‘ক্রিকেটের উন্নয়নটা আমি চোখে দেখলাম না’
jugantor
‘ক্রিকেটের উন্নয়নটা আমি চোখে দেখলাম না’

  আল-মামুন  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৫৬:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ফুটবল ক্যারিয়ারে আলোচিত কাজী সালাউদ্দিন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সমালোচিত। আর সেই সমালোচনা এড়িয়েই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) চতুর্থবারের মতো সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে আছেন এই কিংবদন্তি।

আগামী ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন। তার আগে যুগান্তরকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলার হওয়া, সফল ফুটবলার হয়েও ভালো সংগঠক না হতে পারার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দেশের এই জীবন্ত কিংবদন্তির সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। আজ পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব-

যুগান্তর: নব্বইয়ের দশকে দেশে ফুটবলের যে জোয়ার ছিল, এখন তা অতীত। ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে কী কী করণীয় বলে মনে করেন?

কাজী সালাউদ্দিন: ফুটবলের জনপ্রিয়তা ঠিকই আছে। ফুটবলের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে সবাইকে একটা টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। প্লেয়ারদের খেলতে হবে, অফিসিয়ালদের অর্গানাইজ করতে হবে, মিডিয়াকে সাপোর্ট দিতে হবে। মিডিয়া যদি ২৪ ঘণ্টা ফুটবলের বিরুদ্ধে বলে, বিরুদ্ধে লেখে- তাহলে দর্শক কীভাবে আসবে।

একটা সিনেমা মার্কেটে আসার আগেই যদি আপনি বলতে থাকেন- সিনেমা ভালো না, তাহলে কীভাবে সিনেমা ভালো করবে। আমাকে যখন দু’একজন ফোন করে বলেন যে, ফুটবল নাকি মরে গেছে। আমি তখন তাকে বলি, আপনি খেলা দেখেছেন, নাকি টকশো দেখে বলছেন। তিনি তখন বলেন আমি টকশোতে শুনেছি। আপনি খেলা দেখে বলেন না যে, আমরা খারাপ খেলছি! ভারতের মাঠে যে খেলাটা আমাদের ছেলেরা খেলল, এমন ফুটবল তো বাংলাদেশ অতীতে ৫০ বছরেও খেলেনি! এত ভালো খেলার পরও তেমন কোনো লাইম-লাইট হয়নি।

যখনই আপনি বলছেন, খারাপ, খারাপ, খারাপ। আপনি যুগান্তরেই টানা ১৫ দিন লেখা শুরু করেন ফুটবল খারাপ, ফুটবল খারাপ। তখন দেখবেন, আপনার দেখাদেখি আরও অনেক মিডিয়া লেখা শুরু করে দেবে, ফুটবল খারাপ। ফুটবল উন্নয়নের পেছনে এটাই একটা বড় ফ্যাক্টর।

যুগান্তর: ফিফা র‌্যাংকিং উন্নয়নে কী করা যেতে পারে?

কাজী সালাউদ্দিন: শুধু ভালো খেললেই ফিফা র‌্যাংকিং হয় না। ফ্রান্স যখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় তখন ওরা কিন্তু র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর ছিল না। চারে কিংবা পাঁচে ছিল। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অনেক কিছু বিষয় আছে, কতগুলো প্রীতি ম্যাচ খেললেন, কতগুলো ম্যাচ খেললেন, অনেক কিছুই এখানে জড়িত। ভারত যেমন বছরে ফিফার ১০-১২টা প্রীতি ম্যাচ খেলে। এই ১০-১২টা ম্যাচ খেলতে আমাদের ১০-১২ কোটি টাকা লাগবে। আমাদের কাছে এত টাকা নেই, তাই আমরা একটা ম্যাচ খেলি।

আমি যখন বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব নেই, তখন বাংলাদেশ ছিল ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৮০ পজিশনে। সেখানে থেকে নামতে নামতে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ১৯০ এ গেল। সেখান থেকে টেনে টেনে এখন ১৮৭তে নিয়ে এসেছি। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ভালো পজিশনে আসতেহলে আরমিনিমাম ১৫-২০ বছর লাগবে। ভারতে যেভাবে খেলেছি, সেটারধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেবাংলাদেশ একটা সময়ে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৫০-এর নিচে চলে আসবে।

যুগান্তর: আপনাদের সময়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই ক্রিকেট আর ফুটবল ম্যাচ হতো। তখন ফুটবলাররা মাঠ না ছাড়লে ক্রিকেটাররা প্র্যাকটিসের সুযোগই পেত না। অবহেলিত সেই ক্রিকেটাররাই এখন বিশ্বকাপে খেলছে, অথচ ফুটবল...?

