ছেলের অসাধারণ বোলিং দেখে হাসপাতাল থেকে ফিরলেন বাবা
jugantor
ছেলের অসাধারণ বোলিং দেখে হাসপাতাল থেকে ফিরলেন বাবা

  স্পোর্টস ডেস্ক  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩২:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

পেসার মোহাম্মদ সিরাজের বাবা।

গত বুধবার আইপিএলে খেলতে নেমে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে একাই ধসিয়ে দিলেন ব্যাঙ্গালুরুর পেসার মোহাম্মদ সিরাজ।

সেদিন দুবাই স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৪ রানে থেমে যায় শাহরুখের কেকেআর।

যার পুরো ক্রেডিট পেসার সিরাজকে দিতে কাপর্ণ্য করবেন না কেউ।

চার ওভারের স্পেলে ২ মেডেনের সাহায্যে মাত্র ৮ রান দেন সিরাজ। নেন ৩ উইকেট। ৮ রানে ৩ উইকেট নিলেও কলকাতাকে সিরাজ ধসিয়ে দিয়েছিলেন তার প্রথম দুই ওভারেই।

দুই ওভারে ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ২৬ বছর বয়সী সিরাজ। পরের স্পেলের দুই ওভারে কোনো রান দেননি তিনি।

আইপিএল ইতিহাসে এবারই কোনো বোলার এক ম্যাচে দুটি মেডেনের কীর্তি দেখালেন।

যদিও এমন কীর্তি গড়ার দিনে মানসিকভাবে বেশ বিধ্বস্ত ছিলেন সিরাজ। বুধবার ম্যাচ শুরুর আগের দিন প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে হায়দরাবাদে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সিরাজের বাবা।

তাই খেলা শেষেই বাবার শরীরের অবস্থার খবর নিতে দুবাই থেকে বাড়িতে ফোন করেন সিরাজ।

পরিবার জানায়, হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে গেছেন সিরাজের বাবা। ছেলের এমন বোলিং পারফরম্যান্সে প্রচণ্ড খুশি হয়ে অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেছেন তিনি।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে কথা বলেছেন মোহাম্মদ সিরাজ।

ভিডিওতে সিরাজ বলেন, ‘ম্যাচের একদিন আগে বাবা হাসপাতালে ভর্তি হন। এ জন্য আমি খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম। ম্যাচ শেষে আমি বাড়িতে ফোন দিই, তখন শুনতে পাই বাবা বাড়ি চলে এসেছেন। কথাটা শুনে সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। কলকাতাকে হারানোর পর আরেকটা আনন্দের খবর শুনে আমি আরও বেশি খুশি হয়েছিলাম।’

সিরাজ বলেন, ‘বাবার সঙ্গেও ফোনে কথা হয়। ওপাশ থেকে আর আনন্দে ভরপুর কণ্ঠ ভেসে আসে। মনেই হচ্ছিল না একদিন আগে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। তিনি আমাকে বলছিলেন, বৃহস্পতিবার সারাদিন অনেক মানুষ তাকে ফোন করেছে। শুভেচ্ছা জানিয়েছে। পরিচিতরা বলেছেন, তোমার ছেলে তো আইপিএলে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। হায়দরাবাদের সব পত্রিকায় তোমার ছবিও এসেছে।’

আপ্লুত কণ্ঠে সিরাজ বলেন, ফোনে এসব বলার সময় বাবা কাঁদছিলেন। আমি আর নিজেকে তখন ধরে রাখতে পারিনি। ফোনটি কেটে দিই। কারণ বাবার কান্না আমার সহ্য হচ্ছিল না। এখন বাবার সুস্থতা কামনা করাই আমার একমাত্র চাওয়া আল্লাহর কাছে।

প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের নিলামে স্থানীয় পেসার সিরাজকে ২ কোটি ৬০ লাখ ভারতীয় রুপিতে কিনে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এবার তাকে দলে ভেড়াল কোহলির ব্যাঙ্গালুরু।

তথ্যসূত্র: ক্রিক ট্র্যাকার

ছেলের অসাধারণ বোলিং দেখে হাসপাতাল থেকে ফিরলেন বাবা

 স্পোর্টস ডেস্ক 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পেসার মোহাম্মদ সিরাজের বাবা।
পেসার মোহাম্মদ সিরাজের বাবা।

গত বুধবার আইপিএলে খেলতে নেমে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে একাই ধসিয়ে দিলেন ব্যাঙ্গালুরুর পেসার মোহাম্মদ সিরাজ।

সেদিন দুবাই স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৪ রানে থেমে যায় শাহরুখের কেকেআর।

যার পুরো ক্রেডিট পেসার সিরাজকে দিতে কাপর্ণ্য করবেন না কেউ। 

চার ওভারের স্পেলে ২ মেডেনের সাহায্যে মাত্র ৮ রান দেন সিরাজ।  নেন ৩ উইকেট।  ৮ রানে ৩ উইকেট নিলেও কলকাতাকে সিরাজ ধসিয়ে দিয়েছিলেন তার প্রথম দুই ওভারেই।

দুই ওভারে ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ২৬ বছর বয়সী সিরাজ।  পরের স্পেলের দুই ওভারে কোনো রান দেননি তিনি। 

আইপিএল ইতিহাসে এবারই কোনো বোলার এক ম্যাচে দুটি মেডেনের কীর্তি দেখালেন।

যদিও এমন কীর্তি গড়ার দিনে মানসিকভাবে বেশ বিধ্বস্ত ছিলেন সিরাজ।  বুধবার ম্যাচ শুরুর আগের দিন প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে হায়দরাবাদে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সিরাজের বাবা।

তাই খেলা শেষেই বাবার শরীরের অবস্থার খবর নিতে দুবাই থেকে বাড়িতে ফোন করেন সিরাজ।

পরিবার জানায়, হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে গেছেন সিরাজের বাবা। ছেলের এমন বোলিং পারফরম্যান্সে প্রচণ্ড খুশি হয়ে অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেছেন তিনি।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে কথা বলেছেন মোহাম্মদ সিরাজ।

ভিডিওতে সিরাজ বলেন, ‘ম্যাচের একদিন আগে বাবা হাসপাতালে ভর্তি হন। এ জন্য আমি খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম। ম্যাচ শেষে আমি বাড়িতে ফোন দিই, তখন শুনতে পাই বাবা বাড়ি চলে এসেছেন। কথাটা শুনে সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। কলকাতাকে হারানোর পর আরেকটা আনন্দের খবর শুনে আমি আরও বেশি খুশি হয়েছিলাম।’ 

সিরাজ বলেন, ‘বাবার সঙ্গেও ফোনে কথা হয়। ওপাশ থেকে আর আনন্দে ভরপুর কণ্ঠ ভেসে আসে। মনেই হচ্ছিল না একদিন আগে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। তিনি আমাকে বলছিলেন, বৃহস্পতিবার সারাদিন অনেক মানুষ তাকে ফোন করেছে। শুভেচ্ছা জানিয়েছে। পরিচিতরা বলেছেন, তোমার ছেলে তো আইপিএলে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। হায়দরাবাদের সব পত্রিকায় তোমার ছবিও এসেছে।’

আপ্লুত কণ্ঠে সিরাজ বলেন, ফোনে এসব বলার সময় বাবা কাঁদছিলেন।  আমি আর নিজেকে তখন ধরে রাখতে পারিনি। ফোনটি কেটে দিই। কারণ বাবার কান্না আমার সহ্য হচ্ছিল না। এখন বাবার সুস্থতা কামনা করাই আমার একমাত্র চাওয়া আল্লাহর কাছে।

প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের নিলামে স্থানীয় পেসার সিরাজকে ২ কোটি ৬০ লাখ ভারতীয় রুপিতে কিনে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এবার তাকে দলে ভেড়াল কোহলির ব্যাঙ্গালুরু।

তথ্যসূত্র: ক্রিক ট্র্যাকার
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : আইপিএল-২০২০