সালাহর কারণে লিভারপুলে কমছে মুসলিম বিদ্বেষ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৯, ২১:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবল মাঠে অনন্য মোহামেদ সালাহ। লিভারপুলকে ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতাতে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ লাখো ফুটবলপ্রেমী। তবে মিসরীয় কিংয়ের কারিশমা শুধু ময়দানেই সীমাবদ্ধ নয়। মাঠের বাইরে দ্য ফারাওখ্যাত ফুটবলারের অসাধারণ চারিত্রিক গুণাবলিতে মুগ্ধ ব্রিটেনের লিভারপুল শহরের বাসিন্দারা। এতটাই বিমুগ্ধ যে, নিজেদের স্বভাব পাল্টিয়ে ফেলছেন তারা।

সম্প্রতি অভিবাসন নীতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছে যুক্তরাজ্যের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাতে উঠে এসেছে, সালাহ ২০১৭ সালে লিভারপুলে যোগ দেয়ার পর মুসলিমদের প্রতি স্থানীয়দের ‘হেট ক্রাইম’ ১৮.৯ শতাংশ কমেছে। এর আগে নানা চেষ্টা করেও এ প্রকট সমস্যার সমাধান করতে পারেনি কাউন্টি প্রশাসন। ফলে এ নিয়ে বেশ দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সালাহর বদৌলতে ‘হেট ক্রাইম’ আশ্চর্যজনকভাবে কমেছে। একক প্রচেষ্টায় যা সম্ভব হতো না। এটা সুনিশ্চিত, তিনি ডেরায় ভেড়ায় লিভারপুল কাউন্টিতে হেট ক্রাইম বিস্ময়কর হারে কমছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল হেট ক্রাইম নয়, মুসলিম বিরোধী মন্তব্যও উল্ল্যেখযোগ্য হারে কমেছে। ব্যাপকহারে তা কমিয়ে দিয়েছে লিভারপুলের বাসিন্দারা। সাধারণত, প্রিমিয়ার লিগে বড় ক্লাবের সমর্থকরা মুসলিম বিদ্বেষী টুইট করে থাকেন। ব্যতিক্রম নয় অলরেড সমর্থকরা। কিছুদিন আগেই তাদের এরকম টুইটের হার ছিল ৭.৪ শতাংশ। সেটা এখন কমে এসেছে ৩.৪ শতাংশে।

সালাহর বিভিন্ন সময়ে উক্তির মধ্যে বিখ্যাত হলো-‘এ গিফট ফ্রম আল্লাহ’। এ দিয়ে গানও গায় তারা।

১ কোটি ৫০ লাখ ফুটবল ভক্তের টুইটের মধ্য থেকে ৮ হাজার লিভারপুল ভক্তের টুইট বেছে নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সালাহ একজন মহাতারকা। তিনি সবার সঙ্গেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। ক্যারিশম্যাটিক পরিবারপ্রিয় মানুষ। মুসলিম পরিচয়ে ভীত নন। জনসম্মুখে অদৃষ্ট নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, লিভারপুল সমর্থকদের ওপর সালাহর প্রভাব জাদুকরী। দিন দিন ব্যাপকহারে তাদের ওপর তার ইফেক্ট বাড়ছে। সদ্য টানা দ্বিতীয় গোল্ডেন বুট জিতেছেন মিসরের মেসি। এতে বেজায় খুশি রেড সমর্থকেরা। মাঠের বাইরে তার আচরণেও গুণমুগ্ধ তারা। এতটাই ক্রেজি যে,  বহু প্রচলিত ধ্যান-ধারণা নিমিষেই বদলে ফেলতে রাজি ওরা।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট/দ্য ন্যাশনাল