শাদাব খানের জোড়া আঘাত
jugantor
শাদাব খানের জোড়া আঘাত

  স্পোর্টস ডেস্ক  

২৩ জুন ২০১৯, ২১:১৬:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

শাদাব খান
উইকেট শিকারের পর শাদাব খানকে সতীর্থদের অভিনন্দন। ছবি: সংগৃহীত

সেমিফাইনালে টিকে থাকার লড়াইয়ে মুখোমুখি পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্তিত্বের লড়াইয়ের ম্যাচে মাত্র ৪ রানে হাশিম আমলার উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলকে খেলায় ফেরান কুইন্টন ডি কক ও ফাফ ডু প্লেসিস। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন তারা।

ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার শাদাব খান। ইমাম-উল-হকের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকান এ ওপেনার। তার আগে ৬০ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৪৭ রান করেন ডি কক।  এরপর চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা মার্ক ওরামকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান শাদাব খান। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১০৩ রানে ৩ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।   

দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানেন মোহাম্মদ আমির। পাকিস্তানের এই তারকা পেসারের গতির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন হাশিম আমলা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই প্রথম বলে আমলাকে বিভ্রান্ত করেন আমির।

এলবিডব্লিউর আবেদন করলেও আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। রিভিউ নিয়ে আমলাকে সাজঘরে ফেরান আমির। ৩০৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪ রানে আমলার উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

পাকিস্তান ৩০৮/৭

হারিস সোহেলের ব্যাটিং তাণ্ডব ও বাবর আজমের ফিফটিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩০৮ রান। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকে রাখতে হলে অসাধারণ বোলিংও করতে হবে মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও শাদাব খানদের।

রোববার ইংল্যান্ডের লডর্সে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দুরন্ত সূচনা করে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারে ৫৮ রান যোগ করেন ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪.৫ ওভারে ৮১ রান করেন তারা। ৫০ বলে ৬টি চার ও এক ছক্কায় ৪৪ রান করে আউট হন ফখর জামান।

এরপর মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে ফেরেন অন্য ওপেনার ইমাম-উল-হক। সাজঘরে ফেরার আগে ৫৮ বলে ৬টি চারে ৪৪ রান করেন ইমাম-উল। পাকিস্তানের এই দুই ওপেনারের উইকেট শিকার করেন দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম ক্রিকেটার ইমরান তাহির। পাকিস্তানি বংশোদ্বোভূত ইমরান তাহিরের লেগ স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ফেরেন পাকিস্তানের ইমাম-ফখর।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে বাবর আজমের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ হাফিজ। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক মার্ক ওরামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৩ বলে ২০ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

হাফিজের বিদায়ের পর হারিস সোহেলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৮১ রান যোগ করেন বাবর আজম।৬১তম বলে ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি তুলে নেয়ার পর ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি বাবর। অ্যান্ডিল ফেহালুকাওয়ের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লুঙ্গি এনডিগির হাতে ক্যাচ তুলে দেন বাবর। তার আগে ৮০ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৬৯ রান করেন তিনি।

বাবর আজম আউট হলেও ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে যান হারিস সোহেল। পঞ্চম উইকেটে ইমাদ ওয়াসিমের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়েন হারিস। ১৫ বলে ২৩ রান করে ইমাদ ওয়াসিম আউট হলেও উইকেটে অবিচল থেকে ব্যাটিং চালিয়ে যান হারিস সোহেল। তার অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৩০৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। দলের হয়ে ৫৯ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৮৯ রান করেন ইনিংস শেষ হওয়ার এক বল আগে আউট হন হারিস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩০৮/৭ (হারিস সোহেল ৮৯, বাবর আজম ৬৯, ফখর জামান ৪৪, ইমাম-উল-হক ৪৪, মোহাম্মদ হাফিজ ২০, ইমাদ ওয়াসিম ২৩; লুঙ্গি এনডিগি ৩/৬৪, ইমরান তাহির ২/৪১)।

