আমি কর্মকর্তা হলেও তাই করতাম : টিটু

  আল-মামুন ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

সাইফুল বারী টিটু

খেলোয়াড়দের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে সাইফুল বারী টিটুকে কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী। চুক্তি শেষ হওয়ার আগে বরখাস্ত হলেও এ নিয়ে হতাশ নন জাতীয় দলের সাবেক এ কোচ। যুগান্তর অনলাইনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন দেশের অন্যতম সেরা এ কোচ। তার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

যুগান্তর : ক্লাবের এমন সিদ্ধান্তে আপনি কতটা হতাশ? সাইফুল বারী টিটু : এটা আসলে নরমাল প্রাকটিস। একটা টিমের রেজাল্ট ভালো না হলে এমনই হয়। আমি মনে করি, ক্লাব ঠিকই আছে। তাদের আশা ছিল। ১৭ ম্যাচ পর্যন্ত আমরা এক নম্বরে ছিলাম। তিনটা ম্যাচে ৮ পয়েন্ট লস করায় হেড কোচ হিসেবে এই দায়িত্ব আমাকে নিতেই হবে। ক্লাবের রাইট আছে যখন-তখন আমাকে সরিয়ে দেয়ার। ক্লাবের জায়গায় আমি থাকলে একই কাজ করতাম। এটা প্রফেশনাল ডিসিশন। আমাদেরও সেভাবেই নিতে হবে। এখানে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। প্লেয়াররাও চেষ্টা করেছে। ওরা মাঠে কিছু করতে না পারলে সেই দায়ভার আমাকে নিতেই হবে।

যুগান্তর : পারফরম্যান্স ভালো হলে প্লেয়ারদের সুনাম হয় অথচ ব্যর্থতার দায়ভার চলে যাসে কোচের ওপর। এটাকে কীভাবে দেখেন?

সাইফুল বারী টিটু : এটা সারা বিশ্বে একই রকম। কোচিংয়ে যারা আসে তারা জেনেই আসে। এ মুহূর্তে কোনো না কোনো ক্লাবের কোচের চাকরি যাচ্ছে বা যাবে (হাসি)। এটা খুব নরমাল প্রাকটিস, প্লেয়াররা থাকবে অনলি কোচকে চলে যেতে হয়।

যুগান্তর : আপনি জাতীয় দলের কোচ ছিলেন, ঘরোয়া ফুটবলেও বেশ জনপ্রিয়তা আছে। ক্লাবের এমন সিদ্ধান্তে আপনি কি শকট হয়েছেন? সাইফুল বারী টিটু : আমি খুব আপসেট হচ্ছি ক্লাবের ডিসিশনের ব্যাপারে। লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে আমার খুব তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। কাছাকাছিও গিয়েছিলাম। এটাই আরকি। আমার কাছে খুব খারাপ লাগছে। তবে ক্লাবের ডিসিশন রাইট। আমি ক্লাবের কর্মকর্তা হলে এই ডিসিশনই নিতাম।

যুগান্তর : আপনার কি মনে হয় ফুটবল ক্যারিয়ারে বাজে সময় যাচ্ছে? সাইফুল বারী টিটু : বাজে দিন বলব না। আমরা তো ১৭ রাউন্ড পর্যন্ত এক নম্বরেই ছিলাম। আমরা হ্যাপি ছিলাম। তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আরো কিছু যে দরকার। আর এগুলো হলো লার্নিং। এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আর আমার তো আসলে ক্লাব কোচিংয়ে অভিজ্ঞতা মারুফুল হকের মতো বেশি না। ভবিষ্যতের জন্য এটা আমার শিক্ষণীয় ব্যাপার। এখানে আমি কেন পারলাম না এটা নিয়ে অ্যানালাইস করতে হবে। সত্য বললে মুক্তিযোদ্ধার ম্যাচটা থেকে আমরা ব্যাকফুটে চলে গেছি। আমাদের চারটা প্লেয়ার ছিল না। তিনজন সাসপেনশনে ছিল। আরেকটা দিক হলো আমাদের টিমে গোল করার মতো তেমন কোনো খেলোয়াড় ছিল না। এ জন্যই প্রত্যেক ম্যাচে দেখা গেছে ১-০ এই টাইপের রেজাল্ট হয়েছে। এক গোলের ভরসা নেই এটা সবাই বলে। স্কোরিংটা আরো ভালো হইলে পারতাম। তবে কোচ হিসেবে এটার দায়িত্ব আমারই। আমি বলব না যে, বাজে সময় গেছে। এখানে প্লেয়ারদের এবং অফিসিয়ালদের সঙ্গে অনেক ভালো সময় কাটাইছি।

যুগান্তর : অনেক সময় আমরা কিন্তু অল্পতেই রেজাল্ট আশা করি...? সাইফুল বারী টিটু : এটা আসলে কোচদেরও ব্যাপার। যখন আমার সঙ্গে চট্টগ্রাম আবাহনীর চুক্তি হয়, তখন যদি আমি বলতাম এক বছর না, দুই বছরের চুক্তি করব, তাহলে হতো। রেজাল্ট ভালো না হলে মাঝপথে আপনাকে সরে যেতেই হবে এটাই নিয়ম। এটা নিয়ে ক্লাবকে দোষ দেয়া যায় না। তবে ক্লাব যদি একটা জিনিস চিন্তা করে যে, আমার এখনি রেজাল্ট দরকার নেই। দুই বছর পরে রেজাল্ট চাই। যেমন আমাদের জাতীয় দলের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে। এখন কথা হলো আমরা তো অল্পতেই রেজাল্ট চাইতে অভ্যস্ত। সবাই এভাবেই চায়। এটাকে পেশা হিসেবে নিতে হলে আপনাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে। এখানে কর্মকর্তাদের দোষ দেয়ার কিছু নেই। রেজাল্ট দিতে পারলে আপনাকে মাথায় নিয়ে রাখবেই।

যুগান্তর : চুক্তি অনুসারে আপনার কি সময় শেষ হয়েছে? সাইফুল বারী টিটু : টাইমটা আমার এই ১৭ জানুয়ারিতে এক বছর হওয়ার কথা। গত বছর ১৭ জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে আমার চুক্তি হয়েছিল।ওই হিসেবে সব ঠিক আছে। বাকি যেগুলো আছে, ওনারা হয়তো সেটেলমেন্ট করবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter