বোলার হিসেবে অভিষেক হলেও ব্যাটিংয়ে সফল ৫ তারকার গল্প

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

শোয়েব মালিক-শহীদ আফ্রিদি-সনৎ জয়সুরিয়া-স্টিভ স্মিথ-ক্যামেরন হোয়াইট। ফাইল ছবি

ক্রিকেটে হাতেখড়ি বোলিং নিয়ে। ক্যারিয়ারের শুরুতে বল হাতেই মাঠ মাতিয়েছেন এমন অনেক ক্রিকেটার। অথচ সময়ের পরিবর্তনে, ভালো কোনো কোচ বা ক্রিকেট বিশ্লেষকের পরামর্শে হয়ে ওঠেন ব্যাটসম্যান।

ব্যাটসম্যান হিসেবেই বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করেছেন এমন অনেক তারকা ক্রিকেটার রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো এমন ৫ জনকে যারা ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের নামে মহিয়ান। ভারতীয় ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ক্রিকেটট্রেকার অবলম্বনে আসুন জেনে নিই সেই তারকাদের গল্প-

শহীদ আফ্রিদি

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা। ইনিংসের শুরুতে ব্রেক থ্রু তথা তড়িঘড়ি উইকেট শিকারের জন্য পাকিস্তান দলে তার বিশেষ কদর ছিল। 

আফ্রিদির অভিষেক হয়েছিল লেগস্পিনার হিসেবে। কিন্তু ব্যাটিং অনুশীলনে সেই সময়কার জনপ্রিয় তারকা ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক সাঈদ আনোয়ারের চোখে লেগে যায়। নিজের সঙ্গে তরুণ আফ্রিদিকে নিয়ে উদ্বোধনী ব্যাটিংয়ে নামানোর সিদ্ধান্তটাও সাঈদ আনোয়ারেরই। 

প্রথম দিকে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন যে, একজন লেগ স্পিনারকে কেন সাঈদ আনোয়ার ওপেন করাচ্ছেন?

আফ্রিদির ব্যাটিং স্টাইল অসাধারণ।  তিনি মাঝে মাঝে গুগলির সঙ্গে লেগ ব্রেকও করতে পারেন।বোলিংয়ে অসাধারণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, ক্রিকেট বিশ্বে তার জনপ্রিয়তা কেবলমাত্র আগ্রাসী এবং বিনোদনমূলক ব্যাটিংয়ের কারণে।

১৯৯৬ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে মাত্র ৩৭ বলে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কায় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন শহীদ আফ্রিদি। তার সেই রেকর্ ১৭ বছর স্থায়ী ছিল। এরপর ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করে নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার কোরি আন্ডারসন। ঠিক এক বছর পর ২০১৫ সালে ৩১ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং দানব এবি ডি ভিলিয়ার্স। 

পাকিস্তানের হয়ে ২৭ টেস্ট, ৩৯৮ ওয়ানডে আর ৯৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ১১টি সেঞ্চুরির সাহায্যে ১১ হাজার ১৯৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতে আফ্রিদি শিকার করেন ৫৪১ উইকেট।

স্টিভ স্মিথ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে  অভিষেকের পর থেকেই অসাধারণ পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন স্টিভ স্মিথ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন নম্বর পজিশন তথা ওয়ান ডাউনে নিয়মিত ব্যাটিং করে যাচ্ছেন সাবেক এ অধিনায়ক। 

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে আর আগস্টে টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় স্মিথের। জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান স্মিথ।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার শেন ওয়ার্নের সঙ্গে স্মিথকে তুলনা করেছিলেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক। লেগ স্পিনার হিসেবে খেলার সময় স্মিথ ৮ নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করতেন। 

২০১৩ সালে ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ সিরিজটি স্মিথের ক্যারিয়ারে পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সেই সিরিজে নিজেকে একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে  ইতিমধ্যে তিন ফরম্যাটে ২১৩ ম্যাচ খেলে ৩৩টি সেঞ্চুরিতে ১০ হাজার ৭২৬ রান করেছেন।

একজন ব্যাটসম্যান হিসাবে স্মিথ আধুনিক প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাছে রোল মডেল হয়ে আছেন। বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা তিন ব্যাটসম্যান হলেন স্টিভ স্মিথ, বিরাট কোহলি ও কেন উইলিয়ামসন। 

ক্যামেরন হোয়াইট

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একজন লেগ স্পিনার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ক্যামেরন হোয়াইট। ব্র্যাড হগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ক্যামেরন হোয়াইট দেশের সেরা লেগ স্পিনার হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়েছিলেন।

২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিডনিতে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় ক্যামেরন হোয়াইটের। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে আইসিসি বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে ওয়ানডে আর অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে ব্যাঙ্গালুরুতে টেস্ট অভিষেক হয় তার। তবে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না করতে পারায় মাত্র চার টেস্ট খেলে ২০০৮ সালের পর বাদ পড়ে যান তিনি। 

২০০৯ সালে ইংল্যান্ড সফরে হোয়াইট নিজেকে ব্যাটসম্যান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ইংলিশদের ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন হোয়াইট। সাউদাম্পটনে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন তিনি। মাইকেল ক্লার্ক অবসর নেয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসাবে ক্যামেরন হোয়াইটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে দল থেকেই বাদ পড়েছিলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৯১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে দুই সেঞ্চুরি আর ১১টি ফিফটির সাহায্যে ৩৩.৯৭ গড়ে ২ হাজার ৭২ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। আর বল হাতে ওয়ানডেতে শিকার করেন ১২ উইকেট। 

সনাৎ জয়সুরিয়া

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সনাৎ জয়সুরিয়া। লংকান এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ার শুরু হয় বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে। ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ বছর বোলার হিসেবেই জাতীয় দলে বিবেচিত ছিলেন তিনি।

পরে তিনি ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বোলিংয়ের পাশাপাশি মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করতেন। মিডল অর্ডারে ভালো করায় তাকে সুযোগ দেয়া হয় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেট ইতিহাসে নানা রেকর্ডের অংশীদার হন জয়সুরিয়া। ওপেনার হিসেবেই শ্রীলংকার এ ক্রিকেটার কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন।

ক্রিকেট  ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারের পরে ওয়ানডেতে ১৩ হাজার ৪৩০ রান সংগ্রহ করে দ্বিতীয় পজিশন হিসেবে আছেন জয়সুরিয়া। শ্রীলংকার হয়ে ১১০টি টেস্ট, ৪৪৫টি ওয়ানডে আর ৩১ টি-টোয়েন্টিতে ৪২টি সেঞ্চুরিতে সব মিলে ২১ হাজার ৩২ রান করেন তিনি। আর অফ স্পিনে শিকার করেন ৪৪০ উইকেট।  

শোয়েব মালিক

সদ্য শেষ হওয়া ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন ৩৭ বছর বয়সী পাকিস্তানি এ তারকা ক্রিকেটার। পাকিস্তানের হয়ে ২০ বছরের ক্যারিয়ারে শোয়েব মালিক একজন নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 

১৯৯৯ সালের অক্টোবরে ১৭ বছর বয়সে অফ স্পিনার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মালিকের। পাকিস্তানের কিংবদন্তি স্পিনার সাকলাইন মুশতাকের মতো শোয়েব মালিকের বোলিং অ্যাকশন ছিল। তিনি সাকলাইনের মতো দুসরা বোলিংও করতে পারতেন।

২০০৪ সালে বোলিং অ্যাকশন সন্দেহভাজন হয়। পরে অবশ্য অ্যাকশন শুধরিয়ে ফের বোলিংয়ের অনুমতি পান তিনি। পাকিস্তান ক্রিকেট দল শোয়েব মালিকের ব্যাটিং প্রতিভাকে কাজে লাগায়। ওপেনার হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। একজন ওপেনার, তিন নম্বরের ব্যাটসম্যান, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এমনকি ফিনিশার হিসাবেও দুর্দান্ত ছিলেন শোয়েব মালিক।

পাকিস্তানের হয়ে ৩৫ টেস্ট, ২৮৭ ওয়ানডে আর ১১১টি-টোয়েন্টিতে ১২টি সেঞ্চুরির সাহায্যে ১১ হাজার ৬৯৫ রান করেন শোয়েব মালিক। আর বল হাতে ২১৮ উইকেট শিকার করেন পাকিস্তানের সাবেক এ অধিনায়ক।