শাদাব খানের জোড়া আঘাত

 স্পোর্টস ডেস্ক 
২৩ জুন ২০১৯, ০৯:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শাদাব খান
উইকেট শিকারের পর শাদাব খানকে সতীর্থদের অভিনন্দন। ছবি: সংগৃহীত

সেমিফাইনালে টিকে থাকার লড়াইয়ে মুখোমুখি পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্তিত্বের লড়াইয়ের ম্যাচে মাত্র ৪ রানে হাশিম আমলার উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলকে খেলায় ফেরান কুইন্টন ডি কক ও ফাফ ডু প্লেসিস। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন তারা।

ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার শাদাব খান। ইমাম-উল-হকের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকান এ ওপেনার। তার আগে ৬০ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৪৭ রান করেন ডি কক। এরপর চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা মার্ক ওরামকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান শাদাব খান। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১০৩ রানে ৩ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানেন মোহাম্মদ আমির। পাকিস্তানের এই তারকা পেসারের গতির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন হাশিম আমলা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই প্রথম বলে আমলাকে বিভ্রান্ত করেন আমির।

এলবিডব্লিউর আবেদন করলেও আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। রিভিউ নিয়ে আমলাকে সাজঘরে ফেরান আমির। ৩০৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪ রানে আমলার উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

পাকিস্তান ৩০৮/৭

হারিস সোহেলের ব্যাটিং তাণ্ডব ও বাবর আজমের ফিফটিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩০৮ রান। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকে রাখতে হলে অসাধারণ বোলিংও করতে হবে মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও শাদাব খানদের।

রোববার ইংল্যান্ডের লডর্সে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দুরন্ত সূচনা করে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারে ৫৮ রান যোগ করেন ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪.৫ ওভারে ৮১ রান করেন তারা। ৫০ বলে ৬টি চার ও এক ছক্কায় ৪৪ রান করে আউট হন ফখর জামান।

এরপর মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে ফেরেন অন্য ওপেনার ইমাম-উল-হক। সাজঘরে ফেরার আগে ৫৮ বলে ৬টি চারে ৪৪ রান করেন ইমাম-উল। পাকিস্তানের এই দুই ওপেনারের উইকেট শিকার করেন দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম ক্রিকেটার ইমরান তাহির। পাকিস্তানি বংশোদ্বোভূত ইমরান তাহিরের লেগ স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ফেরেন পাকিস্তানের ইমাম-ফখর।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে বাবর আজমের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ হাফিজ। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক মার্ক ওরামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৩ বলে ২০ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

হাফিজের বিদায়ের পর হারিস সোহেলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৮১ রান যোগ করেন বাবর আজম।৬১তম বলে ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি তুলে নেয়ার পর ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি বাবর। অ্যান্ডিল ফেহালুকাওয়ের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লুঙ্গি এনডিগির হাতে ক্যাচ তুলে দেন বাবর। তার আগে ৮০ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৬৯ রান করেন তিনি।

বাবর আজম আউট হলেও ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে যান হারিস সোহেল। পঞ্চম উইকেটে ইমাদ ওয়াসিমের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়েন হারিস। ১৫ বলে ২৩ রান করে ইমাদ ওয়াসিম আউট হলেও উইকেটে অবিচল থেকে ব্যাটিং চালিয়ে যান হারিস সোহেল। তার অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৩০৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। দলের হয়ে ৫৯ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৮৯ রান করেন ইনিংস শেষ হওয়ার এক বল আগে আউট হন হারিস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩০৮/৭ (হারিস সোহেল ৮৯, বাবর আজম ৬৯, ফখর জামান ৪৪, ইমাম-উল-হক ৪৪, মোহাম্মদ হাফিজ ২০, ইমাদ ওয়াসিম ২৩; লুঙ্গি এনডিগি ৩/৬৪, ইমরান তাহির ২/৪১)।