী আলট্রা-মোশন ক্যামেরা, বৈচিত্র্যময় গ্রাফিকস বিপিএলের জৌলুস বাড়িয়েছে বহুগুণ।