সাকিবদের দাবি বাস্তবায়ন হলে ক্রিকেটের চেহারা পাল্টে যাবে: পাইলট

  আল-মামুন ২৯ মে ২০২০, ১৯:৫০:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

খালেদ মাসুদ পাইলট

করোনাভাইরাসের এই সংকটমুহূর্তে দেশের অর্থনীতি, ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে স্পোর্টস রিপোর্টার আল -মামুন

যুগান্তর: করোনার এই কঠিন সময়ে কেমন আছেন?

খালেদ মাসুদ পাইলট: আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে ভালো আছি, পরিবারের সবাই ভালো আছে।

যুগান্তর: এই কঠিন সময় কি করছেন?

খালেদ মাসুদ পাইলট: আমি আসলে খুব সুন্দর সময় কাটাতে অভ্যস্ত। খুব ভালো সময় কাটাচ্ছি। তবে রুটিন অনুসারে হচ্ছে না। আমি যদিও ঢাকায় থাকি কিন্তু এখন গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে আছি। লকডাউনের পুরোটা সময়ই এখানে আছি। এখানে আমার পরিবারের সবাই থাকে। আমি যখন খেলার জন্য ১৬ বছরে ঢাকায় গিয়েছিলাম তখন কিন্তু মা আর বোনকে সেভাবে সময় দিতে পারিনি। খেলার কারণে তখন খুব ব্যস্ত ছিলাম, হয়তো কর্মাশিয়াল ছিলাম। তিনদিনের জন্য বাড়িতে এলাম, মায়ের সঙ্গে রাতে একটু দেখা হতো, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে আবার ঢাকায় চলে যেতাম।

এখন মা-বোন, ভাগিনা, ভাগ্নি, সবাইকে সময় দিতে পারছি। মা আর বোনের সঙ্গে অনেক কথা শেয়ার করতে পারছি। মাকে কি করে হেল্প করা যায়, মার কতটা টেককেয়ার করা যায় সেটা করছি। ঢাকায় থাকতে সব সময় চিন্তা করতাম কখন একদিন মা আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। বাবাকে কোনো দিন হেল্প করতে পারলাম না। এই যে অনুভূতিগুলো এখন শেয়ার করতে পারছি।

এ ছাড়া রাজশাহীতে আমার একটা একাডেমি আছে, এখন যেহেতু করোনার কারণে খেলাধুলা এবং প্রাকটিস বন্ধ তাই সকাল ৯টায় একাডেমিতে চলে আসি। এখানে তিন-চারটা ছেলে আছে আমাদের সঙ্গে কাজ করে। আমরা প্ল্যান করেছি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাঠের পরিচর্জা করার। কারণ এত লম্বা সময়তো আর মাঠ কখনও রেস্ট পায় না। সব সময়ই মাঠে খেলা হয়, ঘাস মরে যায়। তাই আমরা চিন্তা করেছি যতদিন খেলাধুলার মতো পরিবেশ তৈরি না হবে ততদিন পানি দিয়ে মাঠকে পরিচর্জা করে সবুজ করে ফেলব এবং তাই করছি।

এ ছাড়া রাজশাহীর অসহায় খেলোয়াড়দের আর্থিকভাবে হেল্প করার একটা পরিকল্পনা করেছি। শুরুতে ছোট আকারে শুধু ক্রিকেটারদের নিয়ে চিন্তা ছিল, রমজানে কিছু ক্রিকেটারকে হেল্প করা হয়েছে। তারপর চিন্তা করেছি যে, শুধু ক্রিকেটার কেন! ফুটবলার বা হকি খেলোয়াড়রা কি দোষ করেছে! তাই সব ইভেন্টের অসহায় খেলোয়াড়দের জন্য একটা ফান্ড তৈরি করে এক মাসের জন্য একটা পঞ্চাশ বা চল্লিশ কেজির ব্যাগ উপহার দিয়েছি।

যুগান্তর: করোনায় ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব খেলাই বন্ধ, এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

খালেদ মাসুদ পাইলট: করোনায় বিশ্বের সব জায়গায় খেলাধুলা বন্ধ। তবে এখন খেলাধুলার চেয়ে জীবন নিয়েই বেশি চিন্তা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের এখন নিজেকে সচেতন থাকতে হবে। আমি জানি যারা পেশাদার এবং সৌখিন খেলোয়াড় তারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে। পেশাদার প্লেয়াররা সবাই হোমওয়ার্ক করছে, সে নিজেকে প্রস্তুত রাখার জন্য মাঠে প্রাকটিস করতে না পারলেও বাসায় এবং বাসার ছাদে অনুশীলন করছে। খেলা না থাকায় সবারই ক্ষতি হচ্ছে। তবে নিজেকে কতটা মিনিমাইজ করা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে।

যুগান্তর: করোনায় ঘরোয়া লিগ বন্দ থাকায় লোকাল প্লেয়ারা সবচেয়ে কষ্টে আছে….?

খালেদ মাসুদ পাইলট: এই সংকটের কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সবাইকে একটা অ্যামাউন্ট দিয়েছে, আমি মনে করি ঢালাওভাবে সবাইকে না দিয়ে যার খুব প্রয়োজন তাকে দেয়া উচিত ছিল। ঢাকা লিগ খেলে বলেই জাতীয় দলের প্লেয়ারকে টাকা দিতে হবে এমনটি হওয়া উচিত না।
ঢাকা লিগ খেলে ২০০ বা তারও বেশি প্লেয়ার আছে, এর মধ্যে ৫০-এরও বেশি ক্রিকেটার আছে, যারা দীর্ঘদিন জাতীয় দলে অথবা জাতীয় লিগ খেলছে। তাদের প্রায় সবাই আর্থিকভাবে স্বাভলম্বী। তাদের টাকা না দিয়ে বাঁচার জন্য যার খুব প্রয়োজন তাদেরকে আরও বেশি করে দিলে ভালো হতো।

যুগান্তর: টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২০ বছরেও ক্রিকেটের এ আধি ফরম্যাটটা সেভাবে রপ্ত করতে পারেনি টাইগাররা। টেস্ট ক্রিকেটের উন্নয়নে কী করা উচিত?

খালেদ মাসুদ পাইলট: আমাদের দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট তো আর অন্যান্য দেশের মতো অতোটা উন্নত না। কিছুদিন আগে সাকিব-তামিমরা ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে আন্দোলনটা করেছে, সেখানে কিছু যৌক্তিক দাবি ছিল। বিসিবির নিজ থেকেই সেই কাজগুলো করা উচিত। প্লেয়াররা যে ১১টা দাবি দিয়েছে সেগুলো নিয়ে যদি কাজ করা হয় তাহলে আমার মনে হয় ৭-৮ বছরের মধ্যে দেশের ক্রিকেটের চেহারা অন্যরকম হয়ে যাবে। সাকিব-তামিমদের ওই দাবিগুলোর মধ্যেই কিন্তু চাওয়া-পাওয়াগুলো ছিল। তারা অবসরের আগে নিজেদের বক্তব্যগুলো দিয়েছে এগুলোর বাস্তবায়ন করা উচিত।

যুগান্তর: বিশ্লেষকরা বলছেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলেও বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দিতে পারে, আপনার কি মত?

খালেদ মাসুদ পাইলট: গার্মেন্টস-ফ্যাক্টরি, কলকারখানা বন্ধ থাকলে অবশ্যই আর্থিক মন্দা দেখা দিবে। এটা আমার চেয়ে যারা ব্যবসায়ী আছেন তারা ভালো বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের থিম আছে। তবে সরকার থেকে মেইন থিমটা হওয়া উচিত। সরকার তো এর আগে কখনও করোনা মোকাবেলা করেনি, করোনা মোকাবেলা করতে হলে সরকারের যে ডিপার্টমেন্টগুলো আছে সেখানে যারা অভিজ্ঞ আছে তাদের সমন্বয়ে কী করা উচিত, কী করা যেতে পারে তার একটা গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন।

আমি সবার উদ্দেশে বলব গরীব মানুষের প্রতি সদয় হোন। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে এসেছেন, অনেক কোম্পানি সহযোগিতা করছে। মানুষ যে যেভাবে পারছে সহযোগিতা করছে, তবে অপচয় যেন না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে দেখা গেছে তিন-চারবার সহযোগিতা পেল, সে হয়তো কোনো দলের সঙ্গে জড়িত, অথচ যার খুব প্রয়োজন সে একবারও পেল না, এমনটি যেন কখনও না হয়। আমি মনে করি পার্টিগত ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষের মতো করেই দেখা উচিত। সবাই যেন সাহায্য পায়, সরকার হল সব মানুষের জন্য। কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের জন্য নয়।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত