নিজেকে ব্যর্থ সভাপতি মানতে নারাজ সালাউদ্দিন
jugantor
নিজেকে ব্যর্থ সভাপতি মানতে নারাজ সালাউদ্দিন

  আল-মামুন  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:১০:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

ফুটবল ক্যারিয়ারে আলোচিত কাজী সালাউদ্দিন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সমালোচিত। আর সেই সমালোচনা এড়িয়েই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) চতুর্থবারের মতো সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে আছেন এ কিংবদন্তি।

আগামী ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন। তার আগে যুগান্তরকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলার হওয়া, সফল ফুটবলার হয়েও ভালো সংগঠক না হতে পারার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দেশের এই জীবন্ত কিংবদন্তির সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। আজ পড়ুন শেষ পর্ব-

যুগান্তর: করোনায় সারা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংকট মুহূর্তে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনই কি ব্যতিক্রম নয়, যারা মৃত্যুঝুঁকির মধ্যেও চেয়ার দখলের লড়াই করছে?

কাজী সালাউদ্দিন: আহা! করোনার মধ্যেই তো বিশ্বের অনেক দেশে খেলা হচ্ছে। এই তো সেদিন স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল হলো, বায়ার্ন মিউনিখ জিতল। খেলা তো আপনার শুরু হয়েছে। করোনার জন্য তো আর সারা পৃথিবী বসে নেই।

যুগান্তর: আপনার প্রতিপক্ষ হিসেবে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের অনেকেই বলছেন– এখন নির্বাচন না করে আরও কিছু দিন পেছালে ভালো হতো...?

কাজী সালাউদ্দিন: শোনেন, একটা কথা বলি। যে চেয়ার থাকে সে সবসময় নির্বাচন দিতে চায় না। এটাই পৃথিবীর নিয়ম। এটা আপনি রাজনৈতিকই বলেন আর অরাজনৈতিকই বলেন না কেন! যে চেয়ারে থাকে সে চায় নির্বাচন যত দিন পারে পেছাতে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আমি চেয়ারে থেকেও সময়মতো নির্বাচন দিতে চাচ্ছি। যারা প্রতিপক্ষ তারা নির্বাচন চায় না। এটার মানেটা আমি বুঝলাম না, এখানে উল্টোটা হচ্ছে।

যুগান্তর: অনেকেই বলছেন নির্বাচনের আগে আপনার চেয়ার ছাড়া উচিত ছিল। কারণ চেয়ারে থেকে নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে পারেন। এ ব্যাপারে আপনি কি বলবেন?

কাজী সালাউদ্দিন: এখানে প্রভাব খাটানোর কোনো স্কোপই নেই। আজকে কেন, আমি যদি দুই বছর পরও নির্বাচন দিই, তখনও তো একই হবে।

যুগান্তর: গত নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে শক্তিশালী জাতীয় দল গঠন, জেলা লিগ চালু, ফুটবল একাডেমি চালু এবং বাংলাদেশ দলকে ২০২২ বিশ্বকাপে খেলাবেন। কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এ জন্য নিজেকে কী ব্যর্থ সভাপতি মনে হয়?

কাজী সালাউদ্দিন: আমার কথাগুলো সবসময় কিন্তু টুইস্ট করা হয়। আমি বলেছিলাম আমাদের টার্গেট হবে ২০২২ সালে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা। কোয়ালিফাই তো নাও করাতে পারি। হল্যান্ডও কোয়ালিফাই করতে পারেনি, তাই না! তবে আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। চেষ্টা করেও যখন পারিনি, তখন দুঃখের বিষয়। এখানে অনেক কারণ আছে। বাস্তবতার কারণেই এটা হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে হয় সেটি নিয়ে কাজ করতে হবে।

যুগান্তর: গত নির্বাচনে বলেছিলেন– সভাপতি পদে এটাই আমার শেষ নির্বাচন; এবার আবার নির্বাচন করছেন। আপনি কি মনে করেন-সভাপতির চেয়ারে বসার মতো যোগ্য আর কেউ নেই?

কাজী সালাউদ্দিন: ওইটা আমি বলতে রাজি নই। এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আমি যেটার উত্তর দেব; আমি যে কাজ করেছি, সেটার ডেভেলপমেন্ট শুরু হয়েছে। আমি গাফটি দিয়েছি, এখানে একটা প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এখন বিল্ডিংটা উঠবে। আমি মনে করি বিল্ডিংটা ওঠার জন্য আমার আরও কিছু দিন থেকে কাজ করা উচিত।

যুগান্তর: ‘স্ট্রাইকার হিসেবে অনায়াসেই গোল করেছেন, সংগঠক হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে জয়, গোল করার’ চেয়েও কি কঠিন মনে করেন?

কাজী সালাউদ্দিন: গোল তো করেছি নিজের দক্ষতায়। আর ভোট দেয়া তো আরেকজনের মর্জির ওপর নির্ভর করে।

যুগান্তর: সভাপতির চেয়ার থেকে সরে গেলে বাংলাদেশ ফুটবলকে কোন পজিশনে দেখতে চান?

কাজী সালাউদ্দিন: সবসময়ই ওপরে দেখতে চাই। ভালো পজিশনে দেখতে চাই।

যুগান্তর: শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, নিশ্চয়ই ভালো থাকবেন।

কাজী সালাউদ্দিন: আপনাকেও ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন। করোনার এই সময়ে ভালো থাকাটাই চ্যালেঞ্জিং।

সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সাক্ষাৎকারের তৃতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

নিজেকে ব্যর্থ সভাপতি মানতে নারাজ সালাউদ্দিন

 আল-মামুন 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফুটবল ক্যারিয়ারে আলোচিত কাজী সালাউদ্দিন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সমালোচিত। আর সেই সমালোচনা এড়িয়েই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) চতুর্থবারের মতো সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে আছেন এ কিংবদন্তি।

আগামী ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন। তার আগে যুগান্তরকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলার হওয়া, সফল ফুটবলার হয়েও ভালো সংগঠক না হতে পারার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দেশের এই জীবন্ত কিংবদন্তির সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। আজ পড়ুন শেষ পর্ব-

যুগান্তর: করোনায় সারা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংকট মুহূর্তে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনই কি ব্যতিক্রম নয়, যারা মৃত্যুঝুঁকির মধ্যেও চেয়ার দখলের লড়াই করছে?

কাজী সালাউদ্দিন: আহা! করোনার মধ্যেই তো বিশ্বের অনেক দেশে খেলা হচ্ছে। এই তো সেদিন স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল হলো, বায়ার্ন মিউনিখ জিতল। খেলা তো আপনার শুরু হয়েছে। করোনার জন্য তো আর সারা পৃথিবী বসে নেই।

যুগান্তর: আপনার প্রতিপক্ষ হিসেবে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের অনেকেই বলছেন– এখন নির্বাচন না করে আরও কিছু দিন পেছালে ভালো হতো...?

কাজী সালাউদ্দিন: শোনেন, একটা কথা বলি। যে চেয়ার থাকে সে সবসময় নির্বাচন দিতে চায় না। এটাই পৃথিবীর নিয়ম। এটা আপনি রাজনৈতিকই বলেন আর অরাজনৈতিকই বলেন না কেন! যে চেয়ারে থাকে সে চায় নির্বাচন যত দিন পারে পেছাতে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আমি চেয়ারে থেকেও সময়মতো নির্বাচন দিতে চাচ্ছি। যারা প্রতিপক্ষ তারা নির্বাচন চায় না। এটার মানেটা আমি বুঝলাম না, এখানে উল্টোটা হচ্ছে। 

যুগান্তর: অনেকেই বলছেন নির্বাচনের আগে আপনার চেয়ার ছাড়া উচিত ছিল। কারণ চেয়ারে থেকে নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে পারেন। এ ব্যাপারে আপনি কি বলবেন?

কাজী সালাউদ্দিন:  এখানে প্রভাব খাটানোর কোনো স্কোপই নেই। আজকে কেন, আমি যদি দুই বছর পরও নির্বাচন দিই, তখনও তো একই হবে। 

যুগান্তর: গত নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে শক্তিশালী জাতীয় দল গঠন, জেলা লিগ চালু, ফুটবল একাডেমি চালু এবং বাংলাদেশ দলকে ২০২২ বিশ্বকাপে খেলাবেন। কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এ জন্য নিজেকে কী ব্যর্থ সভাপতি মনে হয়?

কাজী সালাউদ্দিন: আমার কথাগুলো সবসময় কিন্তু টুইস্ট করা হয়। আমি বলেছিলাম আমাদের টার্গেট হবে ২০২২ সালে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা। কোয়ালিফাই তো নাও করাতে পারি। হল্যান্ডও কোয়ালিফাই করতে পারেনি, তাই না! তবে আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। চেষ্টা করেও যখন পারিনি, তখন দুঃখের বিষয়। এখানে অনেক কারণ আছে। বাস্তবতার কারণেই এটা হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে হয় সেটি নিয়ে কাজ করতে হবে। 

যুগান্তর: গত নির্বাচনে বলেছিলেন– সভাপতি পদে এটাই আমার শেষ নির্বাচন; এবার আবার নির্বাচন করছেন। আপনি কি মনে করেন-সভাপতির চেয়ারে বসার মতো যোগ্য আর কেউ নেই?

কাজী সালাউদ্দিন: ওইটা আমি বলতে রাজি নই। এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আমি যেটার উত্তর দেব; আমি যে কাজ করেছি, সেটার ডেভেলপমেন্ট শুরু হয়েছে। আমি গাফটি দিয়েছি, এখানে একটা প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এখন বিল্ডিংটা উঠবে। আমি মনে করি বিল্ডিংটা ওঠার জন্য আমার আরও কিছু দিন থেকে কাজ করা উচিত। 

যুগান্তর: ‘স্ট্রাইকার হিসেবে অনায়াসেই গোল করেছেন, সংগঠক হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে জয়, গোল করার’ চেয়েও কি কঠিন মনে করেন?

কাজী সালাউদ্দিন: গোল তো করেছি নিজের দক্ষতায়। আর ভোট দেয়া তো আরেকজনের মর্জির ওপর নির্ভর করে। 

যুগান্তর: সভাপতির চেয়ার থেকে সরে গেলে বাংলাদেশ ফুটবলকে কোন পজিশনে দেখতে চান?

কাজী সালাউদ্দিন: সবসময়ই ওপরে দেখতে চাই। ভালো পজিশনে দেখতে চাই। 

যুগান্তর: শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, নিশ্চয়ই ভালো থাকবেন।

কাজী সালাউদ্দিন: আপনাকেও ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন। করোনার এই সময়ে ভালো থাকাটাই চ্যালেঞ্জিং।

সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সাক্ষাৎকারের তৃতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন