শচীন টেন্ডুলকারকেও বল করতে ভয় পাইনি: রুবেল হোসেন

  আল-মামুন ০৬ মে ২০২০, ২১:৪২:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

রুবেল হোসেন। ফাইল ছবি

রুবেল হোসেনের বোলিং নৈপূণ্যে ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ কোয়ার্টারফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। জাতীয় দলের এ তারকা ক্রিকেটার করোনাভাইরাসের এই সংকট মুহূর্তে যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন

যুগান্তর: করোনার এই সংকট মুহূর্তে কেমন আছেন?

রুবেল হোসেন: সারা বিশ্বে যা পরিস্থিতি, তাতে ভালো থাকার সুযোগ আছে! চেষ্টা করছি ভালো থাকার, পরিবারকে ভালো রাখার।

যুগান্তর: ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব খেলাই এখন বন্ধ, এমন পরিস্থিতিতে ফিটনেস ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

রুবেল হোসেন: আসলে আমরা যারা পেশাদার ক্রিকেটার তাদের এই মুহূর্তে কষ্ট হলেও ফিটনেস ধরে রাখতে হবে। সে জন্য প্রতিদিন চেষ্টা করে যাচ্ছি, ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও কিছু দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেগুলো ফলো করছি।

যুগান্তর: খেলাই যাদের আয়ের একমাত্র মাধ্যম তাদের জন্য এই পরিস্থিতি সামলানো কতটা কঠিন?

রুবেল হোসেন: জাতীয় দলের বাইরে থাকা যে সব খেলোয়াড়ের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেই সংসার চলে তারা এখন খুবই দুর্বিসহ জীবন পার করছেন। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যা কেটে যাক এবং আবার প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই খেলা শুরু হোক। তাহলে লোকাল ক্রিকেটাররা কিছুটা হলেও পারিশ্রমিক পাবে।

যুগান্তর: বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে বলে লালা ব্যবহারের প্রচলন উঠে যেতে পারে, আপনার কী মত?

রুবেল হোসেন: ছোট বয়সে যখন থেকে ক্রিকেট বলে খেলা শুরু করেছি, তখন থেকেই বল পালিশের জন্য মুখের লালার সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু হঠাৎ করে চাইলেই তো আর এটা ছেড়ে দেয়া যাবে না। তবে করোনা যেহেতু ছোঁয়াছে রোগ সেহেতু ভয় থেকেই যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস লালার প্রচল উঠে গেলেও নিশ্চয়ই অন্য কোনো উপায় বাতলিয়ে দেয়া হতে পারে। এমনও হতে পারে লালার পরিবর্তে ভেজলিন ব্যবহার করা হতে পারে।

যুগান্তর: জাতীয় দলের হয়ে অনেক ম্যাচ জয়ে অবদান রেখেছেন, আপনার ক্যারিয়ারের সেরা দুটি জয় নিয়ে যদি বলেন?

রুবেল হোসেন: আমি জাতীয় দলের হয়ে ১০১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছি। এর মধ্যে বেশ কিছু ম্যাচে আমরা জয় পেয়েছি। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টে আমার কিছু অসাধারণ ডেলিভারি ছিল। এ ছাড়া ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট শিকার করেছিলাম, সেই সিরিজে আমরা তাদের হোয়াইটওয়াশ করেছি। তবে বিশ্বকাপের ম্যাচটিকেই আমি এগিয়ে রাখব।

যুগান্তর: আপনার দেখা বিশ্বের অন্যতম সেরা তিনজন পেসার।

রুবেল হোসেন: বিশ্বে ভালো মানের অনেক পেস বোলার রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে আলাদা করা খুবই কঠিন। তবে জশপ্রিত বুমরাহ, ট্রেন্ট বোল্ট ও মিসেল স্টার্ক বিশ্বমানের। আমাদের মোস্তাফিজ ক্যারিয়ারের শুরুতে অসাধারণ বোলিং করেছিল, কিন্তু এখন সে রীদমে নেই।

যুগান্তর: বিশ্বের এমন কয়েকজন ব্যাটসম্যানের নাম বলুন, যারা হয়েতো বোলারদের সেভাবে পাত্তাই দেয় না?

