আমার কোনো হতাশা নেই: আশরাফুল
jugantor
আমার কোনো হতাশা নেই: আশরাফুল

  আল-মামুন  

৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৪৬:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

একটা সময়ে জাতীয় দলের অটোমেটিক চয়েজ ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যান বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া ৩৬ বছর বয়সী এ তারকা ক্রিকেটার এখনও মুখিয়ে আছেন জাতীয় দলে খেলার জন্য। বছরের শেষ মুহূর্তে যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আশরাফুল। তার সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

যুগান্তর: কেমন আছেন?

মোহাম্মদ আশরাফুল: আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ এখনও ভালো রেখেছেন। পরিবার-আত্মীয় স্বজন সবাই ভালো আছে।

যুগান্তর: বছরটা কেমন কাটল?

মোহাম্মদ আশরাফুল: বছরটাতো করোনায়ই শেষ হয়ে গেল। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, একটা ছেলে সন্তান আমাকে দিয়েছেন।

যুগান্তর: এবছর যে আশা করেছিলেন সেটা পূরণ হয়েছে কি?

মোহাম্মদ আশরাফুল: যেভাবে বছরটা শুরু করেছিলাম, প্রত্যাশা ছিল সেটাধারাবাহিক অব্যাহত রাখার। নিয়মিত পারফর্ম করে যাওয়া। কিন্তু সেই আশা পুরণ হইল কই! করোনায় বছর শেষ।

যুগান্তর: বছরের শুরুতে বিসিএলে টানা দুই ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন..।

মোহাম্মদ আশরাফুল: বছরের শুরুটা আসলে ভালো হয়েছিল। খেলাটা কন্টিনিউ হলে ভালো হতো। আসলে খেলায় থাকলে ভালো লাগে।

যুগান্তর: নতুন বছরে আপনার কি লক্ষ্য?

মোহাম্মদ আশরাফুল: পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার খেলা শুরু হবে। তখন চেষ্টা করব নিজের সর্বোচ্চ উজার করে দিয়ে খেলার।

যুগান্তর: কিছুদিন আগে বলেছিলেন একদিনের জন্য হলেও জাতীয় দলে ফিরতে চান....।

মোহাম্মদ আশরাফুল: খেলতে তো চাই। দেখা যাক, কি হয়! পরিকল্পনা আছে। জাতীয় দলে ঢুকতে পারলে খুশি হব। ভালোভাবে ঢুকতে চাই। ভালো খেলেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। তার আগে সবকিছু নরমাল হোক। ভ্যাকসিন এখনও আসেনি। ভ্যাকসিন আসলে খেলা মাঠে গড়ালে ভালো হবে।

যুগান্তর: আর কতদিন ক্রিকেট খেলতে চান?

মোহাম্মদ আশরাফুল: আরো তিন থেকে চার বছর খেলতে চাই। ফিটনেস আলহামদুলিল্লাহ ঠিক আছে। খেলাটা কন্টিনিউ করতে চাই।

যুগান্তর: ক্রিকেট থেকে অবসরের পর কি করার পরিকল্পনা আছে?

মোহাম্মদ আশরাফুল: এখনও সেই চিন্তা করেনি। তবে ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চাই।

যুগান্তর: যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে জাতীয় দল বা বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করা বা অন্যকোনোপ্রস্তাব আসে, গ্রহণ করবেন?

মোহাম্মদ আশরাফুল: এখনও এসব চিন্তা করিনি। বয়স যেহেতু আছে, এখনও খেলতে চাই। ওইসব জায়গায় যাওয়ার এখনও অনেক সময় আছে। খেলার মজাই আলাদা।খেলতেই ভালো লাগে। খেলা একবার ছেড়ে দিলে তো আর ফিরতে পারব না। কাজেই খেলা চালিয়ে যেতে চাই।

যুগান্তর:আপনার মেয়ে তো বড় হয়ে যাচ্ছে, তাকে নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

মোহাম্মদ আশরাফুল: ছেলের বয়স মাত্র ছয় মাস। মেয়েটার চার বছর চলছে। প্রথম কথা হলো ভালো মানুষ বানাতে চাই। মেয়েটা এখন দৌড়াদৌড়ি করতে পছন্দ করে। করোনার কারণে কোথায়ও ঘুরতে নিয়ে যেতে পারছি না।

তবে ওরা যদি খেলতে চায় তাহলে সুযোগ করে দেব। খেলার জন্য জোর করব না। আমার বড় ভাই মোশতাক আহমেদের ছেলে তানজিল আহমেদ গোড়ান ক্রিকেট একাডেমিতে খেলছে। ও আফতাবনগরে প্রাকটিস করে। ওকে এখন হেল্প করছি। দেখা যাক, আমার ছেলেমেয়েরাও যদি খেলাধুলা পছন্দ করে তাহলে হেল্প করব।

যুগান্তর: আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কোনো আক্ষেপ আছে?

