সাব্বিরের সেঞ্চুরিতে সমালোচনার কড়া জবাব

  স্পোর্টস ডেস্ক ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

সাব্বিরের সেঞ্চুরিতে সমালোচনার কড়া জবাব
দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পথে সাব্বির রহমান।এই সেঞ্চুরিই বহু কিছু জবাব।ছবি : সংগৃহীত

শৃংখলাভঙ্গের অভিযোগে ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, এক মাস আগেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলে ডাকা হয় সাব্বিরকে। এ নিয়ে বহু সমালোচনা হয়েছে।নির্বাচকদের রীতিমত কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় নির্বাচকদের।এসবের মধ্যেও এতদিন মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই ‘ব্যাডবয়’।

আজ অসাধারণ সেঞ্চুরি করে যেন সেই সমালোচনারই জবাব দিলেন মারকুটে সাব্বির। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডানেডিনে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

সতীর্থরা যখন আসা যাওয়ার মিছিলে, তখন টেলএন্ডার সাইফুদ্দিন ও মিরাজকে নিয়ে জুটি বেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এই মিডলঅর্ডার। মাঝপথে সাইফুদ্দিন আউট হয়ে গেলেও লড়ে যান সাব্বির। প্রতিপক্ষ বোলারদের তোপের মুখেও মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন ড্যাডেডিনের সবুজ ঘাসে।

সঙ্গী হিসেবে পান মিরাজকে। মিরাজ ৩৭ রানে বিদায় নেয়ার পর সঙ্গীর অভাবে সাব্বির সেঞ্চুরি বঞ্চিত হবে বলে মনে হচ্ছিল। এই সময়ে আক্রমনাত্মক খেলে ঠিকই অভীষ্ট লক্ষে পৌছেন এই হার্ডহিটার।

শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে ১০৫ বলে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।১১০ বলে ১০২ রান করে আউট হওয়ার আগে সতীর্থ টাইগারদের লড়াইয়ের মন্ত্র শিখিয়ে দিয়ে গেলেন।আর সমালোচকদের সমালোচনার জবাবও দিয়ে গেলেন সাব্বির। তার জ্বলমলে ইনিংসটি সাজানো ছিল ১২ টি চার ও দুটি ছয়ে। এতদিন পর্যন্ত সাব্বিরের সর্বোচ্চ রান ছিল ৬৫।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল একেবারে লেজেগোবরে। একে একে যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেন টপঅর্ডার-মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা। তাদের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন সাব্বির রহমান।

মাথায় পাহাড়সম রানের চাপকে জয় করে কীভাবে খেলতে হয় তা সতীর্থদের পারফর্মেন্স দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন সাব্বির। যে পিচে তামিম-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহরা উইকেট বিলিয়ে দেয়ার মিছিল করেছেন সে পিচেই কী সাবলীল ব্যাটটাই না করলেন এই তরুণ। সিঙ্গেলস-ডাবলসের পাশাপাশি তার উইলো থেকে এসেছে চার-ছক্কাও।

এ সেঞ্চুরি দিয়ে বহু কিছুর জবাবও দিলেন সাব্বির। নিউজিল্যান্ড সফরে তাকে দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। নির্বাচকদের রীতিমতো কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন তো ‘অধিনায়ক মাশরাফির চয়েজে সাব্বির দলে’ এমন কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অধিনায়কও পরে বেঁকে বসেন। তিনিও সাব্বিরকে দলে নেয়ার দায়িত্ব নিতে চাননি।

সেই সাব্বিরই নিউনিজল্যান্ড ট্যুরে ত্রাতার ভূমিকায়। এই ম্যাচে অনবদ্য সেঞ্চুরি করেন।আগের দুই ম্যাচের একটি হেসেছে তার ব্যাট।

ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভাল মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষটিতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।

আজ তৃতীয় ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের ভূমিকাতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ৩৩১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে টিম সাউথির পেস তোপে ২ রান তুলতেই তিন টপ অর্ডারকে হারায় বাংলাদেশ। তামিম ফিরলেন রানের খাতা না খুলে, ওয়ানডাউনে নামা সৌম্য সরকারও তাকে অনুসরণ করলেন।

লিটন দাসও যথারীতি ব্যর্থ, আউট হলেন ১ রানে। চারে নামা মুশফিকও দলকে টেনে নিতে পারেননি। দলীয় ৪০ ও ব্যক্তিগত ১৭ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে মুনরোর তালুতে নিজেকে সঁপে দিলেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন সাব্বির।

মাটি কামড়ে মাঠে থেকে শেষ পর্যন্ত ১১০ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি। ঝুলিতে রয়েছে ৫টি হাফসেঞ্চুরির ইনিংস।

সাব্বির এদিন ভালো সঙ্গী পেলে ম্যাচটির ফল অন্যকিছুও হতে পারত। তাকে যা সঙ্গ দেয়ার তা কিছুটা দিতে পেরেছেন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ও মিরাজ। এই দুজন করেছেন যথারীতি ৪৪ ও ৩৭ রান।

মুশফিকের বিদায়ের পর ১০ম ওভারে ব্যাট করতে নামেন হার্ডহিটার সাব্বির। চরম ধৈর্যের পরিচয় দেন। শেষ পর্যন্ত লড়ে যান এই টাইগার ব্যাটসম্যান।

অর্ধশতক করতে বল খেলেন ৫৯টি। ফিফটির পর নির্ভার ব্যাটে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। ওয়ানডে ফরম্যাটে এতদিন তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ৬৫, যা টপকে গেছেন ৩৪তম ওভারে স্যান্টনারকে মিডউইকেট দিয়ে চার মেরে।

এর পর কিছুটা ধীরলয় ব্যাটিংয়ে ছুঁয়ে ফেললেন সেই ম্যাজিক সংখ্যা। সেঞ্চুরিটি তুলে নিতে সাব্বির চার মেরেছেন ১২টি ছয় ২টি। স্ট্রাইক রেট ৯৫.২৩।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর-২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×