রুবেল হোসেন: শচীন টেন্ডুলকার এবং ব্রায়ান লারা ক্লাসিক্যাল ব্যাটসম্যান ছিলেন। তারা যে কোনো বোলাররকে চাইলেই বাউন্ডারি ছাড়া করতে পারতেন। তাদের দাঁড়ানোর ভাবভঙ্গি ছিল অন্যরকম। এ ছাড়া এবি ডি ভিলিয়ার্স সেও বিশ্বমানের।

যুগান্তর: বিশ্বের এমন কোনো ব্যাটসম্যান আছেন যার বিপক্ষে বল করতে গিয়ে আপনার মনের মধ্যে ভয় কাজ করেছে?

রুবেল হোসেন: আমার ক্যারিয়ারের শুরুতে শচীন টেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বল করার সুযোগ হয়েছে। তিনি বিশ্বের একজন ক্লাসিক্যাল ব্যাটসম্যান ছিলেন। এ ছাড়া এবি ডি ভিলিয়ার্স, বর্তমানে বিরাট কোহলি, স্টিভ স্মিথ এবং কেন উইলিয়ামসনের মতো তারকা ব্যাটসম্যানের বিপক্ষেও বল করেছি, তাদের উইকেটও শিকার করেছি। আমার কখনই কোনো ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বল করতে ভয় কাজ করেনি। তবে কেউই বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে না যে, নার্ভাসনেস কাজ করেনি। ক্যারিয়ারের শুরুতে হয়তো নার্ভাসনেস কাজ করত এখন সেটা নেই।

যুগান্তর: বিরাট কোহলিসহ বিশ্বের অনেক তারকা ব্যাটসম্যানের উইকেট শিকার করেছেন, এমন কোনো ব্যাটসম্যান আছে যার উইকেট শিকার করতে চান?

রুবেল হোসেন: অতীতে অনেক তারকা ব্যাটসম্যানকে আউট করেছি, এখন এমন কোনো লক্ষ্য আমার নেই। এখন একটাই টার্গেট জাতীয় দলে যতদিন খেলব চেষ্টা থাকবে দলের জয়ে অবদান রাখার।

যুগান্তর: তরুণ পেস বোলারদের উদ্দেশে আপনার কী পরামর্শ থাকবে?

রুবেল হোসেন: তাদের উদ্দেশে বলব যেন ফিটনেসের উপর বেশি গুরুত্ব দেয়। কারণ ফিটনেস ভালো না থাকলে ক্যারিয়ারে ভালো করা সম্ভব নয়। ফিটনেস ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিভা হারিয়ে গেছে। এছাড়া ক্যারিয়ারে ডিসিপ্লিন মানতে হবে। তাহলে ট্যালেন্ট থাকলে সেটা কাজে দেবে। আরেকটা বিষয় হলো একটা প্রবাদ আছে না! সৎ সঙ্গে স্বর্গেবাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। তার মানে এমন কাউকে বন্ধু হিসেবে চুজ করা ঠিক হবে না, যার মাধ্যমে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়। ভালো বন্ধু বাছাই করতে হবে। ভালো মানুষের সংস্পর্শে থাকতে হবে। তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব।

যুগান্তর: রুবেল জুনিয়রকে নিয়ে আপনার কী স্বপ্ন?

রুবেল হোসেন: সে এখনও ছোট, তাকে নিয়ে এখনও আমার কোনো স্বপ্ন নেই। সে যদি ক্রিকেটার হতে চায় তাহলে চেষ্টা করব ক্রিকেট শেখাতে। বাবা হিসেবে আমি চাই আমার সন্তান যেন একজন আদর্শবান মানুষ হয়।

যুগান্তরকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ

রুবেল হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ, ভালো থাকুন।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত