‘খেলোয়াড়দের এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে স্ট্রং থাকা বড় চ্যালেঞ্জ’

  আল-মামুন ১২ মে ২০২০, ২০:৪৭:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

আতহার আলী খান

করোনাভাইরাসের এই সংকটমুহূর্তে দেশের অর্থনীতি, ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

যুগান্তর: করোনার এই পরিস্থিতে কেমন আছেন?

আতহার আলী খান: শুকরিয়া আল্লাহর কাছে, তিনি আমাকে এবং আমার পরিবারকে ভালো রেখেছেন। তবে দেশে ও বিদেশে মানুষ যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন তাতে মনের মধ্যে ভয় কাজ করে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন দ্রুত এই সংকট থেকে আমাদের মুক্ত করেন। তিনি যেন এই রমজানের রহমত, মাগফিরাতের মাসে করোনার থেকে নাজাত দেন।

যুগান্তর: করোনার সংক্রমণ এড়াতে আপনি নিজে কি করছেন?

আতহার আলী খান: আমার কথা যদি বলি, মার্চ মাস থেকে বাসায় আছি। দুই মাস হলো বাসায়। শুধু আমিই না, আমার তিনটা সন্তান আছে। দুইমাস আমরা গৃহবন্দি অবস্থায় আছি। আমার মতো লাখ লাখ পরিবার আজ গৃহবন্দি। আমরা বাইরে যাচ্ছি না। আমাদের মতো সবাই যাতে ঘরে থাকেন যতদিন না এই ভাইরাসের সংক্রমণ কমে যায়।

যুগান্তর: মহামারী থেকে রক্ষা পেতে দেশবাসির প্রতি আপনার কি পরামর্শ থাকবে?

আতহার আলী খান: যেহেতু এখনও প্রতিষেধক বের হয়নি, তাই সংক্রমণ যেন না বাড়ে সেজন্য ঘরে থাকাই ভালো। যতটা সম্ভব করোনার সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা। আমাদের সরকার থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেগুলো আমাদের অবশ্যই মানতে হবে, এসব মেনে চলা অবশ্যই কষ্ট কর। কিছু করার নেই, নিজেকে এবং পরিবারকে সেভ রাখতে হলে এখন ঘরে থাকার কোনো বিকল্প নেই।

যুগান্তর: ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব খেলাধুলা বন্ধ, এই অবস্থায় খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখা কতোটা চ্যালেঞ্জিং?

আতহার আলী খান: এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। ফিজিক্যাল থেকে বেশি চ্যালেঞ্জ হলো মেন্টালি। আমি যেমন একটা পাঁচতলা বাসায় থাকি, প্রতিদিন আমাকে বাচ্চাদের নিয়ে ছাদে যেতে হয়। ছাদে গিয়ে দৌড়াই, একটু রেস্ট নিয়ে আবার দৌড়াই। যারা পেশাদার ক্রিকেটার আছেন, তারাও নিশ্চয়ই এই মুহূর্তে নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখতে এসব কিছু করছেন। মুশফিক যেমন কিছুদিন আগে দেখলাম একটা ভিডিও শেয়ার করেছেন, সেখানে দেখলাম ফিটনেস ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

নিজেকে ফিট রাখার জন্য এখন বাসায় থেকে ফিজিক্যাল ব্যায়ামগুলো করে যেতে হবে। মানসিকভাবে নিজেকে আরও শক্ত করতে হবে। সংবাদ শুনে ভেঙে পড়া যাবে না। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি আমরা এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারব। যেহেতু লকডাউনে আছি সেহেতু এখন আমাদের নিজেদেরকে পরিস্কার-পরিছন্ন রাখতে হবে। দ্বিতীয় কথা হলো- নিয়মিত ব্যায়াম করে যেতে হবে।

আমরা জানি যে, কোভিড-১৯ থেকে যদি বাঁচতে চাও তাহলে নিজেকে মানসিকভাবে স্ট্রং রাখো। সেটা ব্যায়ামের মাধ্যমে হোক অথবা, খাওয়া দাওয়ার মাধ্যমে হোক করতে হবে। আমাদের খেলোয়াড়রা কিন্ত ডিসিপ্লিন লাইফ লিড করে থাকেন এবং এই পরিস্থিতিতে তাদের আরেকটু স্ট্রং হতে হবে। বাসায় থেকে এখন পুরোনো খেলাধুলা দেখতে হবে। নিজের খেলা দেখার পাশাপাশি গ্রেট যেসব ক্রিকেটার আছে তাদের খেলা দেখে শিখতে হবে।

আমার কথা হলো ফিটনেস ধরে রাখতে তাদের টাচে থাকতে হবে। ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিংয়ে টুকটাক হলেও প্রাকটিস করে যেতে হবে। বাসায় অন্তত টেনিস বল দিয়ে হলেও প্রাকটিস চালিয়ে যেতে হবে। হ্যাঁ, আমরা জানি সমস্যা, খোলা মাঠে প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব না। তাহলে ঘরের আঙ্গিনায় যতটুকু পাড়া যায় প্রাকটিস করে যেতে হবে। যারা এখন গ্রামে আছেন, তারা কিন্তু ওপেন স্পেস পাচ্ছেন। ঢাকায় যারা আছেন তারা চাইলে সেহরির পর দৌড়াদৌড়িসহ একটু ব্যায়াম করতে পারেন। এগুলো করলে আমার মনে হয় তারা নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে পারবে।

যুগান্তর: অনেকেই বলছেন করোনা পরবর্তী সময়ে বলে মুখের লালা ব্যবহারের প্রচলন উঠে যেতে পারে, আপনার কী মত?

