হাফিজের অফ স্পিনে বোল্ড মরগার

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৯, ২১:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

পাকিস্তানের রানের পাহাড়ে চাপা পড়েছে ইংল্যান্ড। ৩৪৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে বড় কোনো জুটি গড়তে পারছে না ইংলিশরা। শাদাব খান-ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ হাফিজের বোলিং তোপের মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় বিশ্বকাপের স্বাগতিক দল ইংল্যান্ড। 

শুরুতেই বিপদে ইংল্যান্ড। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়কে সাজঘরে ফেরান শাদাব খান। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফিফটি তুুলে নেয়া ইংল্যান্ডের এ ওপেনারকে মাত্র ৮ রানে ফেরান শাদাব।

দলীয় ১২ রানে জেসন রয়ের উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যাওয়া ইংল্যান্ড খেলায় ফেরার আগে ফের বিপদে। ওয়াহাব রিয়াজের গতির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন অন্য ওপেনার জনি বেয়ারস্টো। আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া এ ইংলিশ ওপেনার ফেরেন ৩১ বলে ৩২ রান করে।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ইয়ন মরগান। মোহাম্মদ হাফিজের অফ স্পিনে বোল্ড মরগান। ১৮ বলে ৯ রান করেই সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ অধিনায়ক। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৮৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়া ইংল্যান্ড।

পাকিস্তান ৩৪৮/৮

পরাজয় তাতিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে। বিশ্বকাপের আগ থেকেই পরাজয়ের বৃত্তে আটকে আছে পাকিস্তান। টানা ১০ ম্যাচে হেরে যাওয়া পাকিস্তান এবারের বিশ্বকাপের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায়। ১০৫ রানে অলআউট হয়ে পরাজয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন দলটি।

টানা ১১ ম্যাচে হেরে রীতিমতো সমালোচনায় পড়ে যায় পাকিস্তান। দলের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদ ও ইমাম-উল-হকরা। তাদের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৩৪৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে জিততে হলে ৩৪৯ রান করতে হবে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দল ইংল্যান্ডকে।

সোমবার ইংল্যান্ডের নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে স্বাগতিক ইংলিশদের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিং করে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে পাকিস্তান। দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে অনবদ্য ব্যাটিং করেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা।

উদ্বোধনী জুটিতে ১৪.১ ওভারে ৮২ রান করেন দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে মঈন আলীর বলে স্ট্যাম্পিং হন ফখর জামান। তার আগে ৪০ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৩৬ রান করেন পাকিস্তানের এ ওপেনার।

এরপর ক্রিস ওকসের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ইমাম-উল-হক। মঈন আলীর বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন পাকিস্তানের এ ওপেনার। সাজঘরে ফেরার আগে ৫৮ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৪৪ রান করেন ইমাম-উল।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালান বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজ। এই জুটিতে তাড়া ৮৮ রান যোগ করেন। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেন বাবর আজম। পাকিস্তানের এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি তুলে নেয়ার পর মঈন আলীর তৃতীয় শিকারে পরিণত হন। তার আগে ৬৬ বলে ৪টি চার ও এক ছক্কায় ৬৩ রান করেন বাবর আজম।

চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের সঙ্গে ৮০ রানের জুটি গড়েন হাফিজ। এই জুটিতে ক্যারিয়ারের ৩৮তম ফিফটি তুলে নেন সাবেক এ অধিনায়ক। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন হাফিজ। কিন্তু ৬২ বলে ৮টি চার ও দুই ছক্কায় ৮৪ রান করে আউট হয়ে ফেরেন হাফিজ।

এরপর সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৪৪ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৫৫ রান করে ফেরেন সরফরাজ আহমেদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩৪৮/৮ (হাফিজ ৮৪, বাবর ৬৩, সরফরাজ ৫৫, ইমাম-উল ৪৪, ফখর জামান ৩৬, আসিফ আলী ১৪; মঈন আলী ৩/৫০, ক্রিস ওকস ৩/৭১ মার্ক উড ২/৫৩)।