অনেক বড় একজন ব্যাটসম্যান হতে চাই: তাওহিদ হৃদয়

  আল-মামুন ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

তাওহিদ হৃদয়
তাওহিদ হৃদয়। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন তাওহিদ হৃদয়। সদ্যশেষ হওয়া শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন যুব দলের এ তারকা ব্যাটস্যান। যুগান্তরের স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্পসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন হৃদয়। তার সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বম অংশ তুলে ধরা হল-

যুগান্তর: শ্রীলংকার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরি নিয়ে যদি কিছু বলেন?

তাওহিদ হৃদয়: আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো হয়েছে। যেভাবে চেয়েছি, সেভাবেই খেলতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আশা করি এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।

যুগান্তর: লংকানদের বিপক্ষে চার ম্যাচে তিন সেঞ্চুরিতে ৪৩১ রান করলেন। ধারাবাহিক রান করে যাওয়ার রহস্য নিয়ে যদি বলেন?

তাওহিদ হৃদয়: একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে রান করাই আমার কাজ। সব সময়ই চেষ্টা করি রান করতে। সেদিকেই আমার ফোকাস থাকে। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর টার্গেট থাকে বড় ইনিংস খেলার। এই সিরিজে সেটা করতে পেরে ভালো অনুভব হচ্ছে। আশা করছি এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারব।

যুগান্তর: শ্রীলংকার বিপক্ষে হোম সিরিজ শুরুর আগে ব্যক্তিগতভাবে আপনার কি টার্গেট ছিল?

তাওহিদ হৃদয়: আসলে আমার কোনা টার্গেট ছিল না। একটাই লক্ষ্য ছিল ভালো খেলা।

যুগান্তর: অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার হিসেবে হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়া নিয়ে যদি কিছু বলেন?

তাওহিদ হৃদয়: রেকর্ড আসলে এমন একটা জিনিস, আজ আমার হল আগামী দিন অন্য কেউ ভাঙবে এটাই স্বাভাবিক। তবে রেকর্ড গড়লে যে কোনো খেলোয়াড়েরই ভালো অনুভব হয়।

যুগান্তর: হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির পর নিজ দল এবং প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে কেমন সারা পেলেন?

তাওহিদ হৃদয়: সবাই অনেক সাপোর্ট করছে। অনেক অভিনন্দন পেয়েছি। খালেদ মাহমুদ সুজন ভাই (জাতীয় দলের ম্যানেজার) ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ওনার কাছ থেকে অভিনন্দন পাওয়া আসলে অনেক ভালো ব্যাপার। এতে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। আশা করছি সামনে আরও ভালো খেলতে পারব।

যুগান্তর: ক্রিকেটে সাফল্য পেতে কাকে ফলো করেন?

তাওহিদ হৃদয়: আমি আসলে কাউকে ফলো করি না। আমার ফেভারিট ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। খেলা ও পড়াশুনার দিক থেকে ওনাকে ভালো লাগে।

যুগান্তর: বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে আপনার পছন্দের ক্রিকেটার কে?

তাওহিদ হৃদয়: ইংল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার জো রুট। ওনার খেলার স্টাইল খুব ভালো লাগে।

যুগান্তর: ফুটবলারদের মধ্যে আপনার পছন্দের খেলোয়াড় কে?

তাওহিদ হৃদয়: নেইমার।

যুগান্তর: কোন ক্রিকেটারের মতো হতে চান?

তাওহিদ হৃদয়: আমি আমার মতোই হতে চাই, কারো মতো নয়।

যুগান্তর: ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আপনার টার্গেট কী?

তাওহিদ হৃদয়: ওরকম কোনো টার্গেট এখনও সেট করিনি। ভবিষ্যতে অনেক বড় একজন ব্যাটসম্যান হতে চাই। এটাই এখনও পর্যন্ত টার্গেট।

যুগান্তর: অনেক বড় ব্যাটসম্যান বলতে কার মতো হতে চান, বিরাট কোহলি, স্টিভ স্মিথ, নাকি তামিমের মতো?

তাওহিদ হৃদয়: যারা নিয়মিত রান করেন তাদের মতো হতে চাই। দলের হয়ে ধারাবাহিক অবদান রাখতে চাই। বিরাট কোহলি বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, ওনার মতো হতে চাই এ কথা বলব না। ওনার সঙ্গে তুলনায়ও যাব না। আমি আমার মতো করেই বড় তারকা ব্যাটসম্যান হতে চাই।

যুগান্তর: আপনাদের পরিবার নিয়ে যদি কিছু বলেন?

তাওহিদ হৃদয়: বগুড়া শহরে আমার জন্ম। বাবা এনামুল হক জেলা খাদ্য অধিদফতরে সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। আমরা দুই বোন ও এক ভাই। বড় বোন উম্মে রুমান ইডেন কলেজে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। ছোট বোন ক্লাস সিক্সে পড়ে। মা তাহমিনা আক্তার গৃহিণী।

যুগান্তর: আপনার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্প বলুন?

তাওহিদ হৃদয়: সাত বছর বয়স থেকেই টেপ টেনিসে ক্রিকেট খেলা শুরু। বাড়ির পাশের মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রিকেট নিয়েই মেতে থাকতাম।

যুগান্তর: কার অনুপ্রেরণায় ক্রিকেটার হয়ে ওঠা?

তাওহিদ হৃদয়: আমার মার জন্যই এতদূর আসা। বাবা ক্রিকেট খেলার জন্য সমর্থন দিতেন না। মা আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে খেলার মাঠে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন। আমার বাবা সরকারি চাকরি করেন ঠিক আছে, কিন্তু ওনার অত টাকা-পয়সা নেই। মা আমাকে ভালো একটা একাডেমিতে ভর্তি করার জন্য আমাদের ৩৩ শতাংশ জমি বন্ধক রাখেন। ২০১১-১২ সালের দিকে বনশ্রীর একটি একাডেমিতে ৩০ হাজার খরচ করে ভর্তি করেদেন।

ওখানে আমি এক মাস থেকে চলে এসেছি। তার কারণ যে মাঠে প্রাকটিস করতাম সেখানে অনেক বেশি ধুলা ছিল। মাঠে ঘাস ছিল না। ধুলায় আচ্ছন্ন ছিল। আমার আবার অ্যালার্জি আছে। যে কারণে টিকতে পারছিলাম না। তাছাড়া ওই ক্লাব থেকে আমাদের যে বাসায় রাখা হয়েছিল সেখান থেকে মাঠে আসতে প্রতিদিন ২০ মিনিট হেঁটে যেতে হতো। ওখানে ভর্তি হওয়ার পর তেমন কোনো অনুশীলন পাইনি। আমি আসলে প্রতারনার শিকার হয়েছিলাম। যে কারণে এক মাস থেকেই চলে আসি।

যুগান্তর: বন্ধক রাখা সেই জমি ফেরত পেয়েছেন?

তাওহিদ হৃদয়: হ্যাঁ, গত বছর আমি জমিটা ফেরত নিয়েছি। ধানের ওপর বন্ধক রাখা হয়েছিল। যে কারণে অতিরিক্ত কোনো টাকা দিতে হয়নি। মূল টাকা দিয়েই ফেরত পেয়েছি।

যুগান্তর: ক্রিকেটে আপনার হাতে খড়ি কোথায়?

তাওহিদ হৃদয়: বগুড়ায় ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু। ২০০৭ সাল থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু। তখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তাম। ২০১৬ সালে মহিউদ্দিন স্যারের মাধ্যমে রাজশাহীর বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হই। আমার সেই স্যার কিছুদিন আগে মারা গেছেন। ওনার মাধ্যমে ক্লাব ক্রিকেট শুরু।

যুগান্তর: কখন মনে হয়েছে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

তাওহিদ হৃদয়: ২০১৬ সালে প্রথম বিভাগে শাইন পুকুরের হয়ে একটা সেঞ্চুরি আর ৭টি ফিফটির সাহায্যে সর্বোচ্চ ৬৮৮ রান করেছিলাম। তারপর থেকেই মনে হয়েছে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়।

যুগান্তর: ফুটবল, হকিসহ অন্য সব ইভেন্টে না গিয়ে ক্রিকেট কেন বেছে নিলেন?

তাওহিদ হৃদয়: ছোট থেকেই আমার মামার (সাজ্জাদ) সঙ্গে গাছের ডাল ভেঙে ক্রিকেট খেলতাম। ব্যাট করতে খুব পছন্দ করতাম। ব্যাট করার সখ থেকেই অন্য ইভেন্টে না গিয়ে ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। তাছাড়া বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুলে ক্লাস সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত পড়া অবস্থায় স্কুল ক্রিকেট দুর্দান্ত খেলেছি। বিভিন্ন স্কুলের সঙ্গে খেলায় আমরা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। একবার রানার্স আপ হয়েছি।

যুগান্তর: আপনার ক্যারিয়ারের স্মরণীয় ইনিংস নিয়ে যদি বলেন?

তাওহিদ হৃদয়: ২০১৬-১৭ সালে প্রথম বিভাগের হয়ে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমবার খেলার সুযোগ পাই। তার আগে আমি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ দলে থাকার পরও বাদ পড়েছিলাম।

মিরপুরে খেলার সময় আমাদের শাইনপুকার দলের কোচ খালেদ মাহুমদু সুজন স্যার আমাকে বলেছেন, তুমিতো যুব এশিয়া কাপের দল থেকে বাদ পড়েছ, মিরপুরে ভালো কিছু করে দেখাও। তার কারণ এখানে বিসিবির অনেক অফিসিয়ালরা খেলা দেখেন। ভালো খেললে সুযোগ হবে।

ওই ম্যাচে পেগাসাসের বিপক্ষে ৫৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলাম। ওই ইনিংস খেলার পরই আমি আবার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে কামব্যাক করি। ওটাই আমার ক্যারিয়ারের এখনও পর্যন্ত সেরা ইনিংস। তখন আমি চাপের মধ্যে খুব ভালো খেলেছিলাম।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×