সিলেটের গ্রীন গ্যালারির স্টেডিয়াম আসলে কেমন?

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের গ্রীন গ্যালারির স্টেডিয়াম আসলে কেমন?

সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ রোববারই প্রথমবারের মত খেলছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে আজ শ্রীলংকার মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিকরা। অথচ চা বাগানসহ নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের জন্য সুপরিচিত সিলেটে পাহাড়বেষ্টিত এই স্টেডিয়ামে প্রথম খেলা হবার কথা ছিলো প্রায় ৫ বছর আগে।

২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড যখন বাংলাদেশ সফর করে তখন তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকার কারণে সেবার ম্যাচটি আয়োজিত হয়নি। তার পরের বছর ২০১৪ সালে শ্রীলংকার বাংলাদেশ সফরকালেও শেষ ওয়ানডেটি সিলেটে হবার আলোচনা চললেও, শ্রীলংকান জাতীয় দল একটি ম্যাচের জন্য সেখানে সফর করতে রাজি হননি।

২০১৩ সালে জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ঢেলে সাজানো হয় এই স্টেডিয়ামটি। তখন মূল ভবন, গণমাধ্যমের জায়গা ও ফ্লাডলাইট বসানো হয়। বাংলাদেশের একমাত্র গ্রীন গ্যালারী সিলেটের স্টেডিয়ামটিতেই আছে। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টিতে বাছাইপর্বের ৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এই স্টেডিয়ামে।

এছাড়া ২০১৬ সালের অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপেও এই স্টেডিয়ামে খেলা হয়। ২০১৭ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ প্রথম বারের মত সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মোট ৮টি ম্যাচ হয়। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার আজকের ম্যাচ ঘিরে উল্লসিত সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

সিলেটের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটভক্তের সাথে কথা বলে জানা যায় এই ম্যাচের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আশরাফুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান এটাই তার প্রথম ক্রিকেট খেলা দেখার অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। তাই সে খুবই উদগ্রীব।

তিনি বলেন, বেশ উচ্চদামে অনেক কষ্ট করে টিকিট সংগ্রহ করেছি। এর আগে অনেক দল এসেছে সিলেট। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের একই মাঠে দেখতে পাবো এটাই প্রথম। আরেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফাতেহা ফেরদৌসি নিশাতের মতে সিলেটের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সেটা ক্রিকেটের মাধ্যমে সবাইকে জানান দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

সিলেটে অবস্থানরত ক্রীড়া সাংবাদিক ইকরামুল হকের কাছে বিবিসি বাংলা জানতে চায় এই ম্যাচটি সিলেটের ক্রীড়ানুরাগীদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জবাবে মি: হক বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ সিলেট স্টেডিয়াম নিয়ে বেশ উদগ্রীব। এই মাঠটিতে খেলা হবার কথা বহুদিন আগে। তবে অন্যান্য শহরে যেমনটা গোটা শহরে সাজসাজ রব থাকে সিলেটে শুধু ক্রিকেটপ্রেমীরাই খেলার প্রতি আকৃষ্ট।"

ইকরামুল বলেন, এই এক ম্যাচের টিকিট সংগ্রহ করতে লম্বা লাইনে দাঁড়ায় সিলেটবাসী। বাংলাদেশে এই একটি স্টেডিয়ামেই গ্রীন গ্যালারী আছে তাই দর্শকরা বেশ উদগ্রীব এখানে খেলা দেখতে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দুটি টেস্ট ম্যাচেই উইকেট নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। দুটি স্টেডিয়ামই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছে চলতি সিরিজে।

সিলেটের এই স্টেডিয়ামের উইকেট কেমন? ক্রীড়া সাংবাদিক ইকরামুল হকের মতে, বাংলাদেশের অন্যান্য উইকেটের তুলনায় সিলেটের স্টেডিয়ামের বাউন্স খানিকটা বেশি। এখানে ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়েই সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলোতে ভাল রান হয়েছে। এখানে বোলাররাও সুবিধা পেয়েছে। বাউন্স বেশি থাকায় পেস বোলাররা এখানে বল করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন বলে আশা করা যায়।

সিলেটের জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম নাদেল বিবিসি বাংলাকে জানান, জাতীয় দল ও সফরকারী দল উভয়েই উইকেট মাঠ ঘুরে দেখেছেন। তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এখানেই প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদল। টি টোয়েন্টিতে যেমন খেলা হয় সেটাই দেখা যাবে আশা করেন তিনি। খবর বিবিসি বাংলার।

ঘটনাপ্রবাহ : শ্রীলংকা বাংলাদেশ টি-২০ ঢাকা-২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter