এখন কিভাবে বাঁচব সেই চিন্তা করাই ভালো: ফারুক আহমেদ

  আল-মামুন ১৮ মে ২০২০, ২০:৪৯:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

ফারুক আহমেদ

করোনাভাইরাসের এই সংকটমুহূর্তে দেশের অর্থনীতি, ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন

যুগান্তর: করোনার মহামারীর এই সময়ে কেমন আছেন?

ফারুক আহমেদ: আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে এখনও ভালো আছি। আমার পরিবারের সবাই ভালো আছে।

যুগান্তর: এই সংকট মুহূর্তে কি করছেন?

ফারুক আহমেদ: কি আর করব বলেন! লকডাউনে বাসাই থাকি। বের হওয়া রিক্স। হয়তো এখন ভালো আছি, বের হলে দেখা গেলো ভাইরাস নিয়ে বাসায় এলাম, আমার মাধ্যমে অন্যরাও আক্রান্ত হলো। তাই প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছি না। দুই মাস হতে চলল বাসায় বন্দি আছি।

সরকার থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেগুলো ফলো করছি। এই শতাব্দিতে যারা আছে তারা হয়ত এরকম পরিস্থিতি আর কখনও দেখেনি, করোনা পরিস্থিতি যেভাবে যাচ্ছে, আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে তা আসলে হলফ করে বলা মুশকিল। আল্লাহই ভালো জানেন, কবে আমরা এই ভাইরাসের ভেকসিন পাব এবং কবে এই সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাব। প্রতিষেধক বের হওয়ার আগে আমাদের চেষ্টা করতে হবে কিভাবে এর প্রতিরোধ করা যায়, যতটা পারা যায় সংক্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে।

যুগান্তর: করোনায় আর্থিক সংকটে অনেকের অবস্থাই করুণ..?

ফারুক আহমেদ: হ্যাঁ, অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে কষ্টে আছে দিনমজুররা। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে, আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। যারা ডেইলি লেবার আছে, আমার মনে হয়, তাদের জন্য একটা পরিকল্পনা করা উচিত। কারণ কতদিন পর এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা আমরা কেউ বলতে পারি না। আল্লাহ না করুক, যদি এ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হয় তখন কি হবে! এমনটি ভাবতেও চাই না। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

যুগান্তর: বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দিতে পারে, আপনার কি মত?

ফারুক আহমেদ: শুধু বাংলাদেশ না, আমেরিকা, চীন ও জাপানের মতো শক্তিশালী দেশও এই করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তাদের দেশেও আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। সবাই খুবই উদ্বিগ্ন। দেখেন, আমাদের দেশের আয়ের প্রধান উৎস হলো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি। হয়ত এখন কিছু কিছু ফ্যাক্টরি খুলেছে, তবে অধিকাংশই বন্ধ। এছাড়া আর্থিক যত প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলো থমকে পড়েছে।

বলতে পারেন করোনায় অর্থনীতির চাকা থমকে পড়েছে। এভাবে দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে কি যে হবে! কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আল্লাহই ভালো জানেন। আমরা কিভাবে এটা কাভার করতে পারব জানি না। ক্ষতির পরিমাণটা কত হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বলা যাবে। তবে সবাই সহযোগিতার মানসিকতা রাখলে সব সমস্যাই সমাধান করা সম্ভব।

যুগান্তর: ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তির বাইরে যেসব খেলোয়াড় রয়েছে, তারা তো ঘরোয়া লিগ খেলেই সংসার চালায়, তারা এখন আর্থিক সংকটে। তাদের নিয়ে কিছু বলুন।

ফারুক আহমেদ: হ্যাঁ, তারা খুবই কষ্টে আছে, ক্রিকেট বোর্ড থেকে তাদের জন্য একটা সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা একেবারে অসহায় তাদের খাদ্য সহায়তাও দেয়া হচ্ছে। আমি নিশ্চিত ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) তাদের এই বিপদে সবসময় পাশে থাকবে। কারণ এখানে প্রচুর ক্রিকেটার আছে। ১২টা দলে ৩০ জন করে হলেও অনেক ক্রিকেটার আছে। যারা ঘরোয়া লিগ খেলেই চলে, তাদের অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে।

যুগান্তর: করোনা ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় ক্রিকেট বিশ্লেকদের অনেকেই বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে বলে লালা ব্যবহারের যে প্রচলন আছে তা উঠে যেতে পারে, আপনার কি মত?

ফারুক আহমেদ: আসলে এটা অনেক পরের ব্যাপার। এখন এসব নিয়ে চিন্তা না করাই ভালো। তাই না? বলে সুইং-টুইংয়ের চিন্তা না করে, কেমনে আমরা বাঁচব সেই চিন্তা করাই ভালো। সেটা যখন আসবে তখন চিন্তা করা যাবে।

যুগান্তর: করোনায় ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব খেলাই বন্ধ, এমন পরিস্থিতিতে ফিটনেস ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

ফারুক আহমেদ: এটা খুবই জরুরি। এখন তাদের ফিটনেস ধরে রাখতে কিছু না কিছু করতে হবে। আমি নিশ্চিত তারা অবশ্যই এ ব্যাপারে কনসার্ন। আমার মনে হয় তাদের প্রত্যেকের বাসাই ব্যায়াম করার মতো কিছু সরঞ্জাম হলেও আছে। এখন তাদের কোনো কাজ নেই, কাজেই প্রয়োজনে দিনে দুইবার- সকাল এবং বিকালে প্রাকটিস করতে পারে।

যুগান্তর: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, ভালো থাকুন।

ফারুক আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত