রানের খাতাই খুলতে পারেননি ৩ ‘ম’, বিপাকে বাংলাদেশ

  স্পোর্টস ডেস্ক ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:০২ | অনলাইন সংস্করণ

রানের খাতাই খুলতে পারেননি ৩ ‘ম’,  বিপাকে বাংলাদেশ

টেস্ট মানেই ব্যাটসম্যানের খেলা। রানের তেমন তাড়া নেই, বলকে দেখেশুনে খেলতে খেলতে বোলারকে ক্লান্ত করে ফেলা। আর সেই টেস্টেই মুড়িমুড়কির মতো পড়ছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা।

গোলাপি বলের দিবারাত্রির ঐতিহাসিক টেস্টে যেন বল নয় চোখে শরষে ফুল দেখছেন টাইগাররা। বল মাঠে গড়ানোর আগে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, লাল-সাদা বলের তুলনায় গোলাপি বলে সুইং বেশি ধরবে। কিন্তু দুপুরে খেলা শুরুর পর বলে সেভাবে সুইং ধরছিল না ভারতের পেসারদের। তবে বাড়তি গতি-কাটার পাচ্ছেন তারা।

আর তাতেই কাটা পড়ছেন একের পর এক ব্যাটসম্যানরা। সবশেষ সাজঘরে ফিরলেন দলের সিজন ক্যাম্পেইনার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সবারই যেন সাজঘরে ফেরার বড্ড তাড়া। শুরুতে ইমরুল কায়েসই দেখিয়ে দিলেন কীভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসতে হয়। অধিনায়ক মমিনুল নিজের নামের সুবিচারই করতে পারেননি। গোলাপি বল মাত্র সাতবার সহ্য করতে হলো তাকে। ডাক মেরে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক পিঙ্ক টেস্টের প্রথম ইনিংসে।

অধিনায়ক থেকেও কম সময় নিলেন মোহাম্মদ মিথুন। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নিজের দ্বিতীয় বলে বোল্ড মিঠুন। যথারীতি তিনিও শূন্য রানে আউট।

এরই মধ্যে গোলাপিতে সুইংয়ের খেলায় মেতে উঠলেন উমেশ যাদব, ইশান্ত ও মোহাম্মদ সামি।

তিন ও চার নম্বর ব্যাটসম্যানের দুজনেই শূন্য রানে আউট! ১৭ রানেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ! তবুই সমর্থকদের ভরসা ছিল দলের মিস্টার ডিপেন্ডেবল ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের ওপর। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে নেমে দলকে আরও খাদের কিনারে নিয়ে গেলেন মুশফিক।

তিনিও আগের দুই সতীর্থর মতো ফিরলেন শূন্য রানে। অর্থাৎ তিন-চার ও পাঁচ, দলের এই তিন ব্যাটসম্যান ফিরলেন স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই!

টেস্ট ক্রিকেটে টানা তিন ব্যাটসম্যান শূন্য রানে আউট! এ যেন গোলাপি বলের থাবায় লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ শিবির।

বিশ্লেষকরা আগেই মত দিয়েছিলেন, গোলাপি বল ব্যাটসম্যানদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে। সুইং ধরবে বেশি। দেখেশুনে খেলতে হবে। বলকে আগে ব্যাটে জমাতে হবে।

সেসব শিখেই আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন টাইগাররা। কিন্তু এ কি হলো শুরুর পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনজনই শূন্য রানে ফিরলেন?

টসে জিতে ব্যাটিং নেয়াই কাল হলো বাংলাদেশের সে প্রশ্ন এখন ক্রিকেটভক্তদের।

যদিও ভারতের তিন পেসারকে শুরুর ছয় ওভার পর্যন্ত ভালোই সামাল দিতে পেরেছিল দুই ওপেনার সাদমান ও ইমরুল।

প্রথম ছয় ওভার খেলা দেখে অনেকেই বলেছিলেন গোলাপি বল তেমন ‘ভয়ঙ্কর’ কিছু নয়। কিন্তু সপ্তম ওভারে ইমরুল কায়েসের আউটের পরই বাংলাদেশ দলে নদীর বাঁধ ভাঙার মতো ভাঙন ধরে।

৬.৩ ওভারের সময় ১৫ রানে আটউ হন ইমরুল। এর পর যেন বাংলাদেশ ইনিংসে বোমা ফেলেন ভারতীয়রা। ১০.১ ওভারে ১৭ রানে ডাগআউটে ফেরেন মুমিনুল হক। একই ওভারের তৃতীয় বলে শূন্য রানে ফিরলেন মিঠুন। মুশফিক ফিরলেন পরের ওভারেই। স্কোরবোর্ডে তখন যোগ হয়েছে মাত্র ২৬ রান, কিন্তু নেই ৪ উইকেট।

তিনজন রানের খাতা না খুলে সাজঘরে ফিরলেও ভাবা হচ্ছিল ওপেনার সাদমান এই দুঃসময় সামলে নিতে পারবেন।

কিন্তু সেই তিনিও সিনিয়রদের পথেই হাঁটলেন। ৫২ বল খেলার পরে ২৯ রানে উমেশ যাদবের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরলেন।

মাত্র ১৫ ওভারে ৩৮ রানে বাংলাদেশের ৫ উইকেট হারাল। এই পাঁচ উইকেটের তিনটি উইকেটই নিয়েছেন উমেশ যাদব। ইশান্ত শর্মা ও মোহাম্মদ শামি একটি করে উইকেট পান।

এক কথায় বলা যায়, মমিনুল, মিঠুন আর মুশফিক এই তিন ‘ম’ তে ফিকে হয়ে গেল ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পিংক টেস্ট।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশের ভারত সফর-২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×