আতহার আলী খান: এখনও তো আইসিসি কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। আমারা জানি যে, বল রিভার্স সুইং করাতে হলে বলের একপাশ ড্রাই রাখার পাশাপাশি আরেক পাশ শাইনিং করতে হয়। কিন্তু লালার ব্যবহার না থাকলে আপনি কিভাবে বল শাইনিং করবেন। হয়তোবা শার্ট বা প্যান্টে ঘষে সেটা করা যেতে পারে। আমি জানি না আইসিসি এটা অ্যালাও করবে কি করবে না, এখন কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়নি যে লালার ব্যবহার উঠে যাবে।

আইসিসি হয়তো চিন্তাভাবনা করছে বল শাইনিং রাখতে অন্য কিছু করা যাবে কি না। বল রিভার্স সুইং করাতে আমাদের কোচ ম্যানেজমেন্টকে বোলারদের স্কিলের বিষয়টা শেখাতে হবে। লালার ব্যবহার যদি নাই করা যায় তাহলে আলাদা উপায় বের করে বোলারদের সেটায় অভ্যস্ত করতে হবে। লালার পরিবর্তে ঘামও হতে পারে।

যুগান্তর: জাতীয় দলের বাইরে থাকা যেসব ক্রিকেটার ঘরোয়া লিগ খেলেই সংসার চালান, এখন খেলা বন্ধ তারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তাদের নিয়ে যদি কিছু বলেন?

আতহার আলী খান: এই মুহূর্তে তারাই খুব কষ্টে আছে। অনেক লোকাল প্লেয়ার আছে যারা ঘরোয়া লিগগুলো খেলেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তারা সংসারে হেল্প করে থাকে। শুধু খেলোয়াড়রাই নয়, যেকোনো মানুষেরই এখন আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। গার্মেন্টস-ফ্যাক্টরি, কলকারখানা বন্ধ থাকায় দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এখন এমন হয়েছে যে, খরচ করার পথ অনেক, কিন্তু আয়ের কোনো রাস্তা নেই। আমার সবচেয় কষ্ট হয় তাদের জন্য, যারা দিন আনে দিন খায়। তারা আসলে এখন খুবই সমস্যায় আছে।

সামর্থ্যবানদের কাছে আমার আহ্বান থাকল, এই রমজান মাসে যতটুকু পারেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। যাকাতের টাকা দিয়ে হলেও তাদের হেল্প করেন। যাদের সক্ষমতা আছে সাধ্যমতো চেষ্টা করেন। আমার অনুরোধ থাকবে প্রতি বছর যে পরিমাণে যাকাত-ফিতরা দিয়ে থাকেন অন্তত এই বছর আরও কিছু বেশি দান করেন। মানুষ আগের চেয়ে এখন একটু বেশি সংকটে আছে। সেটা মাথায় রেখেই দানের হাতকে প্রসারিত করেন।

যুগান্তর: খেলাধুলা বন্ধ থাকায় বড় বড় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো আর্থিক মন্দায় পড়ে গেছে, এই সমস্যা যদি লংটাইম হয় তাহলে কেমন হতে পারে বলে মনে করেন?

আতহার আলী খান: আসলে এরকম ভয়ঙ্কর চিন্তা করতে চাই না। আল্লাহ যেন আমাদের উপর রহম করেন, দ্রুত এই সমস্যা কেটে যাক। আমরা আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারি। আমরা আবার আগের মতো নরমাল লাইফ কাটাতে পারি। তবে এই সংকটে দেখেন আকাশ ক্লিন হয়ে গেছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কথা বলছিলাম, কলকারখানা, গাড়ি, স্টিমার, ট্রেন, প্লেন এবং লঞ্চ বন্ধ থাকায় যেসব ক্যামিকেলে বাতাস দূষিত হয়েছিল তা অনেকটা কেটে গেছে।

আকাশ এখন অনেক পরিস্কার পরিছন্ন, বাতাস অনেক ক্লিন। একদিক থেকে পৃথিবী একটু পরিস্কার হয়ে গেছে। তবে মানুষের যে কষ্ট, অভাব অনটনে আছেন- এটা কতদিন চলবে, এটার দ্রুত সমাধান হোক সেটাই কামনা করি। সবাইকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। আমরা আশা করছি, আবার আমরা ঘর থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারব, নিজের কাজ করতে পারব।

যুগান্তর: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

আতহার আলী খান: তোমাকেও ধন্যবাদ, ভালো থেকো।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত