আমার মৃত্যুর পর ঈশ্বরও আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন: পেলে
jugantor
আমার মৃত্যুর পর ঈশ্বরও আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন: পেলে

  স্পোর্টস ডেস্ক  

২৩ অক্টোবর ২০২০, ১১:২৮:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

৮০ পূর্ণ করেছেন ফুটবলের ‘কালোমানিক’ পেলে। আজ শুক্রবার এই ব্রাজিলীয় কিংবদন্তির ৮০তম জন্মদিন।

১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর ব্রাজিলের সাওপাওলো শহরের ট্রেস কোরাকয়েসের এক বস্তিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন পেলে। বিদ্যুতের আবিষ্কারক বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের সঙ্গে মিল রেখে পেলের নাম রাখেন তার বাবা-মা ‘এডিসন অরান্তেস দো নাসিমেন্তো’।

তবে বস্তির বন্ধুরা পেলেকে ‘ডিকো’ নামেই ডাকত। কিন্তু ফুটবলের রাজ্যে কালোমানিক বলতে একজনই। তিনি হচ্ছেন পেলে।

পেলেকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার বললেই তার সঙ্গে ম্যারাডোনাকে জড়িয়ে অনেকে বিতর্কে মাতেন। তবে এ ক্ষেত্রে ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপজয়ী (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০) পেলেকে এগিয়ে রাখছেন বেশিরভাগ ফুটবলবোদ্ধা।

তর্ক যাই হোক, পেলেকে ফুটবল সম্রাট হিসেবে মানেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ম্যারাডোনাও।

করোনায় বিধ্বস্ত ব্রাজিলে এবার ঘটা করে নিজের ৮০তম জন্মদিন পালন করবেন না পেলে। তবে এদিন উপলক্ষে এবার গান রিলিজ করেছেন পেলে। জুটি বেঁধেছেন গ্র্যামিজয়ী মেক্সিকান দ্বৈত গিটারিস্ট রদ্রিগো ওয়াই গ্যাব্রিয়েলার (রদ্রিগো ও গ্যাব্রিয়েলা) সঙ্গে।

গানটির শিরোনাম ‘আর্কেদিতা নো ভেইয়ো’ (বাংলায়– বুড়োর কথা শুনো)। ২০০৫ সালে ব্রাজিলিয়ান জ্যাজ মিউজিশিয়ান ও নির্দেশক রুসিয়া দুপ্রাতের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছিলেন পেলে। গানে কণ্ঠও দিয়েছেন পেলে।

নিজের জন্মদিন ও গান উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তাও পাঠিয়েছেন।

ব্রাজিলীয় গ্রেট বলেছেন, ‘আমাদের প্রিয় ফুটবলের জন্য সারা দুনিয়া যেভাবে আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে, আশা করি, আমার মৃত্যুর পর ঈশ্বরও আমাকে একইভাবে গ্রহণ করবেন। প্রিয় ফুটবলের জন্য আমি সারা বিশ্ব থেকেই প্রশংসা পেয়েছি।’

গান প্রকাশের বিষয়ে পেলে বলেন, ‘আমি অনেক বই লিখেছি। অনেক গোল করেছি। সন্তানের বাবা হয়েছি। অনেক গাছ লাগিয়েছি। আমার জীবনে অপূর্ণতা বলতে ছিল শুধু সংগীত। ৮০তম জন্মদিনে সেটিও হলো।’

পেলে নিজের জীবনীতে লিখেছেন– অর্থাভাবে অনুশীলনের জন্য একটি বলও কিনতে পারতেন না। পুরনো মোজায় খবরের কাগজ মুড়িয়ে ফুটবল বানিয়ে খেলতেন। ১৫ বছর বয়সে জীবনের মোড় ঘুরে যায় পেলের। তার প্রতিভা নজরে আসে সান্তোসের গ্রেট ওয়ালডেমার ডি ব্রিটোর। উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সান্তোস ক্লাবে। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্রাজিল দলও পেলের ওপর ভর করে রাজত্ব করেছে ফুটবলবিশ্বে।

পেলের হাত ধরে ব্রাজিল পেয়েছে অনেক অনেক সাফল্য। তিনবার বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন দেশকে। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে এক হাজার ৩৬৬ ম্যাচ খেলে পেলে গোল করেছেন এক হাজার ২৮৩টি। আর ব্রাজিলের জার্সিতে ৯২ ম্যাচে ৭৭ গোল করেন তিনি।

আমার মৃত্যুর পর ঈশ্বরও আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন: পেলে

 স্পোর্টস ডেস্ক 
২৩ অক্টোবর ২০২০, ১১:২৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

৮০ পূর্ণ করেছেন ফুটবলের ‘কালোমানিক’ পেলে। আজ শুক্রবার এই ব্রাজিলীয় কিংবদন্তির ৮০তম জন্মদিন।

১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর ব্রাজিলের সাওপাওলো শহরের ট্রেস কোরাকয়েসের এক বস্তিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন পেলে। বিদ্যুতের আবিষ্কারক বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের সঙ্গে মিল রেখে পেলের নাম রাখেন তার বাবা-মা ‘এডিসন অরান্তেস দো নাসিমেন্তো’। 

তবে বস্তির বন্ধুরা পেলেকে ‘ডিকো’ নামেই ডাকত। কিন্তু ফুটবলের রাজ্যে কালোমানিক বলতে একজনই। তিনি হচ্ছেন পেলে।

পেলেকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার বললেই তার সঙ্গে ম্যারাডোনাকে জড়িয়ে অনেকে বিতর্কে মাতেন। তবে এ ক্ষেত্রে ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপজয়ী (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০) পেলেকে এগিয়ে রাখছেন বেশিরভাগ ফুটবলবোদ্ধা।  

তর্ক যাই হোক, পেলেকে ফুটবল সম্রাট হিসেবে মানেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ম্যারাডোনাও। 

করোনায় বিধ্বস্ত ব্রাজিলে এবার ঘটা করে নিজের ৮০তম জন্মদিন পালন করবেন না পেলে। তবে এদিন উপলক্ষে এবার গান রিলিজ করেছেন পেলে। জুটি বেঁধেছেন গ্র্যামিজয়ী মেক্সিকান দ্বৈত গিটারিস্ট রদ্রিগো ওয়াই গ্যাব্রিয়েলার (রদ্রিগো ও গ্যাব্রিয়েলা) সঙ্গে।

গানটির শিরোনাম ‘আর্কেদিতা নো ভেইয়ো’ (বাংলায়– বুড়োর কথা শুনো)। ২০০৫ সালে ব্রাজিলিয়ান জ্যাজ মিউজিশিয়ান ও নির্দেশক রুসিয়া দুপ্রাতের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছিলেন পেলে। গানে কণ্ঠও দিয়েছেন পেলে।

নিজের জন্মদিন ও গান উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তাও পাঠিয়েছেন।  

ব্রাজিলীয় গ্রেট বলেছেন, ‘আমাদের প্রিয় ফুটবলের জন্য সারা দুনিয়া যেভাবে আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে, আশা করি, আমার মৃত্যুর পর ঈশ্বরও আমাকে একইভাবে গ্রহণ করবেন। প্রিয় ফুটবলের জন্য আমি সারা বিশ্ব থেকেই প্রশংসা পেয়েছি।’

গান প্রকাশের বিষয়ে পেলে বলেন, ‘আমি অনেক বই লিখেছি। অনেক গোল করেছি। সন্তানের বাবা হয়েছি। অনেক গাছ লাগিয়েছি। আমার জীবনে অপূর্ণতা বলতে ছিল শুধু সংগীত। ৮০তম জন্মদিনে সেটিও হলো।’

পেলে নিজের জীবনীতে লিখেছেন– অর্থাভাবে অনুশীলনের জন্য একটি বলও কিনতে পারতেন না। পুরনো মোজায় খবরের কাগজ মুড়িয়ে ফুটবল বানিয়ে খেলতেন। ১৫ বছর বয়সে জীবনের মোড় ঘুরে যায় পেলের।  তার প্রতিভা নজরে আসে সান্তোসের গ্রেট ওয়ালডেমার ডি ব্রিটোর।  উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সান্তোস ক্লাবে। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্রাজিল দলও পেলের ওপর ভর করে রাজত্ব করেছে ফুটবলবিশ্বে।

পেলের হাত ধরে ব্রাজিল পেয়েছে অনেক অনেক সাফল্য। তিনবার বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন দেশকে। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে এক হাজার ৩৬৬ ম্যাচ খেলে পেলে গোল করেছেন এক হাজার ২৮৩টি। আর ব্রাজিলের জার্সিতে ৯২ ম্যাচে ৭৭ গোল করেন তিনি।