জয়ের পথে বাংলাদেশ

  স্পোর্টস ডেস্ক ০২ জুন ২০১৯, ২২:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

সাকিব আল হাসান

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। টাইগারদের দেয়া ৩৩১ রানের বিশাল টার্গেটে খেলতে নেমে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে ২৭৬ রান সংগ্রহ করেছে। অর্থাৎ, জয়ের জন্য প্রোটিয়াদের প্রয়োজন ২৪ বলে ৫৫ রান। হাতে রয়েছে ৩ উইকেট।

জয়ের জন্য যখন ৩০ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ৬৩ রান। ৪৬তম ওভারে বল করতে এসে মোস্তাফিজ মাত্র ৮ রান দিয়ে মরিসকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান।

এর আগে সাইফউদ্দিনের বলে ক্যাচ তুলে দেন ফেহালুকাওয়ে। সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিনত হয়ে সাজঘরে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই পেসার। সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয়ের স্বপ্ন দেখেছে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪৪ ওভারের খেলা শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৯/৬ রান। জয়ের জন্য শেষ ৩৬ বলে প্রয়োজন ৭২ রান।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৩১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান আউট হয়ে ফেরেন আফ্রিকান ওপেনার। তার আগে ৩২ বলে ২৩ রান করেন ডি কক।

ব্যাটিংয়ের পর ফিল্ডিংয়েও দুর্দান্ত মুশফিকুর রহিম। তার থ্রোতে ভেঙে যায় দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার কুইন্টন ডি ককের উইকেট।

ডি ককের বিদায়ের পর দ্বিতীয় উইকেটে অফিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের সঙ্গে ৫৩ রানের জুটি গড়েন মার্করাম। তাদের মধ্যকার এই জুটি ভাঙেন সাকিব। বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডারের শিকারে পরিনত হওয়ার আগে ৫৬ বলে ৪৬ রান করেন মার্করাম। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১০২ রানে দুই উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

মেহেদী হাসান মিরাজের অফ স্পিনে বিভ্রান্ত ফাফ ডু প্লেসিস। বাংলাদেশের বিপক্ষে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকান এ অধিনায়ককে বোল্ড করেন মিরাজ। সাজঘরে ফেরার আগে ৫৩ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৬২ রান করেন ডু প্লেসিস।

১৬ রানেই আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার কথা ছিল ডেভিড মিলারের। সাকিবের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সৌম্য সরকারের কারণে লাইফ পান। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা মিলার কিলারকে আউট করে টাইগার শিবির স্বস্থির পরশ এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচে পরিনত হওয়ার আগে ৪৩ বলে দুটি চারের সাহায্যে ৩৮ রান করেন মিলার।

দলীয় ২২৮ রানে ভেন দার ডুসেনকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান সাইফউদ্দিন। তার আগে ৩৮ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ৪১ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই ব্যাটসম্যান।

মুশফিক-সাকিবের ব্যাটে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

মুশফিক-সাকিবের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩০ রানের রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের যেকোনো দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান।

এর আগে ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ৩২৯ রান করেছিল টাইগাররা।

রোববার ইংল্যান্ডের কেনিংটন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

সাকিব-মুশফিক জুটি বাংলাদেশের অনেক বিপদে কার্যকর জুটি গড়ে দলকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছেন।

দলীয় ৭৫ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরার পর টাইগার শিবিরে যে শংকা তৈরি হয়েছিল তা ভুল প্রমাণিত করেন সাকিব-মুশফিক। তৃতীয় উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ওপর এক প্রকার তাণ্ডব চালান। তাদের অনবদ্য ১৪২ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন মুশফিকুর রহিম। তার ৭৮ রানের ইনিংসটি ৮টি চারে সাজানো। সাকিব করেন ৭৫ রান করেন। তার ইনিংসটি ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ ৪৬ ও সৌম্য সরকারের ৪২ রান টাইগারদের বিশাল সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৮.২ ওভারে ৬০ রান করেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল।

হাতের চোট নিয়ে খেলতে নেমে প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেননি তামিম ইকবাল। ইনিংসের শুরু থেকে সৌম্য সরকার একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকালেও উইকেটের অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন তামিম।

কিন্তু আন্দিলে ফিলোকাওয়ের গতির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন দেশসেরা ওপেনার। তার আগে ২৯ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৬ রান করেন তামিম।

এরপর ১৫ রানের ব্যবধানে ফেরেন অন্য ওপেনার সৌম্য সরকার। দলীয় ৭৫ রানে ক্রিস মরিসের বাউন্সি বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে বিপদে পড়েন দুর্দান্ত খেলতে যাওয়া সৌম্য। ক্রিস মরিসের করা বলটি সৌম্যর মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল।

উড়ে আসা সেই বলটি সৌম্যর গ্লাভসে লেগে উইকেটকিপার কুইন্টন ডি ককের ক্যাচে পরিনত হয়। সাজঘরে ফেরার আগে ৩০ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৪২ রান করেন করেন সৌম্য।

৭৫ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর হাল ধরেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে তারা ১৪১ বলে ১৪২ রানের জুটি গড়েন। তাদের অনবদ্য জুটিতে বড় সংগ্রহ পায় টাইগাররা।

ক্যারিয়ারের ৪৩তম ওডিআই ফিফটি গড়ার পর সেঞ্চুরি পথেই ছিলেন সাকিব। কিন্তু ইমরান তাহিরের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তার আগে ৮৪ বলে ৮টি চার ও এক ছক্কায় ৭৫ রান করেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।

এদিকে আন্দিলে ফিলোকাওয়েকে বাউন্ডারি হাঁকানোর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৪তম ফিফটি গড়েন মুশফিক। ফিফটির পর তিনিও সেঞ্চুরির পথে ছিলেন। দলীয় ২৫০ রানে আউট হন মুশফিক। তার আগে ৮০ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৭৮ রান করেন এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

ইনিংসের শেষ দিকে রীতিমতো তাণ্ডব চালান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৪৩ বলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন তারা। ২০ বলে ২৬ রান করে ফেরেন সৈকত। মাত্র ৩৩ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত ৪৬ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩৩০/৬ (মুশফিক ৭৮, সাকিব ৭৫, মাহমুদউল্লাহ ৪৬* সৌম্য ৪২, মোসাদ্দেক ২৬, মিঠুন ২১, তামিম ১৬, মিরাজ ৫*)।

ঘটনাপ্রবাহ : আইসিসি বিশ্বকাপ-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×