ফুটবলকে গালি দিলে কীভাবে উন্নয়ন হবে: কাজী সালাউদ্দিন
jugantor
ফুটবলকে গালি দিলে কীভাবে উন্নয়ন হবে: কাজী সালাউদ্দিন

  আল-মামুন  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৪৬:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ফুটবল ক্যারিয়ারে আলোচিত কাজী সালাউদ্দিন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সমালোচিত। আর সেই সমালোচনা এড়িয়েই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) চতুর্থবারের মতো সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে আছেন এই কিংবদন্তি।

আগামী ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন। তার আগে যুগান্তরকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলার হওয়া, সফল ফুটবলার হয়েও ভালো সংগঠক না হতে পারার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দেশের এই জীবন্ত কিংবদন্তির সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। আজ পড়ুন প্রথম পর্ব-

যুগান্তর: আপনার একটা ইন্টারভিউয়ের জন্য ১৫ দিন ধরে অপেক্ষা করছি। আপনার দেয়া সময়মতো বাফুফে ভবনে গিয়ে দুই ঘণ্টা বসেছিলাম; কিন্তু ব্যস্ততা দেখিয়ে সাক্ষাৎকার দেননি।

কাজী সালাউদ্দিন:আচ্ছা আচ্ছা, বলুন।আমি আপনাকে এখনই দিয়ে দিই। পরে আর সময় পাবেন না।এখন আমি অনেক ব্যস্ত। আমি এখন দৌড়ের ওপর আছি!

যুগান্তর: ক্যারিয়ারের শুরুতে ক্রিকেট আর ফুটবল দুটোই খেলেছেন, ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলে মন দেয়ার কারণ?

কাজী সালাউদ্দিন: ক্রিকেট তো বেসিক্যালি সাত-আটটা দেশের খেলা। বলতে পারেন কয়েকটা দেশের খেলা। আমি এমন একটা খেলা খেলতে চেয়েছিলাম যেটা পৃথিবীর সব মানুষের প্রিয়। এ কারণেই ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবল বেছে নিয়েছিলাম, আর কিচ্ছু না।

যুগান্তর: কার পরামর্শে ফুটবল বেছে নিলেন?

কাজী সালাউদ্দিন: না না। ওসব কিছু না। আমরা যখন খেলাধুলা শুরু করেছিলাম তখন ক্রিকেট খেলে বিশ্বের মাত্র সাত-আটটা দেশ। একটা খেলা সাত-আটটা দেশ খেলে আর আরেকটা দুইশ' দেশ খেলে; দুইশ' দেশ যেটা খেলে আমি ওইটার পেছনেই গেছি। আর মানুষের কাছেও ফুটবল অনেক জনপ্রিয় খেলা। তাই ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়া।

যুগান্তর: আপনি দেশের প্রথম স্টাইলিশ ফুটবলার ছিলেন। আপনার প্রজন্মের পর সেই মানের ফুটবলার তৈরি না হওয়ার কারণ কী?

কাজী সালাউদ্দিন: এটা সত্যি না, গত ১০ বছরে অনেক প্লেয়ার আসছে। যারা আগের অনেক প্লেয়ার থেকেও বেটার। এখন যেটা হয়েছে- যে কোনো কারণেই হোক, গত চার-পাঁচ বছরে মিডিয়া ওদের সেভাবে কাভারেজ দেয়নি। মিডিয়া বেশিরভাগ টকশোসহ সবকিছু করেছে আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগে যেসব প্লেয়াররা খেলেছে তাদের নিয়ে। আপনি যদি ফুটবলের উন্নয়ন চান! তাহলে জাতীয় দলের যেসব তারকা আছে তাদের ফোকাস দিতে হবে।

আমাদের ফুটবলাররাই কাতারকে হারিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছে। ভারতে ৮০ হাজার লোকের সামনে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু মিডিয়া তেমন ফোকাস করেনি। মিডিয়া ওদের নিয়ে তেমন কোনো কাভারেজও দ্য়েনি। যারা ৩০ বছর আগে ফুটবল খেলা ছেড়ে দিয়েছে তাদের ৫ থেকে ৬ জনকে কাভারেজ দিয়েছে। তারা শুধু ফুটবল এবং ফুটবলারদের গালি দিয়েছে। এমন হলে কীভাবে ফুটবলের উন্নয়ন হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে জামাল ভূঁইয়াকে নিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো দুই-তিনটা শো করেছে, জামাল ভূঁইয়া পপুলার হয়ে গেছে। এটাতো সবারই কর্তব্য! সব তারকা ফুটবলারকেই আপনাদের সমান গুরুত্ব দিয়ে কাভারেজ দিতে হবে। তাহলেই তারা স্টার হয়ে যাবে।

যুগান্তর: হ্যাঁ, আলফাজ আহমেদ, মামুনুল ইসলামসহ বেশ কিছু ভালোমানের ফুটবলার ...।

কাজী সালাউদ্দিন: আপনি তো আমার কথায় রাজি হয়ে গেলেন; যাদের নাম আপনি বললেন, তাদের সঙ্গে আরও কিছু প্লেয়ার আছে। এদেরকেই যদি মিডিয়া তিন-চার বছর লাইম-লাইটে নিয়ে আসত তাহলে তারা বড় তারকা হয়ে যেত। এটা খুব দুঃখের বিষয়। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না।

যুগান্তর: দেশের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিদেশি লিগে খেলার ইতিহাস গড়েছিলেন। অথচ এখনকার প্লেয়াররা বিদেশি লিগে সুযোগই পায় না, এর কারণ কী?

কাজী সালাউদ্দিন: এখানে দুটো ব্যাপার আছে। আমাদের প্লেয়াররা দেশে যে টাকা পায় তাতে তাদের খুব একটা বিদেশে যাওয়ার দরকার প্রয়োজন পড়ে না। প্রতিবেশী দেশে গিয়ে লিগ খেলার দরকার তাদের পড়ে না। মিডিয়া ওদের লাইম-লাইটে আনে নাই যে- ওদের বিদেশিরা খেলা দেখে নেয়ার আগ্রহ দেখাবে। জামাল ভূঁইয়া এতদিন ধরে খেলে, মিডিয়া মাত্র এক বছর হল ওকে লাইম-লাইটে আনছে। আগে তো লোকে জানতই না যে, জামাল ভূঁইয়া নামে বাংলাদেশে কোনো ফুটবলার আছে।

যুগান্তর: ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময়টাই আবাহনীতে ছিলেন। আপনার সঙ্গে যারা খেলেছেন তারা বছরান্তেই দলবদল করেছেন। একই ক্লাবে ক্যারিয়ার শেষ করা নিয়ে কী বলবেন?

কাজী সালাউদ্দিন: এটা বলতে পারেন, ক্লাবকে অউন করার মতো। আমি সবসময় মনে করতাম এটা আমার ক্লাব, আমি ভালো খেললে ক্লাবের সুনাম হবে। সেই ভালোবাসা থেকেই একই ক্লাবে দীর্ঘদিন থেকেছি। ১৯৭৫ সালের পর আমাকে বিভিন্ন ক্লাব অনেক টাকার অফার করেছিল। আমি তো ক্লাব ছাড়িনি। ক্লাবের প্রতি আপনারও তো কিছু দায়-দায়িত্ব থাকে, তাই না! বলতে পারেন সেই দায়িত্ব থেকেই ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় আবাহনীতে থেকেছি।

যুগান্তর: খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন কী সেই আন্তরিকতার অভাব দেখছেন?

কাজী সালাউদ্দিন: আমি এটা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেব না। এখানে আমি ক্লাবকেও দোষ দেব না, আবার প্লেয়ারকেও দোষ দেব না। এটার ওপর আমি কোনো বক্তব্য রাখব না।

যুগান্তর: আপনারা যখন খেলতেন তখন দর্শকে মাঠ ভরা থাকত। আর এখন লোভনীয় অফার দিয়েও দর্শকদের মাঠে আনা যাচ্ছে না। এর কারণ কী?

কাজী সালাউদ্দিন: কয়েকটা কারণ আছে। এখন পৃথিবীর সব খেলাই টিভিতে দেখা যায়। দ্বিতীয় কারণ হল ট্রাফিক জ্যাম। ধরেন আমার বারিধারার বাসা থেকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আসতে-যেতে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর দুই ঘণ্টা বসে খেলা দেখা। এই পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় করে খেলা দেখা কষ্টকর।

আরেকটা বিষয় হল- আপনি যদি শেষ চার বছর দেখেন, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ নিয়ে মিডিয়ার কথা হল আমরা বিদেশ থেকে বাজে টিমি, বাজে টিম, বাজে টিম নিয়ে এসেছি। কিন্তু আমাদের কথা হল-যেসব দলকে আমরা আনলাম, তারা আমাদের দলের চেয়ে র‌্যাংকিংয়েঅনেক উপরে এবং তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে চলে যাচ্ছে। অথচ নির্দিষ্ট কয়েকটি মিডিয়া এবং কয়েকজন লোক টকশোতে যে পাবলিসিটিটা দিচ্ছে, এতে দর্শকদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে। এরকম কয়েকটা কারণেই মাঠে দর্শক আসছেন না।

ফুটবলকে গালি দিলে কীভাবে উন্নয়ন হবে: কাজী সালাউদ্দিন

 আল-মামুন 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফুটবল ক্যারিয়ারে আলোচিত কাজী সালাউদ্দিন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সমালোচিত। আর সেই সমালোচনা এড়িয়েই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) চতুর্থবারের মতো সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে আছেন এই কিংবদন্তি।

আগামী ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন। তার আগে যুগান্তরকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলার হওয়া, সফল ফুটবলার হয়েও ভালো সংগঠক না হতে পারার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দেশের এই জীবন্ত কিংবদন্তির সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। আজ পড়ুন প্রথম পর্ব-

যুগান্তর: আপনার একটা ইন্টারভিউয়ের জন্য ১৫ দিন ধরে অপেক্ষা করছি। আপনার দেয়া সময়মতো বাফুফে ভবনে গিয়ে দুই ঘণ্টা বসেছিলাম; কিন্তু ব্যস্ততা দেখিয়ে সাক্ষাৎকার দেননি। 

কাজী সালাউদ্দিন: আচ্ছা আচ্ছা, বলুন। আমি আপনাকে এখনই দিয়ে দিই। পরে আর সময় পাবেন না। এখন আমি অনেক ব্যস্ত। আমি এখন দৌড়ের ওপর আছি!

যুগান্তর: ক্যারিয়ারের শুরুতে ক্রিকেট আর ফুটবল দুটোই খেলেছেন, ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলে মন দেয়ার কারণ?

কাজী সালাউদ্দিন: ক্রিকেট তো বেসিক্যালি সাত-আটটা দেশের খেলা। বলতে পারেন কয়েকটা দেশের খেলা। আমি এমন একটা খেলা খেলতে চেয়েছিলাম যেটা পৃথিবীর সব মানুষের প্রিয়। এ কারণেই ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবল বেছে নিয়েছিলাম, আর কিচ্ছু না। 

যুগান্তর: কার পরামর্শে ফুটবল বেছে নিলেন?

কাজী সালাউদ্দিন: না না। ওসব কিছু না। আমরা যখন খেলাধুলা শুরু করেছিলাম তখন ক্রিকেট খেলে বিশ্বের মাত্র সাত-আটটা দেশ। একটা খেলা সাত-আটটা দেশ খেলে আর আরেকটা দুইশ' দেশ খেলে; দুইশ' দেশ যেটা খেলে আমি ওইটার পেছনেই গেছি। আর মানুষের কাছেও ফুটবল অনেক জনপ্রিয় খেলা। তাই ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়া।  

যুগান্তর: আপনি দেশের প্রথম স্টাইলিশ ফুটবলার ছিলেন। আপনার প্রজন্মের পর সেই মানের ফুটবলার তৈরি না হওয়ার কারণ কী?

কাজী সালাউদ্দিন: এটা সত্যি না, গত ১০ বছরে অনেক প্লেয়ার আসছে। যারা আগের অনেক প্লেয়ার থেকেও বেটার। এখন যেটা হয়েছে- যে কোনো কারণেই হোক, গত চার-পাঁচ বছরে মিডিয়া ওদের সেভাবে কাভারেজ দেয়নি। মিডিয়া বেশিরভাগ টকশোসহ সবকিছু করেছে আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগে যেসব প্লেয়াররা খেলেছে তাদের নিয়ে। আপনি যদি ফুটবলের উন্নয়ন চান! তাহলে জাতীয় দলের যেসব তারকা আছে তাদের ফোকাস দিতে হবে।

আমাদের ফুটবলাররাই কাতারকে হারিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছে। ভারতে ৮০ হাজার লোকের সামনে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু মিডিয়া তেমন ফোকাস করেনি। মিডিয়া ওদের নিয়ে তেমন কোনো কাভারেজও দ্য়েনি। যারা ৩০ বছর আগে ফুটবল খেলা ছেড়ে দিয়েছে তাদের ৫ থেকে ৬ জনকে কাভারেজ দিয়েছে। তারা শুধু ফুটবল এবং ফুটবলারদের গালি দিয়েছে। এমন হলে কীভাবে ফুটবলের উন্নয়ন হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে জামাল ভূঁইয়াকে নিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো দুই-তিনটা শো করেছে, জামাল ভূঁইয়া পপুলার হয়ে গেছে। এটাতো সবারই কর্তব্য! সব তারকা ফুটবলারকেই আপনাদের সমান গুরুত্ব দিয়ে কাভারেজ দিতে হবে। তাহলেই তারা স্টার হয়ে যাবে।

যুগান্তর: হ্যাঁ, আলফাজ আহমেদ, মামুনুল ইসলামসহ বেশ কিছু ভালোমানের ফুটবলার ...। 

কাজী সালাউদ্দিন: আপনি তো আমার কথায় রাজি হয়ে গেলেন; যাদের নাম আপনি বললেন, তাদের সঙ্গে আরও কিছু প্লেয়ার আছে। এদেরকেই যদি মিডিয়া তিন-চার বছর লাইম-লাইটে নিয়ে আসত তাহলে তারা বড় তারকা হয়ে যেত। এটা খুব দুঃখের বিষয়। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। 

যুগান্তর: দেশের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিদেশি লিগে খেলার ইতিহাস গড়েছিলেন। অথচ এখনকার প্লেয়াররা বিদেশি লিগে সুযোগই পায় না, এর কারণ কী?

কাজী সালাউদ্দিন: এখানে দুটো ব্যাপার আছে। আমাদের প্লেয়াররা দেশে যে টাকা পায় তাতে তাদের খুব একটা বিদেশে যাওয়ার দরকার প্রয়োজন পড়ে না। প্রতিবেশী দেশে গিয়ে লিগ খেলার দরকার তাদের পড়ে না। মিডিয়া ওদের লাইম-লাইটে আনে নাই যে- ওদের বিদেশিরা খেলা দেখে নেয়ার আগ্রহ দেখাবে। জামাল ভূঁইয়া এতদিন ধরে খেলে, মিডিয়া মাত্র এক বছর হল ওকে লাইম-লাইটে আনছে। আগে তো লোকে জানতই না যে, জামাল ভূঁইয়া নামে বাংলাদেশে কোনো ফুটবলার আছে। 

যুগান্তর: ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময়টাই আবাহনীতে ছিলেন। আপনার সঙ্গে যারা খেলেছেন তারা বছরান্তেই দলবদল করেছেন। একই ক্লাবে ক্যারিয়ার শেষ করা নিয়ে কী বলবেন?

কাজী সালাউদ্দিন: এটা বলতে পারেন, ক্লাবকে অউন করার মতো। আমি সবসময় মনে করতাম এটা আমার ক্লাব, আমি ভালো খেললে ক্লাবের সুনাম হবে। সেই ভালোবাসা থেকেই একই ক্লাবে দীর্ঘদিন থেকেছি। ১৯৭৫ সালের পর আমাকে বিভিন্ন ক্লাব অনেক টাকার অফার করেছিল। আমি তো ক্লাব ছাড়িনি। ক্লাবের প্রতি আপনারও তো কিছু দায়-দায়িত্ব থাকে, তাই না! বলতে পারেন সেই দায়িত্ব থেকেই ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় আবাহনীতে থেকেছি।

যুগান্তর: খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন কী সেই আন্তরিকতার অভাব দেখছেন?

কাজী সালাউদ্দিন: আমি এটা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেব না। এখানে আমি ক্লাবকেও দোষ দেব না, আবার প্লেয়ারকেও দোষ দেব না। এটার ওপর আমি কোনো বক্তব্য রাখব না। 

যুগান্তর: আপনারা যখন খেলতেন তখন দর্শকে মাঠ ভরা থাকত। আর এখন লোভনীয় অফার দিয়েও দর্শকদের মাঠে আনা যাচ্ছে না। এর কারণ কী?

কাজী সালাউদ্দিন: কয়েকটা কারণ আছে। এখন পৃথিবীর সব খেলাই টিভিতে দেখা যায়। দ্বিতীয় কারণ হল ট্রাফিক জ্যাম। ধরেন আমার বারিধারার বাসা থেকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আসতে-যেতে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর দুই ঘণ্টা বসে খেলা দেখা। এই পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় করে খেলা দেখা কষ্টকর। 

আরেকটা বিষয় হল- আপনি যদি শেষ চার বছর দেখেন, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ নিয়ে মিডিয়ার কথা হল আমরা বিদেশ থেকে বাজে টিমি, বাজে টিম, বাজে টিম নিয়ে এসেছি। কিন্তু আমাদের কথা হল-যেসব দলকে আমরা আনলাম, তারা আমাদের দলের চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে অনেক উপরে এবং তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে চলে যাচ্ছে। অথচ নির্দিষ্ট কয়েকটি মিডিয়া এবং কয়েকজন লোক টকশোতে যে পাবলিসিটিটা দিচ্ছে, এতে দর্শকদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে। এরকম কয়েকটা কারণেই মাঠে দর্শক আসছেন না।