বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য হতে চাই: মুমিনুল

  আল-মামুন ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

মুমিনুল হক

শ্রীলংকার বিপক্ষে হেরে ঘরের মাঠে পর হয়ে গেল বাংলাদেশ।টাইগারদের বাজেভাবে পরাজয়ের কারণে দল নির্বাচন, ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বশীলতা হেড কোচসহ অনেক জিনিস উঠে এসেছে। পরাজয়ের জন্য কোনো অজুহাত না দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন দলের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ মুমিনুল হক

যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজেদের প্রত্যাশাপ্রাপ্তিসহ জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন জাতীয় দলের এ তারকা ক্রিকেটার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তরের স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন

যুগান্তর: শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে আপনার প্রত্যাশা কী ছিল?

মুমিনুল হক: প্রত্যাশা আসলে নিজের জন্য না। দলের হয়ে অবদান রাখাই ছিলে আমার প্রধান লক্ষ্য। প্রথম টেস্টে আল্লাহর রহমতে সেটা হয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টে করতে পারিনি।

যুগান্তর: চট্টগ্রাম টেস্টে কঠিন চাপের মধ্যে অসাধারণ খেলেছেন। আপনার কল্যাণে পরাজয়ের শঙ্কা কাটিয়ে ড্র করেছে বাংলাদেশ?

মুমিনুল হক: ক্রিকেট খেলতে হলে, আপনাকে এসব জিনিস করতে হবে। এমন চাপের মধ্যে সেরাটা খেলতে পারলেই কিন্তু আপনার নামডাক হবে। চট্টগ্রামে ১৭৬ করেছি। ঢাকা টেস্টে যদি বড় একটা ইনিংস খেলে দিতে পারতাম তাহলে টিমটা জিততো।

যুগান্তর: চট্টগ্রামে ভালো হওয়া ঢাকা টেস্টে প্রত্যাশা আরও বেশি ছিল?

মুমিনুল হক: আসলে আমরা পারিনি। তবে আমি সেই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করছি। হয়তো সব সময় ভালো হবে না। তবে চেষ্টা করলে উন্নতি হতে থাকবে। যেই জিনিসটা এখন শিখছি ভবিষ্যতে এমন বাজে পরিস্থিতিতে পড়লে দলকে উত্তরণের চেষ্টা করব।

যুগান্তর: ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংস তো ভুল কলের কারণে রান আউট হলেন?

মুমিনুল হক: আসলে এতে ইমরুল কায়েসের কোনো দোষ ছিল না। আমি নিজের কারণেই রান আউটের ফাঁদে পড়েছি। কলটা ইমরুল ভাইয়ের থাকলেও আমি সেটা ক্যারি করতে পারিনি।

যুগান্তর: প্রতিপক্ষ স্পিনে শক্তিশালী জানার পরও ঢাকা টেস্টে স্পিন উইকেটে খেলার সিদ্ধান্ত নেয়াটা যৌক্তিক ছিল কী?

মুমিনুল হক: এটা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। একজন প্রফেশনাল খেলোয়াড় হিসেবে এমন অজুহাত দেয়া ঠিক হবে না। আমার মনে হয় পজেটিভ চিন্তা করা উচিত। যারা বৈরী পরিবেশে সেরাটা খেলতে পারে তারাই সত্যিকারের বড় খেলোয়াড়। এটা নিয়ে আমি কোনো অজুহাত দিতে চাই না।

যুগান্তর: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘরের মাঠে ভালো খেলায় প্রত্যাশা বেড়েছে। সেই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না করতে পারাটা..?

মুমিনুল হক: হ্যাঁ, এটা তো স্বাভাবিক। তিন-চার বছর ধরে অনেক ভালো খেলছি। এজন্য প্রত্যাশা একটু বেশি ছিল। তবে এ নিয়ে হতাশ হওয়ারও কিছু নেই। কারণ সব সময় ভালো খেলা সম্ভব না। এইটাও হতে পারে এখন খারাপ খেলায় সামনে আরো ভালো খেলার তাগিদ এসেছে। মাঝে মাঝে এমন পারফরম্যান্স হওয়াটা খারাপও না। এতে করে খেলোয়াড়রা আরো সিরিয়াস হবে।

যুগান্তর: প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না হলে সমালোচনা হয় সেটা আপনারা কীভাবে সামাল দেন?

মুমিনুল হক: আসলে সিম্পল একটা জিনিস। আপনি যখন ভালো খেলেন তখন আপনাকে সব মানুষ বাহবা দেয় এটা আপনি গ্রহণ করেন। এটা আমরাও গ্রহণ করি। আবার সমালোচনা হলেও গ্রহণ করতে হয়, হবেও। প্রেসার থাকবেই। সেটা মেনে নিয়েই খেলতে হয়। কিছু করার নেই।

যুগান্তর: প্রতিবেশী দেশ ভারতে কোনো সিরিজ হারলে ক্রিকেটারদের ইটপাটকেলও খেতে হয়..?

মুমিনুল হক: এটা হয়তো অনেক জায়গায় হয়। এটার পেছনে দুটি কারণ। এক হলো টিমের প্রতি ভালোবাসা। আরেকটা হতে পারে লোক দেখানো, হুজুগে হওয়া। কোন কারণে ক্রিকেট ভক্তরা এমন আচরণ করেন, তা আমি বলতে পারব না। টিমের প্রতি ভালোবাসা থেকে হলে ভালো।

যুগান্তর: বাংলাদেশ দল সম্পর্কে লংকান কোচের ভালো জানাশোনাই কি পরাজয়ের মূল কারণ?

মুমিনুল হক: দীর্ঘদিন কাজ করায় হাথুরুসিংহে আমাদের সম্পর্কে ভালো করেই জানেন। আবার আমরাও ওনার সম্পর্কে জানি। আমাদের নিয়ে উনি পরিকল্পনা করতে পেরেছেন কিন্তু আমরা সেটা পারিনি।

যুগান্তর: পেশাদার কোচ না থাকাটাই কি দলের পরাজয়ের কারণ?

মুমিনুল হক: আমি আসলে ওইভাবে মন্তব্য করতে চাই। আমার কাছে এ রকম মনে হয় না।

যুগান্তর: অনেকেই বলেন ঘরের মাঠেই টাইগাররা পর, শ্রীলংকা সফরে কী হবে?

মুমিনুল হক: আমার কাছে মনে হয় না খুব বেশি সমস্যা হবে। কারণ পরাজয়ের কারণে নিজেদের সমস্যাগুলো ভালোভাবে নজরে এসেছে। এই সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করে বাইরে আরও ভালো খেলবে।

যুগান্তর: টেস্টে দুইবার ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও হয়নি। এটার জন্য হতাশা কাজ করে না?

মুমিনুল হক: এটা কোনো হতাশা নয়। আমি হতাশা মনে করি না। আমি ক্রিকেট খেলতে থাকলে একটা সময় ডাবল সেঞ্চুরি পেয়ে যাব। তবে সাময়িক সময়ের জন্য একটু খারাপ লাগে।

যুগান্তর: ধারাবাহিক রান করে যাওয়ার রহস্য নিয়ে যদি বলেন?

মুমিনুল হক: ও রকম কোনো রহস্য নেই। আমি যেমন প্রত্যেক ম্যাচে উন্নতি করার চেষ্টা করি। আমি সব সময় চেষ্টা করি আগের ইনিংস ভুলে নতুন করে কিছু করতে। হয়তো অনেক সময় হয়েও যায়।

যুগান্তর: আপনার ক্যারিয়ারের শুরুতে তিন ফর্মেটেই খেলেছেন। একটা সময়ে এসে আপনাকে সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে দূরে রাখা হয়..?

মুমিনুল হক: ক্রিকেটের সব ফর্মেটে সবাই খেলতে চায়, আমিও চাই। তবে এটা নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। ওনারা যদি মনে করেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আমার খেলার সক্ষমতা আছে। আমাকে সুযোগ দিলে অবশ্যই চেষ্টা করব।

যুগান্তর: হাথুরুসিংহের সময়ে আপনি সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে বাদ পড়ে যান?

মুমিনুল হক: দেখেন ওটা নিয়ে আমি চিন্তা করি না। উনি যেটা করেছেন হয়তো আমার জন্য সেটা ভালো হয়েছে। ও যেটা চেয়েছে আমি কিছু জায়গায় উন্নতি করি। তো ওটা হয়েছে। আরও কিছু বিষয় আছে সেখানে উন্নতি করতে পারলে সেটা কাভার করতে পারব।

যুগান্তর: আপনার ক্যারিয়ারের বাজে দিন বা কষ্টের সময় নিয়ে যদি বলেন?

মুমিনুল হক: আমার ওই রকম কোনো ইয়ে হয় নাই। তবে শ্রীলংকার বিপক্ষে সর্বশেষ ঢাকা টেস্টে হারাতে খুব খারাপ লেগেছে।

যুগান্তর: ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

মুমিনুল হক: নিজেকে নিয়ে কোনো চিন্তা নেই যে, আমি বিশ্ব ক্রিকেট এই হবো। তবে বাংলাদেশ একদিন ভালো জায়গায় যাবে। বিশ্বকাপ জিতবে আর সেই দলের সৌভাগ্য সদস্য হওয়ার ইচ্ছা আছে আমার। এটাই স্বপ্ন দেখি। সেটার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করব।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ শ্রীলংকা টেস্ট ঢাকা ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter