এই মুহূর্তে সবাই সবাইকে সাহায্য করা ছাড়া উপায় নেই: আকরাম খান

  আল-মামুন ০৯ মে ২০২০, ২০:৪৭:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

আকরাম খান

করোনাভাইরাসের এই সংকটমুহূর্তে দেশের অর্থনীতি, ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার আকরাম খান। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হল-

যুগান্তর: করোনাভাইরাসের এই সংকটমুহূর্তে কেমন আছেন?

আকরাম খান: কেমন আর আছি বলেন! গৃহবন্দি। কোথায়ও বের হচ্ছি না, সারাক্ষণ ঘরেই থাকছি। পরিবারকে সময় দিচ্ছি।

যুগান্তর: এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে সেভ রাখতে কী করছেন?

আকরাম খান: আসলে আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে আছি এই মুহূর্তে সবাই সবাইকে হেল্প করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। নিজে সেভ থাকতে হবে অন্যকেও সেভ থাকার সুযোগ করে দিতে হবে। যে সব গরীব মানুষ খাদ্য সংকটে রয়েছেন তাদেরকে আমাদের যথাসম্ভব হেল্প করতে হবে।

যুগান্তর: করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় আমাদের কী করণীয়?

আকরাম খান: সারা বিশ্বের মতো আমরাও এই কঠিন পরিস্থিতিতে আছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন সবাই সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা বা আমাদের সরকার থেকে যে সব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেগুলো সবার ফলো করা উচিত। তাহলে আমার মনে হয়, আল্লাহর রহমতে এই সংকট মোকাবেলা করা যাবে।

যুগান্তর: করোনাভাইরাসের কারণে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব খেলাই বন্ধ, এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

আকরাম খান: আসলে এই পরিস্থিতিতে সবার ফিটনেস ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা হয়তো এখন আউটডোরের জিনিসগুলো পাচ্ছে না কিন্তু ইনডোরে যা যা করার তা করার সুযোগ আছে। অনেকেই বাসায় থেকেও নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এ ছাড়া ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও যিনি আছেন তিনিও সবার খোঁজ-খবর রাখছেন। এক সপ্তাহ পর পর ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঠিক রাখতে ফিজিও বিভিন্ন পরিকল্পনা দিচ্ছেন। ন্যাশনাল টিমের যারা আছেন তারা তা ফলো করছেন। তবে এখন ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে চিন্তা না, এখন আসল কথা হল এই পরিস্থিতি থেকে আমরা কিভাবে দ্রুত পরিত্রাণ পেতে পারি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

যুগান্তর: ঘরোয়া লিগই যে সব খেলোয়াড়ের রুটি-রুজির মাধ্যম তারা এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন, তাদের জন্য কী করা যেতে পারে?

আকরাম খান: আসলে এই বিষয়টি বিবেচনা করেই ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে লোকাল ক্রিকেটারদেরকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। যারা একেবারে সমস্যায় রয়েছে তাদের খাদ্য সরঞ্জামও দেয়া হয়েছে। শুধু খেলোয়াড়রাই নন, করোনার এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। যারা দিন আনে দিন খান তাদের অবস্থা শোচনীয়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন দ্রুত এই সমস্যা কেটে যায়। আল্লাহ যেন আমাদেরকে এই সংকট থেকে মুক্তি দেন।

যুগান্তর: করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় অনেকেই বলছেন করোনা পরবর্তী সময়ে বলে মুখের লালা ব্যবহারের রেওয়াজ উঠে যেতে পারে, আপনার কী মত?

আকরাম খান: আসলে ভবিষ্যতে কী হবে, বা কী হতে পারে! এখনই বলা মুশকিল। আমরা ভবিষ্যতের চিন্তা বাদ দিয়ে বর্তমান নিয়েই থাকি। ভবিষ্যতে অনেক কিছুই হতে পারে। তবে এখন খেলার চেয়ে বেশি টেনশন হচ্ছে জীবন নিয়ে। প্রতিদিনই হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে, আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন দ্রুত এই সংকট থেকে আমাদের উদ্ধার করেন।

যুগান্তর: বিশ্লেষকরা বলছেন করোনা পরবর্তী সময়ে বাংলাশেসহ সারা বিশ্বে আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে, আপনার কী মত?

আকরাম খান: আপনি দেখেন প্রায় দুই মাস হতে চলল আমরা লকডাউনের মধ্যে আছি, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি হয়ত কিছু কিছু খুলতে শুরু করেছে। অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। বলতে পারেন অর্থনীতির চাকাই বন্ধ হয়ে আছে। শুধু আমাদের না, সারা বিশ্বেই একই অবস্থা। এমন পরিস্থিতি বেশি দিন থাকলে অর্থ এবং খাদ্য সংকট দেখা দিতেই পারে। তবে আমরা যদি হেল্লফুল মানসিকতা রাখি তাহলে যে সমস্যাই আসুক না কেন আল্লাহর রহমতে মোকাবেলা করা সম্ভব।

যুগান্তর: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আকরাম খান: আপনাকেও ধান্যবাদ, ভালো থাকুন।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত