১২ মাস পর খেলায় ফিরে ১৪ রানে আউট বিজয়

  স্পোর্টস ডেস্ক ৩১ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

এনামুল হক বিজয়
এনামুল হক বিজয়। ফাইল ছবি

দুর্ভাগ্য এনামুল হক বিজয়ের। ১২ মাস দু’দিন পর খেলায় ফিরেও সুবিধা করতে পারেননি জাতীয় দলের তারকা এ ব্যাটসম্যান। এক বছরের লম্বা সময় পর দলে ফিরে মাত্র ১৪ রানে আউট হন এ ওপেনার।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে সেরা ছন্দেই ছিলেন বিজয়। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচে বাউন্ডারির ঠিক পাশে ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোটাক্রান্ত হন তিনি। সেই চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরতে অপেক্ষা করতে হয় তিন বছর।

গত বছর জানুয়ারিতে ঢাকায় শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে ফিরেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেননি। চার ম্যাচে করেন মাত্র ৩৬ রান। এরপর ছয় মাস পর গত বছরের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে আবারও খেলায় সুযোগ হয় তার। ক্যারিবীয় সফরে তিন ম্যাচে করেন মাত্র (০, ২৩ ও ১০) ৩৩ রান।

এক বছর দুই দিন পর বুধবার শ্রীলংকার কলম্বোয় ওয়ানডে ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান এনামুল হক বিজয়। কিন্তু সুযোগ পেয়েও প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেননি তিনি। শ্রীলংকার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে ২৪ বল খেলে মাত্র ১৪ রানে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ে ২৯ রানে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বিজয়ের আগে দলীয় মাত্র ৪ রানে আউট হন তামিম ইকবাল।

শ্রীলংকা ২৯৪/৮

প্রথমে ব্যাট করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও কুশল মেন্ডিসের জোড়া ফিফটিতে ৮ উইকেটে ২৯৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে শ্রীলংকা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন ম্যাথিউস। তার ইনিংসটি ৯০ বলে আটটি চার ও এক ছক্কায় সাজানো। এ ছাড়া ৫৪ রান করেন মেন্ডিস। ৪৬ ও ৪২ রান করেন করুনারত্নে ও কুশল পেরেরা।

বুধবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং করে শ্রীলংকা। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। দলীয় ১৩ রানে লংকান ওপেনার অভিস্কা ফার্নান্দোকে এলবিডব্লিউ করে টাইগার শিবিরে স্বস্তির পরশ এনে দেন পেসার শফিউল ইসলাম।

ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নামা কুশল পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। তাদের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিন বছর পর খেলতে নেমে উইকেটের সাফল্য পান তাইজুল। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের পর গত রোববার ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে নেমে শ্রীলংকার বিপক্ষে কোনো সাফল্য পাননি এই বাঁহাতি স্পিনার।

বুধবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে লংকান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেকে আউট করেন তাইজুল। এদিন ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ম্যাচে তাইজুল শিকার করলেন ষষ্ঠ উইকেট। তার স্পিনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে করুনারত্নে করেন ৬০ বলে ৪৬ রান।

এরপর মাত্র ২ রানের ব্যবধানে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া কুশল পেরেরাকে ফেরান রুবেল হোসেন। তার বিদায়ে ৯৮ রানে ৩ উইকেট হারায় লংকানরা। এরপর কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে অনবদ্য জুটি গড়েন শ্রীলংকান সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। এই জুটিতে তারা ১০১ রান যোগ করেন।

বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ম্যাথিউস-মেন্ডিসের মধ্যকার জুটি ভাঙেন সৌম্য সরকার। ফিফটি তুলে নেয়া কুশল মেন্ডিসকে আউট করেন সৌম্য। তার আগে ৫৮ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে ৪১.৩ ওভারে ১৯৯ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলংকা।

ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান দাসুন শানাকা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যান তিনি। পঞ্চম উইকেটে ম্যাথিউসের সঙ্গে মাত্র ২৮ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন শানাকা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ১৪ বলে ৩০ রান করা শানাকাকে দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন শফিউল। সাব্বির রহমান রুম্মনের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন শানাকা।

দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করতে ইনিংসের শেষ ওভারে তার প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। সৌম্য সরকার শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে শুরুতেই ওয়াইড দেন। পরের ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ম্যাথিউস।

অসাধারণ ব্যাটিং করেও মাত্র ১৩ রানের জন্য শতরানের দেখা পাননি শ্রীলংকান সাবেক অধিনায়ক ম্যাথিউস। ফেরেন ৯০ বলে ৮৭ রানে। ঠিক পরের বলে আকিলা ধনাঞ্জয়ার উইকেট তুলে নেন সৌম্য। তবে শেষ দুই বলে ডি সিলভার ব্যাক টু ব্যাক বাউন্ডারিতে শ্রীলংকার স্কোর দাঁড়ায় ২৯৪।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা: ৫০ ওভারে ২৯৪/৮ (ম্যাথিউস ৮৭, মেন্ডিস ৫৪, করুনারত্নে ৪৬, কুশল পেরেরা ৪২, শানাকা ৩০, শিহান জয়সুরিয়া ১৩, ডি সিলভা ১২*; সৌম্য ৩/৫৬, শফিউল ৩/৬৮, রুবেল ১/৫৫, তাইজুল ১/৩৪)।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সিরিজ কলম্বো-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×