খেলা নয়, জীবন নিয়েই এখন ভাবতে হচ্ছে: আব্দুস সালাম মুর্শেদী

  আল-মামুন ০৮ মে ২০২০, ১৯:১৮:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

আব্দুস সালাম মুর্শেদী

করোনাভাইরাসের এই সংকট মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি, ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন সাবেক তারকা ফুটবলার ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

যুগান্তর: করোনাভাইরাসের এই সংকট মুহূর্তে কেমন আছেন?

আব্দুস সালাম মুর্শেদী: করোনাভাইরাস বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু সংবাদ যাওয়া যাচ্ছে। এমন একটা ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে ভালো থাকার সুযোগ আছে? আল্লাহর রহমতে এখনও বেঁচে আছি।

যুগান্তর: করোনার সংক্রমণ এড়াতে দেশবাসীর প্রতি আপনার কী পরামর্শ?

আব্দুস সালাম মুর্শেদী: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা আমাদের সরকারপ্রধান যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেভাবে মেনে চলা উচিত। আমি যাতে অন্যের ক্ষতির কারণ না হই, সেভাবেই চলা উচিত। আমরা কিন্তু সেটি মানছি না। আপনি দেখবেন, বিভিন্ন সময় বাজারে গেলে একসঙ্গে গ্যাদারিং হচ্ছে। সর্বাত্মক চেষ্টা করেও তাদের বোঝানো যাচ্ছে না।

আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যার যার সঠিক দায়িত্ব ও নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। আমি যেন আরেকজনের ক্ষতির কারণ না হই। প্রত্যেকেই যদি সাবধানতা অবলম্বন করি, তাহলে আল্লাহর রহমতে আমরা এই ভয়াবহ বৈশ্বিক পরিস্থিতি থেকে হয়তো পরিত্রাণ পাব।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আপনি চাইলেই সবকিছু করতে পারবেন না। বিদেশে যে সামাজিক বেষ্টনী, ওদের দেশে যে পরিস্থিতি, একটা লোক ঘরে বসে থাকলেও তার জন্য খাবার পৌঁছে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে সে ব্যবস্থা নেই।

যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন। এই সংকট মোকাবেলায় বড় ধরনের আর্থিক অনুদানের ঘোষণাও দিয়েছেন। এ কারণে আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে অস্থিরতা বা হতাশা ছিল তা অনেকটা কেটে গেছে।

যুগান্তর: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে এ মুহূর্তে আপনি ব্যক্তিগতভাবে কী করছেন?

আব্দুস সালাম মুর্শেদী: আমি নিজে এবং পরিবারকে সেভ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমার সঙ্গে যারা অফিসে কাজ করছেন, তাদেরও সেভ থাকা লাগবে এবং তাদের জন্য সেই ব্যবস্থা করেছি। বারবার হাত ধুচ্ছি, প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছি না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি।

যুগান্তর: সংসদ সদস্য হিসেবে আপনার এলাকার জনগণের জন্য এই সংকট মুহূর্তে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

আব্দুস সালাম মুর্শেদী: সংকট মোকাবেলায় গরিব অসহায় মানুষের জন্য যে প্রণোদনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, সেগুলো আমার সংসদীয় এলাকার মানুষের মাঝে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেন সঠিকভাবে দেয়া যায় সে জন্য মনিটরিং করছি। যাতে সেগুলো মিস ইউজ না হয়, সেটাই চেষ্টা করছি। আর আমি নিজেও ব্যক্তিগভাবে কিছু ত্রাণ দিচ্ছি।

আমার খুলনা-৪ আসনে ১৫টি ইউনিয়ন এবং তিনটা থানা রূপসা, দীঘলিয়া ও তেরখাদা। এসব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ চলছে। আমি তা মনিটরিং করছি। তিন থানায় আমার তিনটি টিম আছে, তাদের দিয়ে আমি এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহযোগিতা দিয়েছি এবং তা এখনও চালু আছে। আশা করি পুরো রোজার মাস আমি সেটি চালু রাখতে পারব।

এ মুহূর্তে অসহায়, যেমন রিকশা, ভ্যানচালক, কৃষক, হিজড়া, নাপিত শ্রেণির যেসব লোক আছে, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমার টিমের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। আর যারা নিম্নমধ্যবিত্ত বা চাকরিহীন বেকার হয়ে পড়েছেন, মানুষকে সাহায্যের কথা বলতেও পারছেন না; তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

করোনাভাইরাসের এই সংকটের মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থাকার জন্য আমি আমার দলীয় নেতাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। আরও ধন্যবাদ জানাই সংবাদকর্মীদের, যারা এই ছোঁয়াচে ভাইরাসের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত সংবাদ সংগ্রহ করে দেশের পুরো চিত্র মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরছেন।

যুগান্তর: এই মহামারীর মধ্যেও কিছু নেতাকর্মী গরিবের ত্রাণের চাল আত্মসাৎ করার মতো অমানবিক কাজ করছেন, তাদের নিয়ে কী বলবেন?

আব্দুস সালাম মুর্শেদী: আসলে এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তবে এ ধরনের মেসেজ আসার পর থেকেই আমি আমার সংসদীয় এলাকায় কঠোরভাবে মনিটরিং করছি। আমার নিজের ব্যক্তিগত মত হলো- মরে যাওয়ার আগে গুলি খাব কিন্তু কোনো কমপ্রোমাইজ করব না। এমন মানসিকতার সাহসী ৩০ জন সদস্য নিয়ে একটা টিম গঠন করেছি। প্রতিটা ইউনিয়নের দুজন করে এ রকম সদস্য কাজ করছে। তারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।

আমার এলাকায় এমনটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে যারা এমন গর্হিত কাজ করছেন তারা অত্যন্ত ধিক্কারজনক খারাপ কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া কোনো ত্রাণসামগ্রী চুরি বা মিস ইউজের কোনো সুযোগ আমি রাখছি না। আমি নিজে রাত ১২টা পর্যন্ত মনিটরিং করছি।

যুগান্তর: বিশেষজ্ঞরা বলছেন- এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বিশ্বে বড় ধরনের আর্থিক সংকট দেখা দেবে, এ ব্যাপারে আপনার কী মত?

আব্দুস সালাম মুর্শেদী: মূল ব্যাপার হলো- আমাদের দেশের রপ্তানির বড় দুটো খাত আছে। আরও হয়তো অনেক ছোটখাটো খাত রয়েছে। বড় খাত দুটির মধ্যে একটি হলো পোশাকশিল্প। এখান থেকেই আমাদের সিংহভাগ আয় হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন কোনো পণ্যের দাম কমবে, তখন কিন্তু এর প্রভাব আমাদের এখানেও পড়বে। এমনিতেই আমরা কিন্তু অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি। এ মুহূর্তে অনেক দেশ তাদের অর্ডার করা পণ্য প্রস্তুত করার পরও নিতে অনীহা প্রকাশ করছে এবং ভবিষ্যতে যে অর্ডার করার কথা ছিল তাও কিন্তু তারা নিষেধ করেছে। যে কারণে অনেকের কাজ থাকার পরও কিন্তু করতে পারছে না।

তা ছাড়া আমাদের অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা বিদেশে থাকেন তাদের মাধ্যমে সরকারের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। কিন্তু এখন প্রবাসী বাংলাদেশিরাই চাকরি হারাচ্ছেন। যে কারণে আমাদের আয়ের বড় দুটি জায়গা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। তারপরও আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্ত হাতে দেশ পরিচালনা করছেন। কিছুদিন আগেও দেখলাম ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ দিয়েছেন ছোটখাটো শিল্পকারখানার জন্য। আমার বিশ্বাস, এই সমস্যা আল্লাহর রহমতে ওভারকাম করে আমরা আগের জায়গায় আবার দ্রুত ফিরে আসতে পারব।

যুগান্তর: করোনাভাইরাসের কারণে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব খেলাই বন্ধ। খেলোয়াড়রা এখন গৃহবন্দি। এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখা কতোটা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন?

আব্দুস সালাম মুর্শেদী: আসলেই চ্যালেঞ্জিং। এখন ঘরের আঙ্গিনায় যতটুকু সম্ভব জিম বা প্রাকটিস করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের ফিট রাখতে হবে। তবে এখন খেলা নয়, জীবন নিয়েই বেশি ভাবতে হচ্ছে। জীবনই যেখানে ঝুঁকির মধ্যে সেখানে খেলা নিয়ে ভাবার সময় কই। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সব দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোই বড় ধরনের মন্দায় পড়বে। দোয়া করি এ সংকট যেন দ্রুত শেষ হয়। আল্লাহ আমাদের ওপর রহম করুন।

যুগান্তর: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আব্দুস সালাম মুর্শেদী: আপনাকেও ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত