৭ গুণ বড় ভারতকে বিধ্বস্ত করেছি বারবার: ইমরান খান

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৩:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

সেই কবে ক্রিকেট ছেড়েছেন। রাজনীতির ময়দানেই এসেছেন ২ যুগ হতে চললো। এর মাঠ গরম করে হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তবু খেলাটির  প্রতি টান একটুও কমেনি ইমরান খানের। এ যেমন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ২০২০-এর বক্তৃতায়ও ক্রিকেটীয় উদাহরণ টেনে আনলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে অংশ নেন ইমরান রান। সেখানে দেশের অতীত-বর্তমানের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যত সম্ভাবনা নিয়েও উদ্ধৃতি দেন। এসব কথা বলতে গেয়েই ক্রিকেট তথা খেলাধুলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

ইমরান খান বলেন,৬০ এর দশকে সবক্ষেত্রেই তরতর করে উন্নতি করছিল পাকিস্তান। এটি ছিল এশিয়ার রোল মডেল। আমি আশা নিয়ে বেড়ে উঠছিলাম। কিন্তু আমাদের আশাভঙ্গ হয়। কারণ,দেশে গণতন্ত্র পুরোপুরি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় এলে যেটুকু ছিল,সেটুকুও ভেঙে পড়ে।

তিনি বলেন, যখন আমি ক্রিকেট খেলতাম, তখন ভারত আমাদের চেয়ে সাত গুণ বড় ছিল। তবু নিয়মিত আমরা তাদের ধবলধোলাই করতাম। এমনকি হকি এবং অন্যান্য খেলাতেও তারা পাত্তা পেত না। আমরা সব খেলাতেই সর্বোচ্চ মুন্সিয়ানা দেখাতাম। আমরা ছিলাম গ্রেট।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন,ওই সময় আমাদের দেশ ধনী ছিল। মানব ও প্রাকৃতিক সম্পদে দেশ ভরপুর ছিল। কিন্তু হঠাৎ গ্রাস করা দুর্নীতি আমাদের উন্নয়নের রাস্তা থেকে ছিটকে ফেলে দেয়। কয়েক দশক ধরে এ ধারা অব্যাহত থাকে। এতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায়।

পাকিস্তানের হট সিটে এখন আসীন ইমরান। সর্বোচ্চ ক্ষমতাসনে বসে দেশটির ভবিষ্যত সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি। এসময় পাক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলে ধরেন খান। সেজন্য ফোরামে উপস্থিত দেশগুলোর নেতাদের কাছে প্রকল্প প্রার্থনা করেন তিনি।

ইমরান বলেন,আমাদের প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ আছে। তন্মধ্যে সোনা অন্যতম। দেশ তামা ও কয়লায় সমৃদ্ধ। কিন্তু অর্থাভাবে আমরা উত্তোলন করতে পারছি না। আমি নিশ্চিত, দুটি ব্লক থেকেই ২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।    

খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে অভিজাত অলরাউন্ডার ছিলেন খান। ৮৮ টেস্টে ৩৬২ উইকেট শিকার করেন তিনি। পাশাপাশি সংগ্রহ করেন ৩৬২ উইকেট। আর ১৭৫ ওয়ানডেতে ঝুলিতে ভরেন ১৮২ উইকেট। তার উইলো থেকে আসে ৩৭০৯ রান। ইমরানের অসামান্য নেতৃত্বেই ভারতকে টেস্ট সিরিজে হারায় পাকিস্তান। পাশাপাশি ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জেতে  তারা। ঠিক এরপরই ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন তিনি। সঙ্গে গায়ে সেঁটে দেন কিংবদন্তির তকমা।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস/দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।