যুগান্তরকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাহী

বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া আসলেই সারপ্রাইজড

  আল-মামুন ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ২৩:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী
আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী

এখনও আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট খেলা হয়নি আবু জায়েদ রাহীর। অথচ তার আগেই সুযোগ পেলেন বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে। তবে তরুণ রাহীর ওপরই আস্থা রাখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

নতুন এই পেসারকে বিশ্বকাপ দলে দেখে চমকে গেছে খোদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলও (আইসিসি)। এতটাই অবাক হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফায়েড পেজের কাভারে সেঁটে দিয়েছে তার ছবি।

সিলেটের ছেলে আবু জায়েদের বলে চোখে পড়ার মতো সুইং আছে। উইকেটের দুই দিকেই সুইং করাতে পারেন তিনি। ইনসুইং, আউটসুইং, রিভার্সসুইং করানোর প্রক্রিয়াটা ভালোই রপ্ত করেছেন। আর এসব কারণেই আলোচনায় না থেকেও দলে ঢুকেছেন ডানহাতি এই পেসার।

বিশ্বকাপ নিয়ে রাহীর মুখোমুখি হয় যুগান্তর। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে তার সুযোগ পাওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাসের কথা। জানিয়েছেন বিশ্বকাপ নিয়ে তার বিশেষ পরিকল্পনার কথা।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তরের স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন

যুগান্তর: প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন আপনার অনুভূতি কী?

আবু জায়েদ রাহী: অনুভূতি তো অবশ্যই ভালো। বিশ্বকাপ অনেক বড় একটা ইভেন্ট। এখানে সুযোগ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। বিশ্বকাপের আগে আমাদের আয়ারল্যান্ডে ট্যুর আছে। সেখানে ত্রিদেশীয় সিরিজের (বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ) দিকেই ফোকাস করছি। ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি জোরদার করতে চাই। ত্রিদেশীয় সিরিজের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে বিশ্বকাপটা কেমন যাবে। কতটুকু দিতে পারব।

যুগান্তর: বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার মুহূর্তটি বর্ণনা করুন?

আবু জায়েদ রাহী: একটু সারপ্রাইজড মনে হয়েছে। এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ভালো লেগেছে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই স্বপ্ন দেখছি। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে।

যুগান্তর: বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পর পরিবার এবং বন্ধু সার্কেল থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?

আবু জায়েদ রাহী: বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পর পরিবারের সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে। বন্ধু সার্কেলে যারা আছে তারাও হ্যাপি। তবে আমার বড় ভাই বলেছেন, দলে সুযোগ পেয়ে খুশি হয়ে লাভ নেই, যদি পারফর্ম করতে না পারো। বিশ্বকাপের আগে যে খেলাগুলো আছে সেখানো ভালো করো। বিশ্বকাপের জন্য যথাযথ প্রস্তুত হও।

যুগান্তর: কোনো ওয়ানডে না খেলেই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন, এ নিয়ে অনেকেই নানা কথা বলছেন, এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

আবু জায়েদ রাহী: আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার আগে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া আসলেই সারপ্রাইজড। তবে আমি এর আগে ওয়ানডে দলে ছিলাম। সবশেষ জাতীয় দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডে দলে আমি ছিলাম। কিন্তু ম্যাচ খেলা হয়নি।

যুগান্তর: আন্তর্জাতিক ওয়ানডে এবং বিশ্বকাপের পার্থক্য নিয়ে যদি বলেন?

আবু জায়েদ রাহী: বিশ্বকাপ আসলে অনেক বড় ইভেন্ট। এখানে বিশ্বের সব মানুষের ফোকাস থাকে। বিশ্বকাপে ভালো খেললে ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ হবে।

যুগান্তর: বিশেষ কোন যোগ্যতার কারণে আপনাকে নির্বাচকরা পছন্দ করেছেন বলে আপনি মনে করছেন?

আবু জায়েদ রাহী: হ্যাঁ, অবশ্যই। সুইং করার সক্ষমতা আমার আছে। বিশ্বকাপে ভালো জায়গায় বল করার চেষ্টা করব। বিশ্বকাপে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে খেলার চেষ্টা থাকবে।

যুগান্তর: বিশ্বকাপের অতীতে আসরগুলোতে অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারের উপস্থিতি দেখা গেছে। এবারও থাকবে। সাবেক বা বর্তমান সেরা ক্রিকেটাদের কারো কাছ থেকে পরামর্শ নেয়ার টার্গেট আছে কি?

আবু জায়েদ রাহী: পেস বোলার হিসেবে আমি চাইবে ইংল্যান্ডের তারকা পেস বোলার জেমস অ্যান্ডারসনের পরামর্শ নিতে। এটা আমার ইচ্ছা আছে।

যুগান্তর: বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

আবু জায়েদ রাহী: আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য হলো, ভালো জায়গায় বোলিং করে উইকেট শিকার করা।

যুগান্তর: অনেক বোলারের টার্গেট-ই থাকে বিরাট কোহলির মতো তারকা ব্যাটসম্যানের উইকেট শিকার করা। আপনারও কি এমন কোনো লক্ষ্য আছে?

আবু জায়েদ রাহী: তা তো সবাই চায়। আমারও এমন ইচ্ছা আছে। অবশ্যই থাকবে। তবে আমি যদি ভালো জায়গায় বোলিং করে ব্যাটসম্যানকে নার্ভাস করতে পারি তাহলে অবশ্যই যে কোনো তারকা ব্যাটসম্যানের উইকেট শিকার করা সম্ভব।

যুগান্তর: পেস বোলারদের বড় আতঙ্ক হলো ইনজুরি। চোটে পড়ার কারণে এমন অনেক ক্রিকেটার হারিয়ে গেছেন...?

আবু জায়েদ রাহী: এটা আসলে ভাগ্যের ব্যাপার। কেউ ইচ্ছা করে ইনজুরি হয় না। সবারই এটা হতে পারে। তবে এ নিয়ে সতর্ক এবং ফিটনেস নিয়ে সতর্ক থাকব।

যুগান্তর: সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফর থেকে দেশে ফেরার পর বেশকিছু ক্রিকেটার জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছেন। আপনি কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন?

আবু জায়েদ রাহী: আমারটা হবে ইনশাআল্লাহ। এখন বিয়ের চিন্তা করলে বেশি চাপ পড়ে যাবে। বিশ্বকাপের আগে বিয়ের চিন্তাভাবনা নেই। বিশ্বকাপ থেকে এসে চিন্তাভাবনা করব। তবে বিয়েশাদির ব্যাপার তো আগাম বলা যায় না। বিশ্বকাপের আগেও হতে পারে।

ঘটনাপ্রবাহ : আইসিসি বিশ্বকাপ-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×