কাজী সালাউদ্দিন: আহা! ভারত এটা (ক্রিকেট) ভালো খেলে বলেই এটায় (ক্রিকেটে)অনেক টাকা-পয়সা খরচ করছে। এখানে তো লিগ নাই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রায় একশটা স্টেডিয়াম প্রতিনিয়ত ফুটবল খেলায় ব্যস্ত থাকে। ক্রিকেটে কী সেটা আছে! কাজেই ক্রিকেট আর ফুটবলকে এক করবেন না। এ ব্যাপারে আমি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি না।

যুগান্তর: সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের পরিচালক বানিয়ে দেশের ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নাজমুল হাসান পাপন ভাই, অথচ আপনার আশপাশে বেশ কয়েকজন সাবেক তারকা ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও ফুটবলের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি, না হওয়ার অন্তরায় কোথায়?

কাজী সালাউদ্দিন: দেখেন আপনি ফুটবলকে ক্রিকেটের সঙ্গে কম্পেয়ার কইরেন না। আপনি দেখেন- বিশ্বের ১০টা ক্রিকেট দলের মধ্যে বাংলাদেশ ৮ নম্বর। দশটার মধ্যে আট নম্বর, উন্নয়নটা তো আমি চোখে দেখলাম না। দশের মধ্যে আপনি আট! আরেকটা কথা হল-ক্রিকেট আর ফুটবল তো এক জিনিস না।

বার্সেলোনা অথবা রিয়াল মাদ্রিদের একটা ফুটবল প্লেয়ার যদি আপনি বিক্রি করেন তাহলে আপনি আপনার উঠানে (আপনার দেশে) দুইটা (ক্রিকেট) বিশ্বকাপ করতে পারবেন। কাজেই ফুটবলের সঙ্গে আপনি ক্রিকেটকে মিলাতে পারেন না। আমার মনে হয় ক্রিকেট ফুটবল নিয়ে একসঙ্গে আমাদের কোনো বক্তব্যই রাখা উচিত নয়।

সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

‘ক্রিকেটের উন্নয়নটা আমি চোখে দেখলাম না’

 আল-মামুন 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফুটবল ক্যারিয়ারে আলোচিত কাজী সালাউদ্দিন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সমালোচিত। আর সেই সমালোচনা এড়িয়েই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) চতুর্থবারের মতো সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে আছেন এই কিংবদন্তি।

আগামী ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন। তার আগে যুগান্তরকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলার হওয়া, সফল ফুটবলার হয়েও ভালো সংগঠক না হতে পারার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দেশের এই জীবন্ত কিংবদন্তির সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। আজ  পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব-

যুগান্তর: নব্বইয়ের দশকে দেশে ফুটবলের যে জোয়ার ছিল, এখন তা অতীত। ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে কী কী করণীয় বলে মনে করেন?

কাজী সালাউদ্দিন: ফুটবলের জনপ্রিয়তা ঠিকই আছে। ফুটবলের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে সবাইকে একটা টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। প্লেয়ারদের খেলতে হবে, অফিসিয়ালদের অর্গানাইজ করতে হবে, মিডিয়াকে সাপোর্ট দিতে হবে। মিডিয়া যদি ২৪ ঘণ্টা ফুটবলের বিরুদ্ধে বলে, বিরুদ্ধে লেখে- তাহলে দর্শক কীভাবে আসবে। 

একটা সিনেমা মার্কেটে আসার আগেই যদি আপনি বলতে থাকেন- সিনেমা ভালো না, তাহলে কীভাবে সিনেমা ভালো করবে। আমাকে যখন দু’একজন ফোন করে বলেন যে, ফুটবল নাকি মরে গেছে। আমি তখন তাকে বলি, আপনি খেলা দেখেছেন, নাকি টকশো দেখে বলছেন। তিনি তখন বলেন আমি টকশোতে শুনেছি। আপনি খেলা দেখে বলেন না যে, আমরা খারাপ খেলছি! ভারতের মাঠে যে খেলাটা আমাদের ছেলেরা খেলল, এমন ফুটবল তো বাংলাদেশ অতীতে ৫০ বছরেও খেলেনি! এত ভালো খেলার পরও তেমন কোনো লাইম-লাইট হয়নি। 

যখনই আপনি বলছেন, খারাপ, খারাপ, খারাপ। আপনি যুগান্তরেই টানা ১৫ দিন লেখা শুরু করেন ফুটবল খারাপ, ফুটবল খারাপ। তখন দেখবেন, আপনার দেখাদেখি আরও অনেক মিডিয়া লেখা শুরু করে দেবে, ফুটবল খারাপ। ফুটবল উন্নয়নের পেছনে এটাই একটা বড় ফ্যাক্টর।  

যুগান্তর: ফিফা র‌্যাংকিং উন্নয়নে কী করা যেতে পারে?

কাজী সালাউদ্দিন: শুধু ভালো খেললেই ফিফা র‌্যাংকিং হয় না। ফ্রান্স যখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় তখন ওরা কিন্তু র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর ছিল না। চারে কিংবা পাঁচে ছিল। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অনেক কিছু বিষয় আছে, কতগুলো প্রীতি ম্যাচ খেললেন, কতগুলো ম্যাচ খেললেন, অনেক কিছুই এখানে জড়িত। ভারত যেমন বছরে ফিফার ১০-১২টা প্রীতি ম্যাচ খেলে। এই ১০-১২টা ম্যাচ খেলতে আমাদের ১০-১২ কোটি টাকা লাগবে। আমাদের কাছে এত টাকা নেই, তাই আমরা একটা ম্যাচ খেলি। 

আমি যখন বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব নেই, তখন বাংলাদেশ ছিল ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৮০ পজিশনে। সেখানে থেকে নামতে নামতে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ১৯০ এ গেল। সেখান থেকে টেনে টেনে এখন ১৮৭তে নিয়ে এসেছি। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ভালো পজিশনে আসতে হলে আর মিনিমাম ১৫-২০ বছর লাগবে। ভারতে যেভাবে খেলেছি, সেটার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশ একটা সময়ে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৫০-এর নিচে চলে আসবে।

যুগান্তর: আপনাদের সময়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই ক্রিকেট আর ফুটবল ম্যাচ হতো। তখন ফুটবলাররা মাঠ না ছাড়লে ক্রিকেটাররা প্র্যাকটিসের সুযোগই পেত না। অবহেলিত সেই ক্রিকেটাররাই এখন বিশ্বকাপে খেলছে, অথচ ফুটবল...?

কাজী সালাউদ্দিন: আহা! ভারত এটা (ক্রিকেট) ভালো খেলে বলেই এটায় (ক্রিকেটে) অনেক টাকা-পয়সা খরচ করছে। এখানে তো লিগ নাই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রায় একশটা স্টেডিয়াম প্রতিনিয়ত ফুটবল খেলায় ব্যস্ত থাকে। ক্রিকেটে কী সেটা আছে! কাজেই ক্রিকেট আর ফুটবলকে এক করবেন না। এ ব্যাপারে আমি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি না। 

যুগান্তর: সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের পরিচালক বানিয়ে দেশের ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নাজমুল হাসান পাপন ভাই, অথচ আপনার আশপাশে বেশ কয়েকজন সাবেক তারকা ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও ফুটবলের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি, না হওয়ার অন্তরায় কোথায়?

কাজী সালাউদ্দিন: দেখেন আপনি ফুটবলকে ক্রিকেটের সঙ্গে কম্পেয়ার কইরেন না। আপনি দেখেন- বিশ্বের ১০টা ক্রিকেট দলের মধ্যে বাংলাদেশ ৮ নম্বর। দশটার মধ্যে আট নম্বর, উন্নয়নটা তো আমি চোখে দেখলাম না। দশের মধ্যে আপনি আট! আরেকটা কথা হল-ক্রিকেট আর ফুটবল তো এক জিনিস না।

বার্সেলোনা অথবা রিয়াল মাদ্রিদের একটা ফুটবল প্লেয়ার যদি আপনি বিক্রি করেন তাহলে আপনি আপনার উঠানে (আপনার দেশে) দুইটা (ক্রিকেট) বিশ্বকাপ করতে পারবেন। কাজেই ফুটবলের সঙ্গে আপনি ক্রিকেটকে মিলাতে পারেন না। আমার মনে হয় ক্রিকেট ফুটবল নিয়ে একসঙ্গে আমাদের কোনো বক্তব্যই রাখা উচিত নয়।

সাক্ষাৎকারের  প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন