একাধিকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন আশরাফুল!

  স্পোর্টস ডেস্ক ১৮ মে ২০২০, ১৭:২০:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

নিজের সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তবে ম্যাচ গড়াপেটায় জড়িয়ে সেই ক্যারিয়ারই ধ্বংস করে দেন। বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেকে সেভাবে আর মেলে ধরতে পারেননি। যে কারণে হতাশায় একাধিকবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল।

২০১৩ সালে ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে সবধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হন তিনি। এর সাত বছর পর এক সাক্ষাৎকারে অ্যাশ বললেন, এ নিয়ে বড় খবর ছাপে কালের কন্ঠ (বাংলাদেশি সংবাদপত্র)। ওই সময় আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম আমি। শুধু তখনই নয়, আরো বেশ কয়েকবার এমন চেষ্টা করেছিলাম।

সেই ঘটনার পর শ্রদ্ধেয় একজনের সঙ্গে আলোচনা করেন আশরাফুল। তিনি বলেন, আত্মহত্যা প্রচেষ্টার পর মুজিবুল আলমকে সেই কথা বলেছিলাম। সে সময় আমায় পরিহাস করে ঠিকই করেছিলেন উনি। আমাকে আজহারউদ্দিনের উদাহরণ টেনে বলেন, তার মতো গ্রেট ক্রিকেটারও এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। ভক্ত-সমর্থকরা হতাশ হতে পারেন। তবু আমাকে এ লড়াইয়ে সৈনিক হতে হবে।

টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান বলেন, সেই কঠিন সময়ে খারাপ কিছু করে ফেলতে পারি-এমন চিন্তা করে বন্ধুরা আমাকে চোখের আড়াল করতেন না। আমি সবসময় ভাবতাম সবার সামনে কেমন করে মুখ দেখাবো, কীভাবে এ যন্ত্রণা বয়ে বেড়াবো এবং এর ভার নিয়ে বাঁচব। চিন্তা করতাম, সামাজিকভাবে আমাকে, আমার পরিবারকে যেভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হবে, তা কীভাবে রুখব।

অবশেষে পাঁচ বছর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে পুনরায় ফেরেন আশরাফুল। প্রত্যাবর্তনেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) রানের বন্যা বইয়ে দেন তিনি। তবুও জাতীয় দলে ব্রাত্য হন ডানহাতি টপঅর্ডার।

সাবেক টাইগার কাপ্তান বলেন, আমি জানতাম, জাতীয় দলে ফিরতে হলে আমাকে অসাধ্য সাধন করতে হবে। ২০১৮ সালে ডিপিএলে পাঁচটা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলাম। টুর্নামেন্টে সেই রেকর্ড এখনও অক্ষত। পারফরম্যান্স করে নিজেকে প্রমাণ করি। তবে আমাকে উপেক্ষিতই থাকতে হয়।

তিনি বলেন, পরেও জাতীর কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আমার কাছে কিছু ছিল না। আমি শাস্তি পেয়েছি। ফিরে আসার পর ক্ষমা চেয়েছি। এখন তারা ক্ষমা না করলে কিছুই করার নেই। আমি জানি, যা করেছি সেজন্য হয়তো টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচকরা কোনো দিন আমাকে ক্ষমা করবেন না।

বাংলাদেশের অন্যতম সফল ব্যাটার আশরাফুল। তাকে বলা হতো লিটল মাস্টার এবং দেশের প্রথম সুপারস্টার। জাতীয় দলের জার্সিতে ৬১ টেস্ট, ১৭৭ ওয়ানডে এবং ২৩ টি-টোয়েন্টি খেলেন তিনি। তিন ফরম্যাটে করেন যথাক্রমে ২৩৩৭, ৩৪৬৮ ও ৪৫০ রান। ১২ বছরের বেশি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ওয়ানডে ও টেস্টে যথাক্রমে ৩টি ও ৬টি সেঞ্চুরি হাঁকান এ স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।

তথ্যসূত্র: ক্রিকবাজ/ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত