শ্রীলংকার হামলায় বেঁচে যাওয়া সেই ক্রিকেটার তাসকিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু

  স্পোর্টস ডেস্ক ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

তাসকিনের সঙ্গে তার বন্ধু লংকান ক্রিকেটার দাসুন শানাকা
তাসকিনের সঙ্গে তার বন্ধু লংকান ক্রিকেটার দাসুন শানাকা। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু দাসুন শানাকা। আর তাদের দুজনের বন্ধুত্বের বিষয়টা প্রকাশ করেছেন শানাকা নিজেই।

গত ১ ফেব্রুয়ারি চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে গোড়ালিতে মারাত্মক চোট পান সিলেট সিক্সার্সের তারকা খেলোয়াড় তাসকিন। তখন অসুস্থ তাসকিন আহমেদকে দেখতে তার বাসায়ও গিয়েছিলেন শ্রীলংকান অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা।

গত বিপিএলে চিটাগংয়ের হয়ে খেলে গেছেন শানাকা। ইনজুরি আক্রান্ত তাসকিনের বাসায় গিয়েই শেষ নয় তার (তাসকিনের) মায়ের হাতের কেকও খেয়েছিলেন তিনি।

শানাকাকে কেক কেটে নিজ হাতে তাকে খাইয়ে দেন টাইগার পেসারের মা।

ফেসবুকে ওই ছবি শেয়ার করে শানাকা লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশে আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু তাসকিনের বাসায় গিয়েছিলাম। সেখানে দারুণ সময় কেটেছে। আশা করি, তুমি (তাসকিন) দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

এই দুই বন্ধুর দুর্ভাগ্য। দুজনের কেউই বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি।

প্রসঙ্গত, শ্রীলংকার ভয়াবহ বোমা হামলা থেকে বেঁচে গেছেন শ্রীলংকার জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার। তার নাম দাসুন শানাকা। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ২৭টি টি টোয়েন্টি, ১৯টি ওয়ানডে ও ৩টি টেস্ট খেলেছেন। শ্রীলংকার ভয়াবহ এ বোমা হামলায় এ পর্যন্ত ৩২১ জনেরও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ২৭ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার বলেন, আগের দিন দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে তিনি নিজের শহর নেগম্বোতে সেন্ট সেবাস্তিয়ান্স চার্চের ইস্টার সানডেতে যাননি।

এক দশক আগে গৃহযুদ্ধের পর দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় ৩২১জন নিহত এবং শতাধিক আহত আত্মঘাতী বোমা হামলার শিকার ছয়টি গীর্জা ও হোটেলগুলির মধ্যে এটি ছিল।

এ বিষয়ে শানাকা বলেন, সাধারণত আমি চার্চে প্রায়ই যেতাম, কিন্তু সেদিন খুবই ক্লান্ত ছিলাম। যার কারণে ওইদিন সকালে আমি বাসায় ছিলাম। আমি মানুষের কোলাহল শুনলাম, মানুষ বলাবলি করছিল চার্চে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। আমিও তৎক্ষণাৎ সেখানে গেলাম। ওখানে যে ভয়ংকর দৃশ্য দেখলাম তা জীবনে কখনও ভুলবো না।

‘পুরো চার্চ তখন ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে, সব কিছু স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। মানুষের নিথর দেহগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হল।’

সেই ভয়াবহ হামলার স্মৃতিচারণ করে ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে শানাকা বলেন, ‘যদি আপনি এটা দেখতেন তাহলে বুঝতে পারতেন সেখানে কেউ জীবিত ছিল না। ওখানে অবস্থানরত সবাই এ হামলার শিকার হয়েছে। এই বিস্ফোরণ সারা বিশ্বকে আহত করেছে।

বিস্ফোরণের পর এই ক্রিকেটার তৎক্ষণাৎ ছুটে গিয়েছে চার্চে প্রার্থনারত তার মা এবং দাদীমাকে খোঁজার জন্য। তারা দুজনেই বেঁচে আছে কিন্তু তার দাদীমা অবস্থা খুবই আশংকাজনক। তার বোমার স্প্লিন্টার তার মাথায় বিদ্ধ হয়েছে। এখন তাকে অস্ত্রোপচার করতে হবে।

শানাকা বলেন, ‘আমাদের শহরটি স্বর্গের একটি টুকরো। এখানে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাত হয়নি। গোষ্ঠীগত কোনো সমস্যাও এখানে নেই।’

ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো। আমি এখন বাসা থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×