মেসি ম্যাজিকে ম্যানইউকে উড়িয়ে সেমিতে বার্সা

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

লিওনেল মেসি ঝলক অব্যাহত আছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে উঠলেন তিনি। নিজে করলেন জোড়া গোল। অ্যাসিস্ট করলেন ফিলিপ কুতিনহোর গোলে। খুদে জাদুকরের নৈপুণ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠলো বার্সেলোনা।  

শেষ আটের প্রথম লেগে গেল বুধবার ম্যানইউর দূর্গ থেকে ১-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছিল বার্সা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরতি পর্বে মঙ্গলবার রাতে নিজেদের ডেরায় খেলতে নেমেছিল স্বাগতিকরা। এবার প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিলেন কাতালানরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে শেষ চারের টিকেট পেয়েছেন তারা।

ম্যাচের শুরুটা ভালোই ছিল ম্যানইউর। দারুণ কম্বিনেশনে খেলা শুরু করে দলটি। ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে বার্সাও। ফলে খেলা জমে ওঠে। ১০ মিনিটে ইউনাইটেড ডি-বক্সে ফ্রেদের পায়ে লেগে পড়ে যান ইভান রাকিতিচ। এতে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ভিএআরের সাহায্যে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি।

এরপর চিত্রপটে মেসি। ১৬ মিনিটে অ্যাশলে ইয়াংয়ের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে একজনকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক শটে পোস্ট ঘেঁষে জাল খুঁজে নেন তিনি। ৪ মিনিট পর আবার ছোট ম্যাজিসিয়ান জাদু। নিজেদের সীমানায় বল হারান ফ্রেদ। সেটি ধরে খানিকটা এগিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্বল শট নেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। তাও প্রতিরোধ করতে পারেনি ডেভিড ডি হিয়া।

এ নিয়ে ছয় বছর পর ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে গোলের গেরো খুললেন মেসি। এবারের আসরে এটি তার ১০ম (সর্বোচ্চ) এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে ১১০তম গোল। চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে ৪৫তম গোল। এ অর্ধের বাকি সময়ে গোল পরিশোধে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে ম্যানইউ। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গোলমুখ খুলতে পারেননি অতিথিরা।

বিরতির পর মাঠে নেমে সেরা ছন্দে বার্সা। ছন্দময় ফুটবল উপহার দেন মেসিরা। সাফল্যও হাতেনাতে ধরা দেয়। ৬১ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে সব অনিশ্চয়তার ইতি টানেন কুতিনহো। তাতেও ছিল বার্সা প্রাণভোমরার আলতো ছোঁয়া। মাঝমাঠ থেকে তার ক্রস কাটব্যাক করেন জর্দি আলবা। বল ধরে কয়েক পা এগিয়ে ডান পায়ের দূরপাল্লার বাঁকানো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।

শেষদিকে ব্যবধান কমাতে জোর প্রচেষ্টা চালায় ম্যানইউ। বেশ কয়েকটি সুযোগ সৃষ্টি করেন রেড ডেভিলরা। তবে স্বার্থ হাসিল করতে পারেননি। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়ার বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়েন উলে গুনার সুলশারের শিষ্যরা। আর সেমির ছাড়পত্র নিয়ে বিজয়ীয় বেশে ড্রেসিংরুমে ফেরেন আর্নেস্তো ভালভার্দের ছাত্ররা।