সংকটের মুহূর্তেও হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করছি: সৌম্য
jugantor
সংকটের মুহূর্তেও হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করছি: সৌম্য

  আল-মামুন  

০৮ এপ্রিল ২০২০, ২০:৫৯:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। সংবাদ মাধ্যম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ বুলালেই ভেসে আসছে মৃত্যুর খবর। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে নববধূকে নিয়েও হাসি-খুশিতে থাকা দুরূহ ব্যাপার। যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটিই বলেছেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার সৌম্য সরকার। এ ওপেনারের নেয়া সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল যুগান্তরের পাঠকদের জন্য।

যুগান্তর: করোনাভাইরাসে পুরো বিশ্ব স্থবির। এই অবসর সময়ে কী করছেন?

সৌম্য সরকার: কি আর করবো ভাই, গৃহবন্দি হয়ে আছি। মুভি দেখা, বউয়ের সঙ্গে ক্যারাম আর লুডু খেলে সময় কাটাচ্ছি। বিকাল হলে ছাদে ঘুড়ি ওড়াই। এ ছাড়া পরিবারের রান্নার কাছে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র এগিয়ে দিয়ে হেল্প করছি।

যুগান্তর: করোনার প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনেও পড়েছে, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া সব খেলাই বন্ধ। এই মুহূর্তে ফিটনেস ধরে রাখতে কি করছেন?

সৌম্য সরকার: আসলে এমন পরিস্থিতিতে ফিটনেস ধরে রাখা সত্যিই কষ্টকর। মাঠে যেভাবে অনুশীলন করা যায়, সেটা কি আর ঘরে করা সম্ভব? হালকা কিছু ব্যায়াম করে ফিট থাকার চেষ্টা করছি।

যুগান্তর: করোনা মোকাবেলায় দেশবাসীর উদ্দেশে আপনার কী পরামর্শ?

সৌম্য সরকার: সরকারের যে নীতিমালা রয়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যে সব পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন- সেগুলো আমাদের এখন ঠিকঠাক পালন করা উচিত। নিজের এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসা থাকলে অবশ্যই আমাদের এখন সেসব নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। সবাই যদি ঘরে থাকে তাহলে আমার বিশ্বাস করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।

যুগান্তর: ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেছেন, দাম্পত্য জীবন কেমন কাটছে?

সৌম্য সরকার: ভালোই কাটছে (গম্ভীর স্বরে)

যুগান্ত: বৈবাহিক জীবন কতটা ইনজয় করছেন?

সৌম্য সরকার: এই কঠিন মুহূর্তে ইনজয়ের কোনো সুযোগ আছে? বন্দি জীবন কাটাচ্ছি ভাই, এখন আবার ইনজয়! সব সবময় টেনশনে  আছি। পুরো বিশ্বের যা অবস্থা, দেশে এবং আশপাশে যা হচ্ছে তাতে ভালো থাকার সুযোগ কোথায়। এতকিছুর পরও চেষ্টা করছি সব সময় হাসি-খুশি থাকার, পরিবারকে প্রফুল্ল রাখার। দ্রুত এই সমস্যা কেটে যাক সেই প্রার্থনাই করি।যুগান্তর: প্রিয়ন্তী দেবনাথ পূজার সঙ্গে কিভাবে পরিচয় হল?

সৌম্য সরকার: সেটা তো ভাই পুরনো কথা। ওর বোনের বিয়ের রিসিপশনের দিন ভোরবেলা পূজাকে আমি প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারপর থেকেই মন দেয়া-নেয়া। তবে ও খেলাধুলা অতটা পছন্দ করত না। আমি ভালো কিছু করলেই ওকে বলতাম। এভাবেই চলত আমাদের প্রেম নিবেদন।

যুগান্তর: ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আপনার ক্রিকেট রোল কি ছিল?

সৌম্য সরকার: শুরু থেকেই ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করতাম। ব্যাটিং করাই আমার নেশা ছিল। ব্যাটিং করতে ভালো লাগে।

যুগান্তর: কখন মনে হয়েছে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

সৌম্য সরকার: ২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে বিদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার পাসপোর্ট না থাকায় যেতে পারিনি। তখন এতটা খারাপ লেগেছিল তা বলে বুঝাতে পারব না। তখনই টার্গেট করি ক্রিকেটই হবে আমার পেশা। ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার পর জন্য তারপর থেকেই কঠোর পরিশ্রম শুরু করি।

যুগান্তর: কোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নামলে ভেতর থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়, সেরাটা উজাড় করে দেয়ার বেশি তাগিদ জাগে?

সৌম্য সরকার: আসলে আলাদা কোনো প্রতিপক্ষ নেই। মাঠে নামলে কার সঙ্গে খেলছি সেই দিকে চিন্তা না করে বরং আমি আমার মতো করে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। সব সময়ই টার্গেট থাকে দলের চাওয়া যেন পূরণ করতে পারি।যুগান্তর: কোন প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে নামলে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়, ভেতর থেকে বাড়তি চাপ অনুভব হয়?

সৌম্য সরকার: ওভাবে আসলে কখনই ভাবিনি। ভালো করার চিন্তা নিয়েই নামি। যতটুকু সময় উইকেটে থাকি চেষ্টা করি রান করার।

যুগান্তর: ওপেনিংয়ে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও বেশ পারদর্শী, কোন ব্যাটসম্যানকে আউট করার স্বপ্ন দেখেন?

সৌম্য সরকার: এমন কোনো টার্গেট আমার নেই। যে ব্যাটসম্যান স্ট্রাইকে থাকে তাকেই চেষ্টা করি দ্রুত আউট করে সাজঘরে ফেরাতে।

যুগান্তর: ব্যাটসম্যান নাকি বোলাররা বেশি শান্ত প্রকৃতির হয়?

সৌম্য সরকার: অবশ্যই ব্যাটসম্যান। বোলারদের চেয়ে ব্যাটসম্যানরা একটু শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে।

যুগান্তর: কোন ক্রিকেটারের মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখেন?

সৌম্য সরকার: (কিছুটা সময় ভেবে) সৌম্যর মতোই হতে চাই। অন্য করো মতো চাইলেও তো আর হতে পারব না। আমি আমার মতো করেই সেরা ক্রিকেটার হতে চাই।

যুগান্তর: আপনার পছন্দের খেলোয়াড় কে?

সৌম্য সরকার: ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিং। তার ব্যাটিং স্টাইল আমার কাছে খুব ভালো লাগে।

যুগান্তর: ক্যারিয়ারের শেষ দিকে নিজেকে কোন পজিশনে দেখতে চান?

সৌম্য সরকার: টার্গেট তো আছেই ভালো কিছু করার। তবে ওরকম কোনো লক্ষ্য সেট করিনি। যতদিন খেলব চেষ্টা করব নিজের এবং দলের সম্মান বজায় রাখতে। দেশের হয়ে সেরাটা উজাড় করে দেয়াই প্রধান টার্গেট।

সংকটের মুহূর্তেও হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করছি: সৌম্য

 আল-মামুন 
০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। সংবাদ মাধ্যম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ বুলালেই ভেসে আসছে মৃত্যুর খবর। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে নববধূকে নিয়েও হাসি-খুশিতে থাকা দুরূহ ব্যাপার। যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটিই বলেছেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার সৌম্য সরকার। এ ওপেনারের নেয়া সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল যুগান্তরের পাঠকদের জন্য।

যুগান্তর: করোনাভাইরাসে পুরো বিশ্ব স্থবির। এই অবসর সময়ে কী করছেন?

সৌম্য সরকার: কি আর করবো ভাই, গৃহবন্দি হয়ে আছি। মুভি দেখা, বউয়ের সঙ্গে ক্যারাম আর লুডু খেলে সময় কাটাচ্ছি। বিকাল হলে ছাদে ঘুড়ি ওড়াই। এ ছাড়া পরিবারের রান্নার কাছে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র এগিয়ে দিয়ে হেল্প করছি।

যুগান্তর: করোনার প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনেও পড়েছে, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া সব খেলাই বন্ধ। এই মুহূর্তে ফিটনেস ধরে রাখতে কি করছেন?

সৌম্য সরকার: আসলে এমন পরিস্থিতিতে ফিটনেস ধরে রাখা সত্যিই কষ্টকর। মাঠে যেভাবে অনুশীলন করা যায়, সেটা কি আর ঘরে করা সম্ভব? হালকা কিছু ব্যায়াম করে ফিট থাকার চেষ্টা করছি।

যুগান্তর: করোনা মোকাবেলায় দেশবাসীর উদ্দেশে আপনার কী পরামর্শ?

সৌম্য সরকার: সরকারের যে নীতিমালা রয়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যে সব পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন- সেগুলো আমাদের এখন ঠিকঠাক পালন করা উচিত। নিজের এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসা থাকলে অবশ্যই আমাদের এখন সেসব নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। সবাই যদি ঘরে থাকে তাহলে আমার বিশ্বাস করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।

যুগান্তর: ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেছেন, দাম্পত্য জীবন কেমন কাটছে?

সৌম্য সরকার: ভালোই কাটছে (গম্ভীর স্বরে)

যুগান্ত: বৈবাহিক জীবন কতটা ইনজয় করছেন?

সৌম্য সরকার: এই কঠিন মুহূর্তে ইনজয়ের কোনো সুযোগ আছে? বন্দি জীবন কাটাচ্ছি ভাই, এখন আবার ইনজয়! সব সবময় টেনশনে আছি। পুরো বিশ্বের যা অবস্থা, দেশে এবং আশপাশে যা হচ্ছে তাতে ভালো থাকার সুযোগ কোথায়। এতকিছুর পরও চেষ্টা করছি সব সময় হাসি-খুশি থাকার, পরিবারকে প্রফুল্ল রাখার। দ্রুত এই সমস্যা কেটে যাক সেই প্রার্থনাই করি।যুগান্তর: প্রিয়ন্তী দেবনাথ পূজার সঙ্গে কিভাবে পরিচয় হল?

সৌম্য সরকার: সেটা তো ভাই পুরনো কথা। ওর বোনের বিয়ের রিসিপশনের দিন ভোরবেলা পূজাকে আমি প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারপর থেকেই মন দেয়া-নেয়া। তবে ও খেলাধুলা অতটা পছন্দ করত না। আমি ভালো কিছু করলেই ওকে বলতাম। এভাবেই চলত আমাদের প্রেম নিবেদন।

যুগান্তর: ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আপনার ক্রিকেটরোল কি ছিল?

সৌম্য সরকার: শুরু থেকেই ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করতাম। ব্যাটিং করাই আমার নেশা ছিল। ব্যাটিং করতে ভালো লাগে।

যুগান্তর: কখন মনে হয়েছে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

সৌম্য সরকার: ২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে বিদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার পাসপোর্ট না থাকায় যেতে পারিনি। তখন এতটা খারাপ লেগেছিল তা বলে বুঝাতে পারব না। তখনই টার্গেট করি ক্রিকেটই হবে আমার পেশা। ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার পর জন্য তারপর থেকেই কঠোর পরিশ্রম শুরু করি।

যুগান্তর: কোনপ্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নামলে ভেতর থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়, সেরাটা উজাড় করে দেয়ার বেশি তাগিদ জাগে?

সৌম্য সরকার: আসলে আলাদা কোনো প্রতিপক্ষ নেই। মাঠে নামলে কার সঙ্গে খেলছি সেই দিকে চিন্তা না করে বরং আমি আমার মতো করে সেরাটা দেয়ারচেষ্টা করি। সব সময়ই টার্গেট থাকে দলের চাওয়া যেন পূরণ করতে পারি।যুগান্তর: কোনপ্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে নামলে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়, ভেতর থেকে বাড়তি চাপ অনুভব হয়?

সৌম্য সরকার: ওভাবেআসলে কখনই ভাবিনি। ভালো করার চিন্তা নিয়েই নামি। যতটুকু সময় উইকেটে থাকি চেষ্টা করি রান করার।

যুগান্তর: ওপেনিংয়ে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও বেশ পারদর্শী, কোনব্যাটসম্যানকে আউট করার স্বপ্ন দেখেন?

সৌম্য সরকার: এমন কোনো টার্গেট আমার নেই। যে ব্যাটসম্যান স্ট্রাইকে থাকে তাকেই চেষ্টা করি দ্রুত আউট করে সাজঘরে ফেরাতে।

যুগান্তর:ব্যাটসম্যান নাকি বোলাররা বেশি শান্ত প্রকৃতির হয়?

সৌম্য সরকার: অবশ্যই ব্যাটসম্যান। বোলারদের চেয়ে ব্যাটসম্যানরা একটু শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে।

যুগান্তর: কোনক্রিকেটারের মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখেন?

সৌম্য সরকার: (কিছুটা সময় ভেবে) সৌম্যর মতোই হতে চাই। অন্য করো মতো চাইলেও তো আর হতে পারব না। আমি আমার মতো করেই সেরা ক্রিকেটারহতে চাই।

যুগান্তর: আপনার পছন্দের খেলোয়াড় কে?

সৌম্য সরকার: ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিং। তার ব্যাটিং স্টাইল আমার কাছে খুব ভালো লাগে।

যুগান্তর: ক্যারিয়ারের শেষ দিকেনিজেকে কোনপজিশনে দেখতে চান?

সৌম্য সরকার: টার্গেট তো আছেইভালো কিছু করার। তবে ওরকম কোনো লক্ষ্য সেট করিনি। যতদিন খেলব চেষ্টা করব নিজের এবং দলের সম্মান বজায় রাখতে। দেশের হয়ে সেরাটা উজাড় করে দেয়াই প্রধান টার্গেট।