‘পড়াশোনা তেমন করতে পারিনি, নসিবে যা আছে তাই হবে’
jugantor
‘পড়াশোনা তেমন করতে পারিনি, নসিবে যা আছে তাই হবে’

  আল-মামুন  

১৪ অক্টোবর ২০২০, ২০:৪১:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে খুলনার অজোপাড়া গাঁ থেকে উঠে এসে জাতীয় তারকা হয়েছেন সালমা খাতুন। তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপ এবং এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জিতে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ফলেই দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।আইপিএলে অংশ নিতে সংযুক্তআরব আমিরাত যাওয়ার আগে যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ নারী দলের এই অধিনায়ক। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন

যুগান্তর: আইপিএলে সুযোগ পাচ্ছেন, আপনার অনুভূতি...?

সালমা খাতুন: আইপিলে ডাক পেয়েছি শোনার পর থেকেই ভালো লাগছে। গত বছর জাহানারা আলম খেলেছে। এ বছর আমরা দুইজন খেলব। আইপিএলে আমরা বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করব।

যুগান্তর: আইপিএল খেলতে কবে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন?

সালমা খাতুন: সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ অক্টোবর দুবাইয়ের বিমানে উঠব।

যুগান্তর: আইপিএলে সুযোগ পাওয়ার পেছনে কোন টুর্নামেন্ট কাজে দিয়েছে?

সালমা খাতুন: আমার মনে হয় এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স কাজে দিয়েছে। আমরা টানা ছয় আসরেচ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছি।

যুগান্তর: আইপিএলে আপনার টার্গেট?

সালমা খাতুন: অলরাউন্ডার হিসেবে ভালো খেলাই লক্ষ্য। এমন পারফরম্যান্স করতে চাই, যাতে আগামীতেও সুযোগ আসে।

যুগান্তর: আপনার নেতৃত্বে প্রথম এশিয়া কাপ জয়, এসএ গেমসে স্বর্ণপদক লাভ ও ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে ওঠা। এই তিন অজর্নের কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?

সালমা খাতুন: তিনটাই আসলে স্পেশাল। ছেলেদের আগে আমরাই দেশকে প্রথম এশিয়া কাপ উপহার দিয়েছি। সেজন্য এশিয়া কাপকেই এগিয়ে রাখব।

যুগান্তর: কখন মনে হল ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

সালমা খাতুন: আমাদের দেশে ২০০৭ সালে নারী দলের ক্রিকেট শুরু হয়, ২০১১ সালে আমরা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাই। তারপর মনে হয়েছে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়।

যুগান্তর: ক্রিকেটার না হলে কোন পেশা বেছে নিতেন?

সালমা খাতুন: কঠিন প্রশ্ন, হয়তো বিয়ে করে সাংসারিক হতাম। আমি অষ্টম শ্রেণির বেশি পড়াশোনা করতে পারিনি যে, ভালো চাকরি করব। স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলেছি, খেলায় মন দিতে গিয়ে পড়াশোনা হয়নি।

যুগান্তর: এ বছর কি আপনার বিয়ের নিমন্ত্রণ পাব?

সালমা খাতুন: পরিবার থেকে ছেলে দেখা হচ্ছে। যেহেতু মেয়ে হিসেবে জন্মেছি বিয়ে তো করতেই হবে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই নিমন্ত্রণ পাবেন।

যুগান্তর: কেমন পাত্র আপনার পছন্দ?

সালমা খাতুন: সত্যি কথা বলতে, আমি সহজ -সরল একটা মেয়ে। আমি চাই আমার জীবনে ভালো একটা ছেলে আসুক। আমি যেরকম আমার মতো সহজ-সরল পাত্র হলেই হবে, বেশি কিছু চাই না। তাছাড়া পড়াশুনাও তেমন করতে পারিনি, আমার চেহারাও অতটা ভালো না। নসিবে যা আছে তাই হবে। বিয়ে হলে সে যেন আমাকে ক্রিকেটের জন্য সাপোর্ট করে।

যুগান্তর: কার খেলা ফলো করেন?

সালমা খাতুন: ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সাকিব আরমাশরাফি ভাইয়ের খেলা খুব ভালো লাগে। পাকিস্তানের সাঈদ আনোয়ারের ব্যাটিং মন দিয়ে দেখতাম। ভারতের খেলা তেমন দেখা হয় না,শচীন টেন্ডুলকারযতদিন খেলেছেনততদিন ভারতের খেলা দেখেছি।

যুগান্তর: অবসরে কী করার চিন্তা করছেন?

সালমা খাতুন: একজন স্পোর্টস ম্যান হিসেবে ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চাই। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

যুগান্তর: কখনও যদি মেয়েদের এশিয়া একাদশের সঙ্গে বিশ্ব একাদশ হয়, আপনি এশিয়া একাদশেরঅধিনায়ক হিসেবে বিদেশিকোন কোন ক্রিকেটারকে দলেনেবেন?

সালমা খাতুন: ভারতের হারমানপ্রীত, মিতালি রাজ, ওপেনারস্মৃতি মান্দানাকে নেব। পাকিস্তান থেকেবিসমাহ মারুফ আর শ্রীলংকা থেকে নেব চামারি আত্তাপাত্তুকে।

যুগান্তর: দেশের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হলে কোন জিনিসগুলোর পরিবর্তন করবেন?

সালমা খাতুন: এটা আসলে বলা মুশকিল। দেশে অনেক নারী ও শিশু নির্যাতিত হচ্ছে, এখন হয়তো মিডিয়ায় বেশি ফোকাস হচ্ছে। আমার সুযোগ থাকলে যারা এ কাজগুলো করছে তাদের সবাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতাম। ধর্ষণ আর হত্যার দ্রুত বিচার হলে মানুষের মনে ভয়ে থাকবে।

যুগান্তর: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

সালমা খাতুন: আপনাকেও ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

‘পড়াশোনা তেমন করতে পারিনি, নসিবে যা আছে তাই হবে’

 আল-মামুন 
১৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে খুলনার অজোপাড়া গাঁ থেকে উঠে এসে জাতীয় তারকা হয়েছেন সালমা খাতুন। তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপ এবং এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জিতে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ফলেই দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। আইপিএলে অংশ নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার আগে যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ নারী দলের এই অধিনায়ক। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্পোর্টস রিপোর্টার আল-মামুন। 

যুগান্তর: আইপিএলে সুযোগ পাচ্ছেন, আপনার অনুভূতি...?

সালমা খাতুন: আইপিলে ডাক পেয়েছি শোনার পর থেকেই ভালো লাগছে। গত বছর জাহানারা আলম খেলেছে। এ বছর আমরা দুইজন খেলব। আইপিএলে আমরা বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করব।

যুগান্তর: আইপিএল খেলতে কবে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন?

সালমা খাতুন: সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ অক্টোবর দুবাইয়ের বিমানে উঠব।

যুগান্তর: আইপিএলে সুযোগ পাওয়ার পেছনে কোন টুর্নামেন্ট কাজে দিয়েছে?

সালমা খাতুন: আমার মনে হয় এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স কাজে দিয়েছে। আমরা টানা ছয় আসরে চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছি।

যুগান্তর: আইপিএলে আপনার টার্গেট?

সালমা খাতুন: অলরাউন্ডার হিসেবে ভালো খেলাই লক্ষ্য। এমন পারফরম্যান্স করতে চাই, যাতে আগামীতেও সুযোগ আসে।

যুগান্তর: আপনার নেতৃত্বে প্রথম এশিয়া কাপ জয়, এসএ গেমসে স্বর্ণপদক লাভ ও ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে ওঠা। এই তিন অজর্নের কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?

সালমা খাতুন: তিনটাই আসলে স্পেশাল। ছেলেদের আগে আমরাই দেশকে প্রথম এশিয়া কাপ উপহার দিয়েছি। সেজন্য এশিয়া কাপকেই এগিয়ে রাখব।

যুগান্তর: কখন মনে হল ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

সালমা খাতুন: আমাদের দেশে ২০০৭ সালে নারী দলের ক্রিকেট শুরু হয়, ২০১১ সালে আমরা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাই।  তারপর মনে হয়েছে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়।

যুগান্তর: ক্রিকেটার না হলে কোন পেশা বেছে নিতেন?

সালমা খাতুন: কঠিন প্রশ্ন, হয়তো বিয়ে করে সাংসারিক হতাম। আমি অষ্টম শ্রেণির বেশি পড়াশোনা করতে পারিনি যে, ভালো চাকরি করব। স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলেছি, খেলায় মন দিতে গিয়ে পড়াশোনা হয়নি। 

যুগান্তর: এ বছর কি আপনার বিয়ের নিমন্ত্রণ পাব? 

সালমা খাতুন: পরিবার থেকে ছেলে দেখা হচ্ছে। যেহেতু মেয়ে হিসেবে জন্মেছি বিয়ে তো করতেই হবে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই নিমন্ত্রণ পাবেন।

যুগান্তর: কেমন পাত্র আপনার পছন্দ?

সালমা খাতুন: সত্যি কথা বলতে, আমি সহজ -সরল একটা মেয়ে।  আমি চাই আমার জীবনে ভালো একটা ছেলে আসুক। আমি যেরকম আমার মতো সহজ-সরল পাত্র হলেই হবে, বেশি কিছু চাই না। তাছাড়া পড়াশুনাও তেমন করতে পারিনি, আমার চেহারাও অতটা ভালো না। নসিবে যা আছে তাই হবে। বিয়ে হলে সে যেন আমাকে ক্রিকেটের জন্য সাপোর্ট করে।

যুগান্তর: কার খেলা ফলো করেন? 

সালমা খাতুন: ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সাকিব আর মাশরাফি ভাইয়ের খেলা খুব ভালো লাগে। পাকিস্তানের সাঈদ আনোয়ারের ব্যাটিং মন দিয়ে দেখতাম। ভারতের খেলা তেমন দেখা হয় না, শচীন টেন্ডুলকার যতদিন খেলেছেন ততদিন ভারতের খেলা দেখেছি। 

যুগান্তর: অবসরে কী করার চিন্তা করছেন?

সালমা খাতুন: একজন স্পোর্টস ম্যান হিসেবে ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চাই। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। 

যুগান্তর: কখনও যদি মেয়েদের এশিয়া একাদশের সঙ্গে বিশ্ব একাদশ হয়, আপনি এশিয়া একাদশের অধিনায়ক হিসেবে বিদেশি কোন কোন ক্রিকেটারকে দলে নেবেন?

সালমা খাতুন: ভারতের হারমানপ্রীত, মিতালি রাজ, ওপেনার স্মৃতি মান্দানাকে নেব। পাকিস্তান থেকে বিসমাহ মারুফ আর শ্রীলংকা থেকে নেব চামারি আত্তাপাত্তুকে। 

যুগান্তর: দেশের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হলে কোন জিনিসগুলোর পরিবর্তন করবেন?

সালমা খাতুন: এটা আসলে বলা মুশকিল। দেশে অনেক নারী ও শিশু নির্যাতিত হচ্ছে, এখন হয়তো মিডিয়ায় বেশি ফোকাস হচ্ছে। আমার সুযোগ থাকলে যারা এ কাজগুলো করছে তাদের সবাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতাম। ধর্ষণ আর হত্যার দ্রুত বিচার হলে মানুষের মনে ভয়ে থাকবে। 

যুগান্তর: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

সালমা খাতুন: আপনাকেও ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।