১৯৩ করেও এমন হার!

বাংলাদেশ ১৯৩/৫, ২০ ওভারে * শ্রীলংকা ১৯৪/৪, ১৬.৪ ওভারে

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৪:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ দল

আন্তর্জাতিক টি ২০তে সৌম্য সরকার (৫১) ও মুশফিকুর রহিমের (৬৬*) ক্যারিয়ারসেরা ব্যাটিং। দুই ফিফটির সঙ্গে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ৪৩ রানের ঝলমলে ইনিংস মিলিয়ে টি ২০তে বাংলাদেশ গড়ল নিজেদের সর্বোচ্চ স্কোর, পাঁচ উইকেটে ১৯৩। সেটাও সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়াই।

কিন্তু দিনশেষে বিফলে গেল সবই। নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড গড়েও শ্রীলংকাকে মাটিতে নামাতে পারল না বাংলাদেশ। ১৯৩ রানের পাহাড় ২০ বল ও ছয় উইকেট হাতে রেখেই অনায়াসে টপকে গেল শ্রীলংকা। বৃহস্পতিবার মিরপুরে প্রথম টি ২০তে বাংলাদেশকে ছয় উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেছে লংকানরা। মিরপুরে টি ২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নজির। রোববার সিলেটে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ নামবে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে।

কাল স্বাগতিকদের এলোমেলো বোলিংয়ে লংকানরা টি ২০তে নিজেদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়েছে অনায়াসে। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বেলফাস্টে ১৯০/৫ ছিল টি ২০তে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ স্কোর। সেই পাঁচ উইকেটে এবার শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৯৩। টেস্টে ব্যাটসম্যানরা হতাশ করেছিলেন। সেই ব্যাটসম্যানরাই কাল আন্দোলিত করেছেন মিরপুরের গ্যালারি।

কিন্তু সেটা ধরে রেখে দর্শকদের জয় উপহার দিতে পারেননি বোলাররা। লংকান ব্যাটসম্যানদের সামনে একরকম আত্মসমর্পণই করলেন স্বাগতিক বোলাররা। ২৫ রানে দুই উইকেট নেয়া অভিষিক্ত বাঁ-হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন খরুচে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাত্র চার উইকেট হারিয়েই শ্রীলংকা পৌঁছে গেল জয়ের বন্দরে। বাংলাদেশ সফরে হাথুরুসিংহের দলের জয়যাত্রা অব্যাহতই থাকল।

সাকিব-তামিমের ইনজুরির কারণে এ ম্যাচে অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের চার ক্রিকেটারের। তবে নাজমুল ছাড়া বাকিরা তারুণ্যের কেতন উড়াতে পারেননি। ১৯৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শ্রীলংকা প্রথম ওভারে নেয় আট রান। পরের ওভারে সাইফউদ্দিন দেন ১৯ রান। অষ্টম ও নবম ওভারে দুটি উইকেট পড়লে যা একটু উত্তেজনা ফিরেছিল। কিন্তু সেটা মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি।

শ্রীলংকার প্রায় সবাই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। ওপেনার কুশাল মেন্ডিস ২৭ বলে করেন সর্বোচ্চ ৫৩ রান। এরপর শানাকার ২৪ বলে ৪৪* এবং থিসারা পেরেরার ১৮ বলে ৩৯* রানে জয় নিশ্চিত হয়। মাঝে গুনাথিলাকা ১৫ বলে ৩০ করেও অবদান রেখে যান। সাইফউদ্দিন দুই ওভারে দিয়েছেন ৩৩। রুবেল হোসেন ৩.৪ ওভারে দেন ৫২ রান। ম্যাচশেষে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ হারের জন্য বাজে বোলিংকেই দায়ী করলেন।

চার তরুণের অভিষেকেও ব্যাটিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন সেই অভিজ্ঞরাই। ওয়ানডে ও টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া সেৌম্যর আসল রূপটা বেশকিছু দিন অচেনা হয়েছিল। টি ২০তে ফিরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তুলে নিলেন কারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করা মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ব্যাটেই দুইশ' ছুঁই ছুঁই স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। অ

ভিষিক্ত ওপেনার জাকির হাসানের শুরুটা হয় শ্রীলংকান আরেক অভিষিক্ত শেহান মাদুশানকাকে মোকাবেলা করে। সেৌম্য চার মেরেই রানের খাতা খোলেন। প্রথম ওভার থেকেই সেৌম্য-জাকির তুলে নেন ১৭ রান। প্রথম ছয় ওভার পর্যন্ত রানের গতি ছিল দুর্দান্ত। সাবধানী শুরুর পর অভিষেক ম্যাচে নিজেকে আরও একটু এগিয়ে নেয়ার সুযোগ ছিল জাকিরের। তবে চতুর্থ ওভারের শেষ বলে গুনাথিলাকাকে মারতে গিয়েই ১০ রানে ফেরেন। ৪৯ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।

মুশফিকের এ ম্যাচে খেলা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। আগের দিন ইনজেকশন দিয়ে তার হাতের কব্জির ব্যথা কমেছে। নেমে পড়লেন ওয়ানডাউনে। সপ্তম ও অষ্টম ওভারে মাত্র ১২ রান হলে গতি কিছুটা থেমে যায়। জীবন মেন্ডিসের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই বিতর্কিত এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন সৌম্য ৫১ রানে। এক বলের ব্যবধানেই আউট অভিষিক্ত আফিফ।

১০০/১ থেকে নিমিষেই স্কোর হয়ে যায় ১০০/৩। মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক এরপর দারুণ জুটি গড়লেও সেটা দুইশ' পার করার জন্য যথষ্টে ছিল না। চতুর্থ উইকেট জুটি থেকে আসে ৭৩। মাহমুদউল্লাহ ৩১ বলে করেন ৪৩ রান।

থিসারা পেরেরা ও উদানাকে বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। সেই মিরপুরে ডেথ ওভারে দারুণ নিয়নি্ত্রত বোলিং করেছেন তারা। যার এই ম্যাচে খেলারই সম্ভাবনা ছিল না, সেই মুশফিক ৪৪ বলে সাত চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। পাঁচ উইকেটে ১৯৩ রানে থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।

ঘটনাপ্রবাহ : শ্রীলংকা বাংলাদেশ টি-২০ ঢাকা-২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter