সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়লে আক্ষেপে পোড়েন তাসকিন (ভিডিও)
jugantor
সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়লে আক্ষেপে পোড়েন তাসকিন (ভিডিও)

  স্পোর্টস ডেস্ক  

০৯ মে ২০২০, ১৭:৩২:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রথম রাউন্ডে ৯ মার্চ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট পেশ করেন দায়িত্বরত আম্পায়াররা। এরপর ১২ মার্চ চেন্নাইয়ে পরীক্ষা দেন তিনি। পরে ঠিক ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি।

পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মূলত নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ ওঠে তাসকিনের বিরুদ্ধে। কিন্তু দেখা যায়, সেই ম্যাচে ১৫ ডিগ্রির নিচে হাত বাঁকে তার। এমনকি পরবর্তীতে পরীক্ষাগারে স্পষ্ট হয়, মাত্র কয়েকটি ডেলিভারিতে সমস্যা রয়েছে ডানহাতি স্পিডস্টারের।

তবু তাসকিনকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। অনেকে দাবি করেন, ভারতকে সুবিধা দিতেই তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর কয়েক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। বোলিং অ্যাকশন শুধরে মাঠেও ফিরেছেন তাসকিন। কিন্তু আজও বিশ্বকাপের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা কাঁদায় তাকে।

শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক লাইভে সতীর্থ তামিম ইকবাল ও রুবেল হোসেনের সঙ্গে আড্ডায় চার বছর আগের দুঃখ শেয়ার করেন তাসকিন। ওই দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়লে এখনও আক্ষেপে পোড়েন তিনি।

দেশসেরা গতিতারকা বলেন, এমন কি করলাম, যেজন্য আমাকে নিষিদ্ধ করল আইসিসি। এরপর ছয় মাস খেলা ছিল না। শর্ত ছিল অ্যাকশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে এক বছর নিষিদ্ধ হতে হবে। এরপর ফের ব্যর্থ হলে ২ বছর। আর তৃতীয়বার হলে আজীবন আমার ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসবে।

সেবার বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিপক্ষে মাত্র এক রানে হারে বাংলাদেশ। যার ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন মাশরাফি-মুশফিকরা। কেউ মনে করেন, সেই ম্যাচে তাসকিন থাকলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। তাই ওই স্মৃতি তাকেও পীড়া দেয়।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর ভারতের সঙ্গে আমাদের খেলা ছিল। ওই ম্যাচের আগেই আমাকে নিষিদ্ধ করা হয়। বেঙ্গালুরুতে সবাই ম্যাচ খেলতে যায়। আমি হোটেলে একা বসে থাকি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা আমরা এক রানে হেরে যায়। পরে সবাই এখানে কান্না করি।

২৫ বছর বয়সী পেসার বলেন, বিশেষ করে আমি থামতে পারছিলাম না। কারণ, একে নিষিদ্ধ হলাম আবার গেমেও হেরে গেলাম। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ বাকি রেখেই একা দেশে ফিরে আসি আমি। বিমানে, এয়ারপোর্টে এমনকি বাসায় এসেও কান্না পাচ্ছিল আমার।

এরপর বোলিং অ্যাকশন শুধরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন তাসকিন। কোচ মাহবুব আলী জ্যাকির অধীনে রাত-দিন এক করে অনুশীলন করেন তিনি। নিজের অধ্যবসায়ের ফলাফল অবশ্য হাতেনাতেই পান এ গতিতারকা। অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাকশন পরীক্ষা দিয়ে সাফল্যের সঙ্গে উতরেও যান তিনি।

 

সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়লে আক্ষেপে পোড়েন তাসকিন (ভিডিও)

 স্পোর্টস ডেস্ক 
০৯ মে ২০২০, ০৫:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রথম রাউন্ডে ৯ মার্চ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট পেশ করেন দায়িত্বরত আম্পায়াররা। এরপর ১২ মার্চ চেন্নাইয়ে পরীক্ষা দেন তিনি। পরে ঠিক ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি।

পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মূলত নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ ওঠে তাসকিনের বিরুদ্ধে। কিন্তু দেখা যায়, সেই ম্যাচে ১৫ ডিগ্রির নিচে হাত বাঁকে তার। এমনকি পরবর্তীতে পরীক্ষাগারে স্পষ্ট হয়, মাত্র কয়েকটি ডেলিভারিতে সমস্যা রয়েছে ডানহাতি স্পিডস্টারের।

তবু তাসকিনকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। অনেকে দাবি করেন, ভারতকে সুবিধা দিতেই তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর কয়েক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। বোলিং অ্যাকশন শুধরে মাঠেও ফিরেছেন তাসকিন। কিন্তু আজও বিশ্বকাপের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা কাঁদায় তাকে।

শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক লাইভে সতীর্থ তামিম ইকবাল ও রুবেল হোসেনের সঙ্গে আড্ডায় চার বছর আগের দুঃখ শেয়ার করেন তাসকিন। ওই দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়লে এখনও আক্ষেপে পোড়েন তিনি।

দেশসেরা গতিতারকা বলেন, এমন কি করলাম, যেজন্য আমাকে নিষিদ্ধ করল আইসিসি। এরপর ছয় মাস খেলা ছিল না। শর্ত ছিল অ্যাকশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে এক বছর নিষিদ্ধ হতে হবে। এরপর ফের ব্যর্থ হলে ২ বছর। আর তৃতীয়বার হলে আজীবন আমার ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসবে।

সেবার বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিপক্ষে মাত্র এক রানে হারে বাংলাদেশ। যার ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন মাশরাফি-মুশফিকরা। কেউ মনে করেন, সেই ম্যাচে তাসকিন থাকলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। তাই ওই স্মৃতি তাকেও পীড়া দেয়।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর ভারতের সঙ্গে আমাদের খেলা ছিল। ওই ম্যাচের আগেই আমাকে নিষিদ্ধ করা হয়। বেঙ্গালুরুতে সবাই ম্যাচ খেলতে যায়। আমি হোটেলে একা বসে থাকি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা আমরা এক রানে হেরে যায়। পরে সবাই এখানে কান্না করি।

২৫ বছর বয়সী পেসার বলেন, বিশেষ করে আমি থামতে পারছিলাম না। কারণ, একে নিষিদ্ধ হলাম আবার গেমেও হেরে গেলাম। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ বাকি রেখেই একা দেশে ফিরে আসি আমি। বিমানে, এয়ারপোর্টে এমনকি বাসায় এসেও কান্না পাচ্ছিল আমার।

এরপর বোলিং অ্যাকশন শুধরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন তাসকিন। কোচ মাহবুব আলী জ্যাকির অধীনে রাত-দিন এক করে অনুশীলন করেন তিনি। নিজের অধ্যবসায়ের ফলাফল অবশ্য হাতেনাতেই পান এ গতিতারকা। অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাকশন পরীক্ষা দিয়ে সাফল্যের সঙ্গে উতরেও যান তিনি।