মোহাম্মদ আশরাফুল: ক্যারিয়ার নিয়ে আমার কোনো হতাশা নেই। যা পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ, তাতেই আমি সন্তুষ্ট।

যুগান্তর: নতুন বছরের শুভ কামনা।

মোহাম্মদ আশরাফুল: শুভ কামনা।

আমার কোনো হতাশা নেই: আশরাফুল

 আল-মামুন 
৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৪৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

একটা সময়ে জাতীয় দলের অটোমেটিক চয়েজ ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যান বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া ৩৬ বছর বয়সী এ তারকা ক্রিকেটার এখনও মুখিয়ে আছেন জাতীয় দলে খেলার জন্য। বছরের শেষ মুহূর্তে যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আশরাফুল। তার সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

যুগান্তর: কেমন আছেন?

মোহাম্মদ আশরাফুল: আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ এখনও ভালো রেখেছেন। পরিবার-আত্মীয় স্বজন সবাই ভালো আছে।

যুগান্তর: বছরটা কেমন কাটল?

মোহাম্মদ আশরাফুল: বছরটাতো করোনায়ই শেষ হয়ে গেল। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, একটা ছেলে সন্তান আমাকে দিয়েছেন।

যুগান্তর: এবছর যে আশা করেছিলেন সেটা পূরণ হয়েছে কি?

মোহাম্মদ আশরাফুল: যেভাবে বছরটা শুরু করেছিলাম, প্রত্যাশা ছিল সেটা ধারাবাহিক অব্যাহত রাখার। নিয়মিত পারফর্ম করে যাওয়া। কিন্তু সেই আশা পুরণ হইল কই! করোনায় বছর শেষ।

যুগান্তর: বছরের শুরুতে বিসিএলে টানা দুই ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন..।

মোহাম্মদ আশরাফুল: বছরের শুরুটা আসলে ভালো হয়েছিল। খেলাটা কন্টিনিউ হলে ভালো হতো। আসলে খেলায় থাকলে ভালো লাগে।

যুগান্তর: নতুন বছরে আপনার কি লক্ষ্য?

মোহাম্মদ আশরাফুল: পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার খেলা শুরু হবে। তখন চেষ্টা করব নিজের সর্বোচ্চ উজার করে দিয়ে খেলার। 

যুগান্তর: কিছুদিন আগে বলেছিলেন একদিনের জন্য হলেও জাতীয় দলে ফিরতে চান....।

মোহাম্মদ আশরাফুল: খেলতে তো চাই। দেখা যাক, কি হয়! পরিকল্পনা আছে। জাতীয় দলে ঢুকতে পারলে খুশি হব। ভালোভাবে ঢুকতে চাই। ভালো খেলেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। তার আগে সবকিছু নরমাল হোক। ভ্যাকসিন এখনও আসেনি। ভ্যাকসিন আসলে খেলা মাঠে গড়ালে ভালো হবে।

যুগান্তর: আর কতদিন ক্রিকেট খেলতে চান?

মোহাম্মদ আশরাফুল: আরো তিন থেকে চার বছর খেলতে চাই। ফিটনেস আলহামদুলিল্লাহ ঠিক আছে। খেলাটা কন্টিনিউ করতে চাই।

যুগান্তর: ক্রিকেট থেকে অবসরের পর কি করার পরিকল্পনা আছে?

মোহাম্মদ আশরাফুল: এখনও সেই চিন্তা করেনি। তবে ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চাই। 

যুগান্তর: যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে জাতীয় দল বা বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করা বা অন্যকোনো প্রস্তাব আসে, গ্রহণ করবেন?

মোহাম্মদ আশরাফুল: এখনও এসব চিন্তা করিনি। বয়স যেহেতু আছে, এখনও খেলতে চাই। ওইসব জায়গায় যাওয়ার এখনও অনেক সময় আছে। খেলার মজাই আলাদা।খেলতেই ভালো লাগে। খেলা একবার ছেড়ে দিলে তো আর ফিরতে পারব না। কাজেই খেলা চালিয়ে যেতে চাই।

যুগান্তর:আপনার মেয়ে তো বড় হয়ে যাচ্ছে, তাকে নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

মোহাম্মদ আশরাফুল: ছেলের বয়স মাত্র ছয় মাস। মেয়েটার চার বছর চলছে। প্রথম কথা হলো ভালো মানুষ বানাতে চাই। মেয়েটা এখন দৌড়াদৌড়ি করতে পছন্দ করে। করোনার কারণে কোথায়ও ঘুরতে নিয়ে যেতে পারছি না।

তবে ওরা যদি খেলতে চায় তাহলে সুযোগ করে দেব। খেলার জন্য জোর করব না। আমার বড় ভাই মোশতাক আহমেদের ছেলে তানজিল আহমেদ গোড়ান ক্রিকেট একাডেমিতে খেলছে। ও আফতাবনগরে প্রাকটিস করে। ওকে এখন হেল্প করছি। দেখা যাক, আমার ছেলেমেয়েরাও যদি খেলাধুলা পছন্দ করে তাহলে হেল্প করব।

যুগান্তর: আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কোনো আক্ষেপ আছে?

মোহাম্মদ আশরাফুল: ক্যারিয়ার নিয়ে আমার কোনো হতাশা নেই। যা পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ, তাতেই আমি সন্তুষ্ট। 

যুগান্তর: নতুন বছরের শুভ কামনা। 

মোহাম্মদ আশরাফুল: শুভ কামনা।